ছবি : সংগৃহীত
পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৭টি সামরিক ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি করেছে ইরান। শুক্রবার (২৭ মার্চ) দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবোলফজল শেখারচি তেহরানের আধা–সরকারি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজকে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, এসব ঘাঁটি রক্ষা করতে মার্কিন বাহিনী সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে এবং ইরানের সামরিক শক্তির সামনে তারা কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেনি।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শেখারচি তাঁর বক্তব্যে ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক কৌশলের আমূল পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ২০২৫ সালের ১৩ জুন শুরু হওয়া ১২ দিনের ইসরায়েল–ইরান সংঘাতের পর ইরান তাদের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষামূলক নীতি থেকে সরে এসে আরও আক্রমণাত্মক (Offensive) কৌশল গ্রহণ করেছে। তাঁর মতে, গত ৪৭ বছরে ইরান আগ বাড়িয়ে কোনো দেশকে আক্রমণ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। তবে ইরানের ভূখণ্ড বা স্বার্থে আঘাত করা হলে তারা এমন পাল্টা আঘাত হানবে যা শত্রুকে সমূলে বিনাশ করবে।
হরমুজ প্রণালী নিয়ে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়ে শেখারচি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি আর আগের মতো থাকবে না। যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলেও হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে ইরান নির্ধারিত কঠোর শর্তগুলো মেনে চলতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে জানান, যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানের সার্বভৌমত্বের ওপর শত্রুর হুমকি বিদ্যমান থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তেহরান তাদের এই কঠোর প্রতিরক্ষা কৌশল অব্যাহত রাখবে। এ সময় তিনি মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘকাল ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির তীব্র সমালোচনা করে একে অঞ্চলের অস্থিতিশীলতার মূল কারণ হিসেবে অভিহিত করেন।
আঞ্চলিক মুসলিম দেশগুলোর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে এই ইরানি জেনারেল বলেন, তারা যেন নিজেদের মাটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে কোনোভাবেই আশ্রয় না দেয়। বিদেশি শক্তির উপস্থিতি মুসলিম উম্মাহর নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেন, ইরান তার সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি অব্যাহত রাখবে এবং সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোনো প্রকার আপস করবে না। তেহরানের এই কঠোর অবস্থান ও ১৭টি ঘাঁটি ধ্বংসের দাবি ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না পাওয়া গেলেও, এই ঘটনা পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউসের জন্য বড় ধরণের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 























