ছবি : সংগৃহীত
ইরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান বহুমুখী যুদ্ধের প্রচণ্ড চাপে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ‘ভেতর থেকে ভেঙে পড়ার’ বা ‘পতনের’ গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) অনুষ্ঠিত ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এই বিস্ফোরক ও চরম উদ্বেগজনক সতর্কতা জারি করেছেন খোদ ইসরায়েলি সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল আইয়াল জামির। দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ‘ইয়েদিউথ আহরোনথ’ ও ‘জেরুজালেম পোস্ট’ এই চাঞ্চল্যকর তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
নিরাপত্তা মন্ত্রিসভার বৈঠকে সেনাপ্রধান জামির অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বর্তমান পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বর্তমানে এক গভীর অভ্যন্তরীণ সংকটের মুখোমুখি, যার প্রধান কারণ হলো সৈন্যদলের তীব্র অভাব। গত কয়েক মাস ধরে গাজা উপত্যকা, লেবানন সীমান্ত, সিরিয়া এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরের মতো সক্রিয় ফ্রন্টগুলোতে একসঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে সেনারা চরম ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছে। জামির সতর্ক করে বলেন, রিজার্ভ বা অতিরিক্ত বাহিনী আর বেশি দিন এই অমানবিক চাপ ‘সহ্য করতে পারবে না’।
বৈঠকে আইডিএফ প্রধান সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, সেনাবাহিনী ধসে পড়ার আগে তিনি ইতিমধ্যে ‘১০টি বিষয়ে লাল পতাকা’ বা বিপদ সংকেত জারি করেছেন। বিশেষ করে অতি গোঁড়া (হারেডি) ইহুদিদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দিতে ব্যর্থ হওয়া, রিজার্ভ আইন সংশোধন না করা এবং বাধ্যতামূলক সেবার মেয়াদ বৃদ্ধি সংক্রান্ত কাঠামোগত সমস্যা সমাধানে সরকারের উদাসীনতা পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে গেছে। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার ও সৈন্য সংখ্যা বৃদ্ধি না করলে সেনাবাহিনী খুব শীঘ্রই এমনকি স্বাভাবিক পরিস্থিতিতেও নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে অক্ষম হয়ে পড়বে।
বর্তমানে পশ্চিম তীরে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা সামাল দিতে সেখানে অতিরিক্ত ইউনিট মোতায়েন করতে হয়েছে, যা ইতিমধ্যে চাপে থাকা নিয়মিত বাহিনীর ওপর মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছে। সেনাপ্রধান জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান এই চাপ অব্যাহত থাকলে ইসরায়েলের সার্বিক সামরিক প্রস্তুতিতে বড় ধরনের ধস নামতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। আইডিএফ প্রধানের এই কড়া মূল্যায়ন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, কারণ কট্টরপন্থী ধর্মীয় শরিকদের বিরোধিতার কারণে হারেডি ইহুদিদের নিয়োগ সংক্রান্ত আইনটি এখনো ঝুলে রয়েছে।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 























