ঢাকা , মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ওয়াশিংটনের ১৫ দফা প্রস্তাব এখন তেহরানের টেবিলে

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতা করছে পাকিস্তান

সংগৃহীত ছবি

 

 

দীর্ঘদিন ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসানে এক নাটকীয় কূটনৈতিক মোড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও, যুদ্ধ এড়ানোর লক্ষ্যে এখন দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে।

 

 

আর এই স্পর্শকাতর প্রক্রিয়ায় প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে দক্ষিণ এশিয়ার পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

 

ইসহাক দার জানান, বৈশ্বিক শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে ইসলামাবাদ এই দায়িত্ব পালন করছে। চলমান এই ‘শান্তি আলোচনা’ নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলা জল্পনা-কল্পনাকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে বর্ণনা করে তিনি বলেন, “বাস্তবে পাকিস্তানের মাধ্যমেই দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদান চলছে। আমরা কেবল একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছি যাতে কোনো ভুল বোঝাবুঝি থেকে বড় কোনো সংঘাত সৃষ্টি না হয়।”

 

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও খোলসা করেছেন যে, জো বাইডেন প্রশাসনের উত্তরসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ১৫টি নির্দিষ্ট পয়েন্ট বা দফা সংবলিত একটি প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে। এই প্রস্তাবগুলো বর্তমানে ইরান অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক উদ্যোগকে ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ তুরস্ক ও মিসরসহ অন্যান্য প্রভাবশালী মুসলিম রাষ্ট্রগুলোও জোরালো সমর্থন জানাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

 

ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি যে তারা এই জটিল ভূ-রাজনৈতিক সংকটে সহায়কের ভূমিকা পালন করছে। এর আগে বুধবার (২৫ মার্চ) নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপিকে জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাটি পাকিস্তানের মাধ্যমেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রতিবেশী দেশ ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের পাশাপাশি ওয়াশিংটনের সঙ্গে সামরিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব থাকার কারণে ইসলামাবাদকে উভয় পক্ষই বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গ্রহণ করেছে।

 

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই শান্তি প্রক্রিয়ায় কেবল বেসামরিক সরকারই নয়, পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। এমনকি গত রোববার তিনি সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এই বিষয়ে টেলিফোনে কথা বলেছেন বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও ইসহাক দার নিয়মিতভাবে ইরানি সরকার এবং উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন।

 

 

তবে ইরানের অবস্থান এখনও কিছুটা রহস্যময়। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ওয়াশিংটন প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি কোনো ‘আলোচনার’ খবর অস্বীকার করেছেন। বুধবার রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “বর্তমানে আমাদের মূল নীতি হলো প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়া।

 

 

ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার কোনো ইচ্ছা আমাদের নেই।” তবে তিনি সরাসরি আলোচনা অস্বীকার করলেও এটি স্বীকার করেছেন যে, বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু বার্তা আদান-প্রদান করা হচ্ছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের কারণে ইরান এখনই আলোচনার বিষয়টি জনসমক্ষে স্বীকার করতে চাইছে না, যদিও পর্দার আড়ালে পাকিস্তান ও তুরস্কের মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি সচল রয়েছে।

 

সূত্র:  কালের কণ্ঠ

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

দুপুরের মধ্যে ঢাকায় বজ্রবৃষ্টির আভাস

ওয়াশিংটনের ১৫ দফা প্রস্তাব এখন তেহরানের টেবিলে

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতা করছে পাকিস্তান

Update Time : ০৯:৫৯:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

 

দীর্ঘদিন ধরে চলা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও সম্ভাব্য যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসানে এক নাটকীয় কূটনৈতিক মোড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সরাসরি কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও, যুদ্ধ এড়ানোর লক্ষ্যে এখন দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে।

 

 

আর এই স্পর্শকাতর প্রক্রিয়ায় প্রধান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে দক্ষিণ এশিয়ার পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র পাকিস্তান। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

 

ইসহাক দার জানান, বৈশ্বিক শান্তি বজায় রাখার স্বার্থে ইসলামাবাদ এই দায়িত্ব পালন করছে। চলমান এই ‘শান্তি আলোচনা’ নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলা জল্পনা-কল্পনাকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে বর্ণনা করে তিনি বলেন, “বাস্তবে পাকিস্তানের মাধ্যমেই দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত বার্তা আদান-প্রদান চলছে। আমরা কেবল একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করছি যাতে কোনো ভুল বোঝাবুঝি থেকে বড় কোনো সংঘাত সৃষ্টি না হয়।”

 

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও খোলসা করেছেন যে, জো বাইডেন প্রশাসনের উত্তরসূরি ডোনাল্ড ট্রাম্পের বর্তমান প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র ১৫টি নির্দিষ্ট পয়েন্ট বা দফা সংবলিত একটি প্রস্তাবনা পাঠিয়েছে। এই প্রস্তাবগুলো বর্তমানে ইরান অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। পাকিস্তানের এই কূটনৈতিক উদ্যোগকে ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ তুরস্ক ও মিসরসহ অন্যান্য প্রভাবশালী মুসলিম রাষ্ট্রগুলোও জোরালো সমর্থন জানাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

 

 

ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি যে তারা এই জটিল ভূ-রাজনৈতিক সংকটে সহায়কের ভূমিকা পালন করছে। এর আগে বুধবার (২৫ মার্চ) নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপিকে জানিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাটি পাকিস্তানের মাধ্যমেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ভৌগোলিক অবস্থান এবং প্রতিবেশী দেশ ইরানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের পাশাপাশি ওয়াশিংটনের সঙ্গে সামরিক ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব থাকার কারণে ইসলামাবাদকে উভয় পক্ষই বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গ্রহণ করেছে।

 

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই শান্তি প্রক্রিয়ায় কেবল বেসামরিক সরকারই নয়, পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্বও ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় অত্যন্ত সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। এমনকি গত রোববার তিনি সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এই বিষয়ে টেলিফোনে কথা বলেছেন বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও ইসহাক দার নিয়মিতভাবে ইরানি সরকার এবং উপসাগরীয় মিত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন।

 

 

তবে ইরানের অবস্থান এখনও কিছুটা রহস্যময়। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ওয়াশিংটন প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি কোনো ‘আলোচনার’ খবর অস্বীকার করেছেন। বুধবার রাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “বর্তমানে আমাদের মূল নীতি হলো প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়া।

 

 

ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার কোনো ইচ্ছা আমাদের নেই।” তবে তিনি সরাসরি আলোচনা অস্বীকার করলেও এটি স্বীকার করেছেন যে, বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু বার্তা আদান-প্রদান করা হচ্ছে। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপের কারণে ইরান এখনই আলোচনার বিষয়টি জনসমক্ষে স্বীকার করতে চাইছে না, যদিও পর্দার আড়ালে পাকিস্তান ও তুরস্কের মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি সচল রয়েছে।

 

সূত্র:  কালের কণ্ঠ