ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নতুন যাত্রার আগে প্রিয়তমার স্মৃতিতে সিক্ত হলেন রিয়াদ

বিয়ের সাজে প্রথম স্ত্রীর কবরে অঝোর কান্না বরের

সংগৃহীত ছবি

 

ভালোবাসার কোনো মৃত্যু নেই—মর্মস্পর্শী এই সত্যের সাক্ষী হলো কুমিল্লার সদর উপজেলা। দ্বিতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসার উদ্দেশ্যে বর সেজে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন রিয়াদ নামের এক ব্যক্তি। কিন্তু বিয়ের আসরে পৌঁছানোর আগে তিনি যা করলেন, তা দেখে উপস্থিত সবার চোখ ভিজে উঠেছে।

 

গন্তব্যে যাওয়ার পথে গাড়ি থামিয়ে একমাত্র কন্যাসন্তানকে সাথে নিয়ে প্রথম স্ত্রীর কবরে গিয়ে অঝোরে কাঁদলেন এই নববর। বিরল এই ভালোবাসার মুহূর্তটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নেটিজেনদের হৃদয়ে দাগ কেটেছে।

 

 

শনিবার (১৮ এপ্রিল) কুমিল্লার বালুতুপা এলাকায় এই আবেগঘন ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রিয়াদের প্রথম স্ত্রী ২০১৭ সালে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন তার সাথে। দীর্ঘ ছয় বছরের সুখের সংসারে তাদের ঘর আলো করে আসে একটি কন্যাসন্তান। কিন্তু ২০২৩ সালে মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে যান তার স্ত্রী। দীর্ঘ সময় একা থাকার পর এবং একমাত্র মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে পারিবারিক সিদ্ধান্তে দ্বিতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে রাজি হন রিয়াদ।

 

 

বিয়ের দিন বর সেজে গাড়িতে ওঠার পর রিয়াদ মাঝপথে বালুতুপা এলাকার একটি কবরস্থানের সামনে গাড়ি থামানোর অনুরোধ করেন। শেরওয়ানি ও পাগড়ি পরা অবস্থায় গাড়ি থেকে নেমে তিনি সরাসরি চলে যান তার প্রথম স্ত্রীর কবরের পাশে। সেখানে প্রিয়তমার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে হাত তুলে দোয়া করার সময় নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি তিনি। প্রিয়তমা স্ত্রীর স্মৃতি মনে করে অঝোরে কাঁদতে শুরু করেন। কবরের পাশে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকার পর কান্নায় ভেঙে পড়লে উপস্থিত স্বজনরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এমনকি গাড়িতে ফিরে যাওয়ার পরও দীর্ঘক্ষণ তাকে কাঁদতে দেখা যায়।

 

 

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, “রিয়াদের চোখে আজ কোনো আনন্দ ছিল না, ছিল শুধু প্রিয়জনকে হারানোর বেদনা। নতুন জীবনের দিকে পা বাড়ালেও তার মনটা যেন ওই কবরেই পড়ে ছিল। আজকাল মানুষ বেঁচে থাকতেই স্ত্রীকে মর্যাদা দেয় না, আর রিয়াদ মৃত স্ত্রীর প্রতি যে সম্মান ও ভালোবাসা দেখালেন, তা সত্যিই বিরল।”

 

 

স্বয়ং রিয়াদ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “২০১৭ সালের ১৮ জুলাই আমাদের সংসার শুরু হয়েছিল। স্ত্রী ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয় ও প্রশান্তি। তার অভাব পূরণ হওয়ার নয়। নতুন জীবনে পা রাখার আগে তার কাছে দোয়া নিতেই এখানে আসা।” তিনি সবার কাছে তার প্রয়াত স্ত্রীর জন্য দোয়া কামনা করেছেন। বাস্তবতার প্রয়োজনে নতুন ঘর বাঁধলেও হৃদয়ের মণিকোঠায় প্রথম স্ত্রীর স্থান যে অমলিন, রিয়াদের এই কান্না যেন সেই নীরব ঘোষণা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

