ঢাকা , রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে কাটছাঁট টুর্নামেন্টে; নেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

দর্শকশূন্য গ্যালারিতে শুরু হচ্ছে পিএসএল

ছবি : সংগৃহীত

 

বিশ্ব রাজনীতির অস্থিরতা আর মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রের প্রভাব এবার আছড়ে পড়ল ক্রিকেটের বাইশ গজে। ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে দর্শকশূন্য গ্যালারিতেই শুরু হতে যাচ্ছে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ১১তম আসর। আগামী ২৬ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে কেবল দর্শক প্রবেশাধিকারই নিষিদ্ধ করা হয়নি, বরং জ্বালানি সাশ্রয়ে টুর্নামেন্টের পরিধি ও ভেন্যু তালিকায় বড় ধরনের কাটছাঁট করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)

 

পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, দেশের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে জনচলাচল সীমিত রাখতে এবং সরকারি সম্পদ সাশ্রয় করতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বিশেষ নির্দেশনার প্রেক্ষিতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে বিলাসিতা নয়, বরং স্থায়িত্বই আমাদের অগ্রাধিকার। জ্বালানি ও যাতায়াত খরচ ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনতে আমরা টুর্নামেন্টের কাঠামোতে পরিবর্তন এনেছি।

 

জ্বালানি খরচ ও লজিস্টিক সাপোর্ট কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ফয়সালাবাদ, মুলতান, রাওয়ালপিন্ডি এবং পেশোয়ারকে এবারের আয়োজক তালিকা থেকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পুরো টুর্নামেন্টটি কেবল লাহোর এবং করাচিএই দুটি শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। দলগুলোর যাতায়াত এবং বিশাল বহরের মুভমেন্ট কমাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমনকি টুর্নামেন্টের শুরুর সেই চিরচেনা জৌলুসপূর্ণ ও ব্যয়বহুল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটিও এবার বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

 

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ওপর। শ্রীলঙ্কা যেখানে জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে, পাকিস্তান সেখানে বেছে নিল তাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় ঘরোয়া ক্রিকেট উৎসবকে সীমাবদ্ধ করার পথ। পিসিবি প্রধান আরও যোগ করেছেন যে, পরিস্থিতির উন্নতি হলে টুর্নামেন্টের শেষ দিকে দর্শকদের মাঠে ফেরার অনুমতি দেওয়া হতে পারে। তবে আপাতত ঘরের সোফায় বসে টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রেখেই সান্ত্বনা খুঁজতে হবে ক্রিকেটপ্রেমীদের।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে কাটছাঁট টুর্নামেন্টে; নেই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

দর্শকশূন্য গ্যালারিতে শুরু হচ্ছে পিএসএল

Update Time : ১০:১৯:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

 

বিশ্ব রাজনীতির অস্থিরতা আর মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রের প্রভাব এবার আছড়ে পড়ল ক্রিকেটের বাইশ গজে। ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী তীব্র জ্বালানি সংকটের কারণে দর্শকশূন্য গ্যালারিতেই শুরু হতে যাচ্ছে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) ১১তম আসর। আগামী ২৬ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে কেবল দর্শক প্রবেশাধিকারই নিষিদ্ধ করা হয়নি, বরং জ্বালানি সাশ্রয়ে টুর্নামেন্টের পরিধি ও ভেন্যু তালিকায় বড় ধরনের কাটছাঁট করেছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)

 

পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, দেশের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে জনচলাচল সীমিত রাখতে এবং সরকারি সম্পদ সাশ্রয় করতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বিশেষ নির্দেশনার প্রেক্ষিতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে বিলাসিতা নয়, বরং স্থায়িত্বই আমাদের অগ্রাধিকার। জ্বালানি ও যাতায়াত খরচ ন্যূনতম পর্যায়ে নামিয়ে আনতে আমরা টুর্নামেন্টের কাঠামোতে পরিবর্তন এনেছি।

 

জ্বালানি খরচ ও লজিস্টিক সাপোর্ট কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ফয়সালাবাদ, মুলতান, রাওয়ালপিন্ডি এবং পেশোয়ারকে এবারের আয়োজক তালিকা থেকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে পুরো টুর্নামেন্টটি কেবল লাহোর এবং করাচিএই দুটি শহরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। দলগুলোর যাতায়াত এবং বিশাল বহরের মুভমেন্ট কমাতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমনকি টুর্নামেন্টের শুরুর সেই চিরচেনা জৌলুসপূর্ণ ও ব্যয়বহুল উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটিও এবার বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।

 

গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রভাবে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল ও গ্যাস সরবরাহ কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর ওপর। শ্রীলঙ্কা যেখানে জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে, পাকিস্তান সেখানে বেছে নিল তাদের সবচেয়ে জনপ্রিয় ঘরোয়া ক্রিকেট উৎসবকে সীমাবদ্ধ করার পথ। পিসিবি প্রধান আরও যোগ করেছেন যে, পরিস্থিতির উন্নতি হলে টুর্নামেন্টের শেষ দিকে দর্শকদের মাঠে ফেরার অনুমতি দেওয়া হতে পারে। তবে আপাতত ঘরের সোফায় বসে টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রেখেই সান্ত্বনা খুঁজতে হবে ক্রিকেটপ্রেমীদের।