ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
১০ মার্কিন সেনা আহত; প্রিন্স সুলতান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

ইরানি হামলায় সৌদি আরবে ‘তছনছ’ মার্কিন ঘাঁটি

ছবি : সংগৃহীত

 

সৌদি আরবের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক ‘এডব্লিউএসিএস‘ (AWACS) নজরদারি বিমান বিধ্বস্তে হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটির ছবিগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। এই ঘটনায় অন্তত ১০ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে, যাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করলেও ছড়িয়ে পড়া ছবিতে উড়োজাহাজটির নম্বর স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।

 

হামলার নেপথ্যে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) সরাসরি দায় স্বীকার করেছে। দুই দিন আগেই এই ঘাঁটিতে হামলার হুমকি দিয়েছিল তারা। ইরানের দাবি অনুযায়ী, তারা এই বিশেষ উড়োজাহাজ ছাড়াও আরও কয়েকটি জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) বিমান ধ্বংস করেছে। শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরান জানায়, সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক ঘাঁটিতে অন্তত ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৯টি ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, হামলায় বিমানটির সামনের অংশ ও লেজ বাদে বাকি অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বর্তমানে মাত্র ১৬টি সচল ‘বোয়িং ই–৩ সেন্ট্রি’ বা এডব্লিউএসিএস নজরদারি বিমান আছে। যদি এই বিমানটি সত্যিই পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে থাকে, তবে মার্কিন বিমানবাহিনীর এই সক্ষমতা কমে ১৫টিতে নেমে আসবে। নজরদারি ও আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে এই বিমানটি মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি। ফ্লাইট ডাটা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, হামলার আগে এই ঘাঁটিতে অন্তত ছয়টি একই ধরণের বিমান মোতায়েন ছিল।

 

ইরানের প্রেস টিভি আরও দাবি করেছে যে, আইআরজিসি দীর্ঘপাল্লার ও মধ্যপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং আক্রমণ ড্রোন ব্যবহার করে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে আরও একটি মার্কিন এমকিউ–৯ ড্রোন ভূপাতিত করা এবং একটি এফ–১৬ যুদ্ধবিমানে আঘাত করার দাবিও করা হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি স্থল যুদ্ধের আশঙ্কা আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেল। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া কী হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব সম্প্রদায়।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

১০ মার্কিন সেনা আহত; প্রিন্স সুলতান ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা

ইরানি হামলায় সৌদি আরবে ‘তছনছ’ মার্কিন ঘাঁটি

Update Time : ০৭:০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

 

সৌদি আরবের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক ‘এডব্লিউএসিএস‘ (AWACS) নজরদারি বিমান বিধ্বস্তে হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিধ্বস্ত উড়োজাহাজটির ছবিগুলোর সত্যতা নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। এই ঘটনায় অন্তত ১০ জন মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে, যাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করলেও ছড়িয়ে পড়া ছবিতে উড়োজাহাজটির নম্বর স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।

 

হামলার নেপথ্যে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) সরাসরি দায় স্বীকার করেছে। দুই দিন আগেই এই ঘাঁটিতে হামলার হুমকি দিয়েছিল তারা। ইরানের দাবি অনুযায়ী, তারা এই বিশেষ উড়োজাহাজ ছাড়াও আরও কয়েকটি জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) বিমান ধ্বংস করেছে। শুক্রবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে ইরান জানায়, সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক ঘাঁটিতে অন্তত ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২৯টি ড্রোন ব্যবহার করে হামলা চালানো হয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, হামলায় বিমানটির সামনের অংশ ও লেজ বাদে বাকি অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 

বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বর্তমানে মাত্র ১৬টি সচল ‘বোয়িং ই–৩ সেন্ট্রি’ বা এডব্লিউএসিএস নজরদারি বিমান আছে। যদি এই বিমানটি সত্যিই পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে থাকে, তবে মার্কিন বিমানবাহিনীর এই সক্ষমতা কমে ১৫টিতে নেমে আসবে। নজরদারি ও আগাম সতর্কবার্তা দেওয়ার ক্ষেত্রে এই বিমানটি মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মূল চালিকাশক্তি। ফ্লাইট ডাটা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, হামলার আগে এই ঘাঁটিতে অন্তত ছয়টি একই ধরণের বিমান মোতায়েন ছিল।

 

ইরানের প্রেস টিভি আরও দাবি করেছে যে, আইআরজিসি দীর্ঘপাল্লার ও মধ্যপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং আক্রমণ ড্রোন ব্যবহার করে এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো লক্ষ্যবস্তু করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে আরও একটি মার্কিন এমকিউ–৯ ড্রোন ভূপাতিত করা এবং একটি এফ–১৬ যুদ্ধবিমানে আঘাত করার দাবিও করা হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি স্থল যুদ্ধের আশঙ্কা আরও কয়েক গুণ বেড়ে গেল। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া কী হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব সম্প্রদায়।