টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মাটি খুঁড়ে বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার হওয়া মা ও নবজাতকের মরদেহের পরিচয় ছয় দিন পেরিয়ে গেলেও নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। গত সোমবার (২০ এপ্রিল) রাতে উপজেলার জামুর্কী ইউনিয়নের গুনটিয়া গ্রামে লৌহজং নদীর পাড় থেকে এই মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়।
পরিচয় না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাদের বেওয়ারিশ হিসেবে মির্জাপুর কেন্দ্রীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। তবে এই মর্মান্তিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত কয়েক দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা মুখরোচক ও বীভৎস ‘ডালপালা’ ছড়ানো হচ্ছে, যা নিয়ে বিব্রত প্রশাসন।
ফেসবুকের অপপ্রচার ও পুলিশের ভাষ্য
সম্প্রতি বিভিন্ন ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি, পেজ ও গ্রুপ থেকে দাবি করা হচ্ছে যে, ওই নারীকে ধর্ষণের পর গর্ভবতী অবস্থায় হত্যা করে পুঁতে রাখা হয়েছিল। কিছু পোস্টে আরও দাবি করা হয়, ধর্ষণের ফলে গর্ভপাত ঘটলে নবজাতকসহ মাকে খুন করা হয়। তবে মির্জাপুর থানা পুলিশ এসব তথ্যকে ‘ভিত্তিহীন ও মনগড়া অপপ্রচার’ বলে আখ্যা দিয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, একটি স্পর্শকাতর বিষয় নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বীভৎস প্রচারণা চালানো হচ্ছে যা পুলিশের নজরে এসেছে। তিনি জনগণকে এ ধরনের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তদন্তের অগ্রগতি ও বর্তমান অবস্থা
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। নিহত নারীর পরিচয় শনাক্ত করতে দেশের প্রতিটি থানায় বিশেষ বার্তা পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক জাবেদ পারভেজ জানান, উদ্ধার হওয়া নারী প্রায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। মৃত্যুর চরম যন্ত্রণার মুহূর্তে হয়তো নবজাতকটি প্রসব হয়েছিল। তবে এটি হত্যা না অন্য কিছু, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘ধর্ষণ’ সংক্রান্ত তথ্যেরও এখন পর্যন্ত কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি পাওয়া যায়নি।
পটভূমি
গত সোমবার সন্ধ্যায় গুনটিয়া এলাকায় স্থানীয়রা তীব্র দুর্গন্ধ পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ এসে মাটি খুঁড়ে বস্তাবন্দি অবস্থায় মরদেহ দুটি উদ্ধার করে। বর্তমানে মির্জাপুর থানায় এ বিষয়ে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ আশা করছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলে এবং পরিচয় শনাক্ত হলে এই রহস্যের জট দ্রুতই খুলে যাবে।
















