ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
স্ত্রীর সাথে ঝগড়ার জেরে নিজের রাইফেল দিয়ে আত্মহনন

রাতে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া: ভোরে মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন সম্রাট

সংগৃহীত ছবি

 

পারিবারিক কলহ এবং দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েনের করুণ সমাপ্তি ঘটল এক পুলিশ সদস্যের আত্মহননের মধ্য দিয়ে। খুলনায় কর্মরত সম্রাট বিশ্বাস (২৬) নামে এক পুলিশ কনস্টেবল নিজের ইস্যুকৃত রাইফেল দিয়ে নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন।

 

শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোরে খুলনা রেলওয়ে জেলা কার্যালয়ের অস্ত্রাগারে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত সম্রাট গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার চরপদ্মবিলা গ্রামের শৈলেন বিশ্বাসের একমাত্র পুত্র।

 

 

ঘটনার বিবরণ ও প্রেক্ষাপট

 

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সম্রাট বিশ্বাস ২০১৮ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি খুলনা রেলওয়ে পুলিশে কর্মরত ছিলেন। শনিবার ভোর সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে যখন তিনি রেলওয়ে জেলা কার্যালয়ের ম্যাগাজিন গার্ড বা অস্ত্রাগারের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন, ঠিক তখনই নিজের চাইনিজ রাইফেল দিয়ে মাথায় গুলি চালান। গুলির শব্দ শুনে সহকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন, তবে ততক্ষণে সব শেষ হয়ে গিয়েছিল।

 

 

নেপথ্যে দাম্পত্য কলহ

 

সম্রাটের এই চরম পথ বেছে নেওয়ার পেছনে দাম্পত্য কলহকে দায়ী করছে তার পরিবার। জানা গেছে, সাতক্ষীরা জেলা পুলিশে কর্মরত নারী কনস্টেবল পূজা দাশের সঙ্গে সম্রাটের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মাত্র ছয় মাস আগে দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের রেজিস্ট্রি বিয়ে সম্পন্ন হয়। আগামী মাসে ঘটা করে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শুরু হয় মানসিক দূরত্ব ও ঝগড়া।

 

 

সম্রাটের মামা সত্যজিৎ রায় অভিযোগ করে বলেন, “বিয়ের পর থেকেই সম্রাট মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল। তার উপার্জিত সব টাকা স্ত্রী নিয়ে নিতেন, এমনকি পরিবারের জন্যও সে কিছু করতে পারত না। সহকর্মীদের কাছে শুনেছি, গত রাতেও ফোনে স্ত্রীর সঙ্গে তার প্রচণ্ড ঝগড়া হয়েছিল। সেই অভিমান থেকেই হয়তো সে এই কাজ করেছে।” সম্রাটের দুলাভাই বিপ্লব কুমার সেনও একই দাবি করে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

 

 

শোকের ছায়া ও আইনি প্রক্রিয়া

 

শনিবার বিকেলে খুলনা থেকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে সম্রাটের মরদেহ তার নিজ গ্রাম চরপদ্মবিলায় পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে মা-বাবা ও দুই বোন বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। প্রতিবেশীদের আহাজারিতে পুরো এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।

 

 

খুলনা রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার আহমেদ মাঈনুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে একে আত্মহত্যা বলেই মনে করা হচ্ছে। কর্তব্যরত অবস্থায় এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

স্ত্রীর সাথে ঝগড়ার জেরে নিজের রাইফেল দিয়ে আত্মহনন

রাতে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া: ভোরে মাথায় গুলি চালিয়ে আত্মহত্যা করেন সম্রাট

Update Time : ০৯:৫২:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

পারিবারিক কলহ এবং দাম্পত্য জীবনের টানাপোড়েনের করুণ সমাপ্তি ঘটল এক পুলিশ সদস্যের আত্মহননের মধ্য দিয়ে। খুলনায় কর্মরত সম্রাট বিশ্বাস (২৬) নামে এক পুলিশ কনস্টেবল নিজের ইস্যুকৃত রাইফেল দিয়ে নিজের মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন।

 

শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোরে খুলনা রেলওয়ে জেলা কার্যালয়ের অস্ত্রাগারে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত সম্রাট গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার চরপদ্মবিলা গ্রামের শৈলেন বিশ্বাসের একমাত্র পুত্র।

 

 

ঘটনার বিবরণ ও প্রেক্ষাপট

 

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সম্রাট বিশ্বাস ২০১৮ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি খুলনা রেলওয়ে পুলিশে কর্মরত ছিলেন। শনিবার ভোর সাড়ে ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে যখন তিনি রেলওয়ে জেলা কার্যালয়ের ম্যাগাজিন গার্ড বা অস্ত্রাগারের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিলেন, ঠিক তখনই নিজের চাইনিজ রাইফেল দিয়ে মাথায় গুলি চালান। গুলির শব্দ শুনে সহকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন, তবে ততক্ষণে সব শেষ হয়ে গিয়েছিল।

 

 

নেপথ্যে দাম্পত্য কলহ

 

সম্রাটের এই চরম পথ বেছে নেওয়ার পেছনে দাম্পত্য কলহকে দায়ী করছে তার পরিবার। জানা গেছে, সাতক্ষীরা জেলা পুলিশে কর্মরত নারী কনস্টেবল পূজা দাশের সঙ্গে সম্রাটের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। মাত্র ছয় মাস আগে দুই পরিবারের সম্মতিতে তাদের রেজিস্ট্রি বিয়ে সম্পন্ন হয়। আগামী মাসে ঘটা করে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিয়ের পর থেকেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে শুরু হয় মানসিক দূরত্ব ও ঝগড়া।

 

 

সম্রাটের মামা সত্যজিৎ রায় অভিযোগ করে বলেন, “বিয়ের পর থেকেই সম্রাট মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল। তার উপার্জিত সব টাকা স্ত্রী নিয়ে নিতেন, এমনকি পরিবারের জন্যও সে কিছু করতে পারত না। সহকর্মীদের কাছে শুনেছি, গত রাতেও ফোনে স্ত্রীর সঙ্গে তার প্রচণ্ড ঝগড়া হয়েছিল। সেই অভিমান থেকেই হয়তো সে এই কাজ করেছে।” সম্রাটের দুলাভাই বিপ্লব কুমার সেনও একই দাবি করে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

 

 

শোকের ছায়া ও আইনি প্রক্রিয়া

 

শনিবার বিকেলে খুলনা থেকে আইনি প্রক্রিয়া শেষে সম্রাটের মরদেহ তার নিজ গ্রাম চরপদ্মবিলায় পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে মা-বাবা ও দুই বোন বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন। প্রতিবেশীদের আহাজারিতে পুরো এলাকার আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে ওঠে।

 

 

খুলনা রেলওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার আহমেদ মাঈনুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে একে আত্মহত্যা বলেই মনে করা হচ্ছে। কর্তব্যরত অবস্থায় এমন ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। তবে এর পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।