ছবি : রয়টার্স।
হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ধসের ফলে সৃষ্ট আকস্মিক পাহাড়ি ঢল, কাদাঝড় ও ভয়াবহ বন্যায় হিমালয়কন্যা নেপাল এবং প্রতিবেশী চীনের তিব্বত অঞ্চলে ধ্বংসযজ্ঞ চরম রূপ ধারণ করেছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত পাওয়া সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৬৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। যার মধ্যে কেবল নেপাল থেকেই ১ হাজার ৫০টি এবং তিব্বত অংশ থেকে ১৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশ মিলে এখনো অন্তত ৪ হাজার ৪৬২ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যার মধ্যে নেপালেই নিখোঁজের সংখ্যা ৩ হাজার ৯১৬ জন। এ ছাড়া ভারতীয় সীমান্তে নদীর ভাটিতে ভেসে আসা অন্তত ১৭টি মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ২৬ আগস্ট হিমালয়ের উঁচুতে অবস্থিত এক বিশাল হিমবাহ ধসে পড়লে এই বিপর্যয়ের সূচনা হয়। এর ফলে বরফগলা তীব্র পানির প্রবাহ, পাথর ও কাদার স্রোত পাহাড়ের নিচু এলাকাগুলোকে দ্রুত ভাসিয়ে নিয়ে যায়। মর্গে স্থান সংকট হওয়ায় এবং পরিচয় শনাক্ত না করতে পারায় নেপাল সরকার ডিএনএ নমুনা সংরক্ষণের পর শত শত মরদেহ দাফন করতে বাধ্য হচ্ছে। স্বজনদের ফিরে পাওয়ার দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আশা ছেড়ে দিয়ে অনেক পরিবার সনাতন রীতি অনুযায়ী নিখোঁজদের স্মরণে প্রতীকী শেষকৃত্য অনুষ্ঠান শুরু করেছে। তবে জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের কাদায় আটকে থাকা টানেলগুলোতে এখনো অলৌকিক কিছুর আশায় উদ্ধারকারীরা খনন, ড্রিলিং ও হেভি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে, চীনের তিব্বত সীমান্তে বিপর্যয় সংক্রান্ত সঠিক তথ্য প্রকাশ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রবাসী তিব্বতি অধিকারকর্মীরা চীনের দেয়া হতাহতের সংখ্যার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেও, বেইজিং দাবি করেছে তারা তথ্য প্রদানে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত তিব্বতের জিরং বন্দরে বুধবার সড়ক যোগাযোগ পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু দুর্গম এলাকা হওয়ায় এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীন চিত্র পেতে আরও সময় লাগবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই ভয়াবহ ট্র্যাজেডিকে জলবায়ু পরিবর্তনের একটি বড় সতর্কবার্তা বলে আখ্যা দিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। তিনি বলেন, গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণে নেপালের মতো দেশের ভূমিকা শূন্যের কোঠায় হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ বলী হচ্ছে হিমালয়ের ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। বিজ্ঞানীদের মতে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে হিমালয় ও হিন্দুকুশ পর্বতমালার হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে, যা এই অববাহিকার প্রায় ১৬ কোটি ৫০ লাখ মানুষের নিরাপদ পানির অস্তিত্বকেও ঝুঁকির মুখে ফেলছে। অর্থনৈতিকভাবে চাপে থাকা নেপাল জানিয়েছে, এই ধ্বংসস্তূপ কাটিয়ে পুনর্গঠনের কাজে কোটি কোটি ডলারের প্রয়োজন, যা এককভাবে সামাল দেওয়া তাদের পক্ষে অসম্ভব।
