নতুন যাত্রার আগে প্রিয়তমার স্মৃতিতে সিক্ত হলেন রিয়াদ

বিয়ের সাজে প্রথম স্ত্রীর কবরে অঝোর কান্না বরের

Update Time : ০৮:৫৬:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

ভালোবাসার কোনো মৃত্যু নেই—মর্মস্পর্শী এই সত্যের সাক্ষী হলো কুমিল্লার সদর উপজেলা। দ্বিতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসার উদ্দেশ্যে বর সেজে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন রিয়াদ নামের এক ব্যক্তি। কিন্তু বিয়ের আসরে পৌঁছানোর আগে তিনি যা করলেন, তা দেখে উপস্থিত সবার চোখ ভিজে উঠেছে।

 

গন্তব্যে যাওয়ার পথে গাড়ি থামিয়ে একমাত্র কন্যাসন্তানকে সাথে নিয়ে প্রথম স্ত্রীর কবরে গিয়ে অঝোরে কাঁদলেন এই নববর। বিরল এই ভালোবাসার মুহূর্তটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তা নেটিজেনদের হৃদয়ে দাগ কেটেছে।

 

 

শনিবার (১৮ এপ্রিল) কুমিল্লার বালুতুপা এলাকায় এই আবেগঘন ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রিয়াদের প্রথম স্ত্রী ২০১৭ সালে বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন তার সাথে। দীর্ঘ ছয় বছরের সুখের সংসারে তাদের ঘর আলো করে আসে একটি কন্যাসন্তান। কিন্তু ২০২৩ সালে মরণব্যাধি ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে পৃথিবী ছেড়ে চলে যান তার স্ত্রী। দীর্ঘ সময় একা থাকার পর এবং একমাত্র মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে পারিবারিক সিদ্ধান্তে দ্বিতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে রাজি হন রিয়াদ।

 

 

বিয়ের দিন বর সেজে গাড়িতে ওঠার পর রিয়াদ মাঝপথে বালুতুপা এলাকার একটি কবরস্থানের সামনে গাড়ি থামানোর অনুরোধ করেন। শেরওয়ানি ও পাগড়ি পরা অবস্থায় গাড়ি থেকে নেমে তিনি সরাসরি চলে যান তার প্রথম স্ত্রীর কবরের পাশে। সেখানে প্রিয়তমার কবরের সামনে দাঁড়িয়ে হাত তুলে দোয়া করার সময় নিজেকে ধরে রাখতে পারেননি তিনি। প্রিয়তমা স্ত্রীর স্মৃতি মনে করে অঝোরে কাঁদতে শুরু করেন। কবরের পাশে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকার পর কান্নায় ভেঙে পড়লে উপস্থিত স্বজনরা তাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এমনকি গাড়িতে ফিরে যাওয়ার পরও দীর্ঘক্ষণ তাকে কাঁদতে দেখা যায়।

 

 

এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম বলেন, “রিয়াদের চোখে আজ কোনো আনন্দ ছিল না, ছিল শুধু প্রিয়জনকে হারানোর বেদনা। নতুন জীবনের দিকে পা বাড়ালেও তার মনটা যেন ওই কবরেই পড়ে ছিল। আজকাল মানুষ বেঁচে থাকতেই স্ত্রীকে মর্যাদা দেয় না, আর রিয়াদ মৃত স্ত্রীর প্রতি যে সম্মান ও ভালোবাসা দেখালেন, তা সত্যিই বিরল।”

 

 

স্বয়ং রিয়াদ তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “২০১৭ সালের ১৮ জুলাই আমাদের সংসার শুরু হয়েছিল। স্ত্রী ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় আশ্রয় ও প্রশান্তি। তার অভাব পূরণ হওয়ার নয়। নতুন জীবনে পা রাখার আগে তার কাছে দোয়া নিতেই এখানে আসা।” তিনি সবার কাছে তার প্রয়াত স্ত্রীর জন্য দোয়া কামনা করেছেন। বাস্তবতার প্রয়োজনে নতুন ঘর বাঁধলেও হৃদয়ের মণিকোঠায় প্রথম স্ত্রীর স্থান যে অমলিন, রিয়াদের এই কান্না যেন সেই নীরব ঘোষণা।