ঢাকা , রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৯২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দাবি; বিশ্বনেতাদের যুদ্ধের ডাক

ইসরায়েলি ভূখণ্ডে ইরানের ৪০০ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত

ছবি : সংগৃহীত

 

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন আর বারুদের গন্ধে ভারী হয়ে উঠেছে। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে চার শতাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান। রোববার (২২ মার্চ) ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এখন কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য এক বিশাল হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

 

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি জানিয়েছেন, ইরানের ছোড়া এই ৪০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্রের বিশাল অংশই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। তিনি দাবি করেন, “আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রায় ৯২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে আকাশে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। এটি আমাদের সামরিক সক্ষমতার এক বড় সাফল্য।তবে এই সাফল্যের মাঝেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। গত শনিবার দক্ষিণ ইসরায়েলের দুটি শহরে ইরানের কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানে। ইসরায়েলি প্রশাসনের তথ্যমতে, ওই হামলায় অন্তত ১৮০ জন নাগরিক আহত হয়েছেন, যাদের জরুরি চিকিৎসাসেবার প্রয়োজন হয়েছে।

 

এই সংকটময় পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলের সক্রিয় সমর্থন ও সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। রোববার দক্ষিণ ইসরায়েলের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি বিশ্বনেতাদের প্রতি এই জোরালো আহ্বান জানান। নেতানিয়াহু বলেন, “ইরান কেবল ইসরায়েল কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই বিপদ নয়, বরং এটি ইউরোপসহ সমগ্র বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য এক সরাসরি হুমকি। ইরান পুরো বিশ্বকে এক বিপন্ন পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।তিনি যুক্তি দেখান যে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের আস্ফালন দেখিয়ে ইরান আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে চাইছে।

 

নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন যে, বিশ্বের বেশ কয়েকজন নেতা ইতিমধ্যে ইসরায়েলের এই অভিযানে সংহতি প্রকাশ করেছেন, তবে এটি যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, “এখন সময় এসেছে বিশ্বের বাকি দেশগুলোর নেতাদের এই লড়াইয়ে সরাসরি যুক্ত হওয়ার। আমাদের আরও জোরালো এবং ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ প্রয়োজন।বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেতানিয়াহুর এই আহ্বান মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দিতে পারে। একদিকে ইরানের আক্রমণাত্মক অবস্থান এবং অন্যদিকে ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক জোট গঠনের প্রচেষ্টা- সব মিলিয়ে পুরো বিশ্ব এখন এক চরম অস্থিরতার মুখে দাঁড়িয়ে।

 

সূত্র: আল জাজিরা

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

৯২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দাবি; বিশ্বনেতাদের যুদ্ধের ডাক

ইসরায়েলি ভূখণ্ডে ইরানের ৪০০ ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত

Update Time : ০৯:২৭:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

 

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের গর্জন আর বারুদের গন্ধে ভারী হয়ে উঠেছে। ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে চার শতাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে তেহরান। রোববার (২২ মার্চ) ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এখন কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য এক বিশাল হুমকি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

 

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি জানিয়েছেন, ইরানের ছোড়া এই ৪০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্রের বিশাল অংশই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। তিনি দাবি করেন, “আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রায় ৯২ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে আকাশে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। এটি আমাদের সামরিক সক্ষমতার এক বড় সাফল্য।তবে এই সাফল্যের মাঝেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। গত শনিবার দক্ষিণ ইসরায়েলের দুটি শহরে ইরানের কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানে। ইসরায়েলি প্রশাসনের তথ্যমতে, ওই হামলায় অন্তত ১৮০ জন নাগরিক আহত হয়েছেন, যাদের জরুরি চিকিৎসাসেবার প্রয়োজন হয়েছে।

 

এই সংকটময় পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলের সক্রিয় সমর্থন ও সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। রোববার দক্ষিণ ইসরায়েলের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনকালে তিনি বিশ্বনেতাদের প্রতি এই জোরালো আহ্বান জানান। নেতানিয়াহু বলেন, “ইরান কেবল ইসরায়েল কিংবা যুক্তরাষ্ট্রের জন্যই বিপদ নয়, বরং এটি ইউরোপসহ সমগ্র বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য এক সরাসরি হুমকি। ইরান পুরো বিশ্বকে এক বিপন্ন পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।তিনি যুক্তি দেখান যে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া এবং দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের আস্ফালন দেখিয়ে ইরান আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে ধ্বংস করতে চাইছে।

 

নেতানিয়াহু আরও দাবি করেন যে, বিশ্বের বেশ কয়েকজন নেতা ইতিমধ্যে ইসরায়েলের এই অভিযানে সংহতি প্রকাশ করেছেন, তবে এটি যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, “এখন সময় এসেছে বিশ্বের বাকি দেশগুলোর নেতাদের এই লড়াইয়ে সরাসরি যুক্ত হওয়ার। আমাদের আরও জোরালো এবং ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ প্রয়োজন।বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেতানিয়াহুর এই আহ্বান মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধকে আরও বড় পরিসরে ছড়িয়ে দিতে পারে। একদিকে ইরানের আক্রমণাত্মক অবস্থান এবং অন্যদিকে ইসরায়েলের আন্তর্জাতিক জোট গঠনের প্রচেষ্টা- সব মিলিয়ে পুরো বিশ্ব এখন এক চরম অস্থিরতার মুখে দাঁড়িয়ে।

 

সূত্র: আল জাজিরা