ইয়েমেনের সশস্ত্র হুতি গোষ্ঠী। ফাইল ছবি : রয়টার্স
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় নতুন এক বিপজ্জনক মাত্রা যোগ হয়েছে। ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বিদ্যমান সংঘাতে এবার আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। শনিবার (২৮ মার্চ) ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে শক্তিশালী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে গোষ্ঠীটি তাদের রণকৌশল স্পষ্ট করেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে শনাক্ত ও ভূপাতিত করেছে। তবে এই হামলার পর ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হুতি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, তারা ইসরায়েলের ‘স্পর্শকাতর সামরিক স্থাপনা’ লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। গোষ্ঠীটি সরাসরি জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের প্রতিবাদে এবং নিজেদের মিত্রদের রক্ষার্থেই তারা এই যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিচ্ছে।
এর আগে গত শুক্রবার হুতিরা এক চরম হুঁশিয়ারিতে জানিয়েছিল, ইরানের বিরুদ্ধে যদি অন্য কোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জোটে যোগ দেয় কিংবা লোহিত সাগরকে হামলার ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তবে তারা কঠোর সামরিক হস্তক্ষেপ করবে। সেই হুঁশিয়ারির ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে সরাসরি যুদ্ধে অবতীর্ণ হলো হুতিরা।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, হুতিদের এই পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে গেল। হুতিরা কেবল ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ শক্তিই নয়, বরং তারা দীর্ঘপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সক্ষম। এছাড়া লোহিত সাগরের কৌশলগত নৌপথ তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় বিশ্ববাণিজ্য ও তেল পরিবহনেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। লেবাননের হিজবুল্লাহ ও ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর পর হুতিদের এই যোগদান সংঘাতের মানচিত্রকে আরও বিস্তৃত করল।
২০২৬ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি এই যুদ্ধ শুরু হলেও এতদিন হুতিরা পর্দার আড়ালে থেকে কেবল সংহতি প্রকাশ করে আসছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে হুতি নেতৃত্ব জানিয়েছে, তারা লোহিত সাগরকে কোনোভাবেই ইরান বা অন্য কোনো মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে সামরিক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করতে দেবে না। হুতিদের এই অনড় অবস্থান লোহিত সাগর অঞ্চলে মোতায়েন করা পশ্চিমা যুদ্ধজাহাজগুলোর জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


























