ঢাকা , রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৩৬৫ মেগাওয়াটের ৭ নং ইউনিট সচল; কাটছে বিদ্যুৎ সংকট

দীর্ঘ ৯ মাস পর ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন শুরু

সংগৃহীত ছবি

 

 

দেশের জ্বালানি খাতের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে দীর্ঘ ৯ মাস পর পুনরায় উৎপাদনে ফিরেছে ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩৬৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৭ নম্বর ইউনিটটি।

 

 

শুক্রবার রাত ২টা থেকে এই ইউনিটটিতে পুরোদমে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. এনামুল হক। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় স্থবির হয়ে পড়া এই বিশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

 

 

বিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, গত দুই বছর ধরে তীব্র গ্যাস সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটি। বিশেষ করে ২০২৫ সালের জুন মাসটি ছিল কেন্দ্রের জন্য সবচাইতে বিপর্যয়ের। ওই বছরের ৯ জুন ২১০ মেগাওয়াটের ৫ নম্বর ইউনিট এবং ১৩ জুন ৩৬০ মেগাওয়াটের ৪ নম্বর ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এর ঠিক একদিন পর অর্থাৎ ১৪ জুন গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ৩৬৫ মেগাওয়াটের ৭ নম্বর ইউনিটটির উৎপাদনও থমকে দাঁড়ায়। মূলত সরকার সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য বরাদ্দকৃত গ্যাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বিকল্প উপায়ে গ্যাস পাওয়ার জন্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বারবার আবেদন করেও তখন সফল হয়নি।

 

 

৯ মাস পর গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কাঙ্ক্ষিত গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়ায় কারিগরি পরীক্ষা শেষে শুক্রবার রাত থেকেই ৭ নম্বর ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়েছে। তবে কেন্দ্রের অন্যান্য ইউনিটের অবস্থা এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। ২০১০ সালের জুন মাসে অগ্নিকাণ্ডে ৬ নম্বর ইউনিটের টারবাইন পুড়ে যাওয়ায় সেটি দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে অকেজো হয়ে আছে। অন্যদিকে, ১৯৭৪ ও ১৯৭৬ সালে চালু হওয়া পুরনো ১ ও ২ নম্বর ইউনিট দুটি বারবার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত ৯ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কর্তৃপক্ষ এই পুরনো ইউনিট দুটি ভেঙে নতুন ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা করছে।

 

 

বর্তমানে কেন্দ্রের ৩ নম্বর ইউনিটের টারবাইন রোটারের ব্লেডে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেটির মেরামতের কাজ চলছে। প্রধান প্রকৌশলী মো. এনামুল হক জানান, ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিট দুটি বর্তমানে উৎপাদনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত হলেই এই ইউনিট দুটি থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা হবে, যা জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের জোগান নিশ্চিত করবে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

৩৬৫ মেগাওয়াটের ৭ নং ইউনিট সচল; কাটছে বিদ্যুৎ সংকট

দীর্ঘ ৯ মাস পর ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন শুরু

Update Time : ১০:৩২:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

 

দেশের জ্বালানি খাতের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে দীর্ঘ ৯ মাস পর পুনরায় উৎপাদনে ফিরেছে ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩৬৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৭ নম্বর ইউনিটটি।

 

 

শুক্রবার রাত ২টা থেকে এই ইউনিটটিতে পুরোদমে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ঘোড়াশাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মো. এনামুল হক। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় স্থবির হয়ে পড়া এই বিশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।

 

 

বিদ্যুৎ কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, গত দুই বছর ধরে তীব্র গ্যাস সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাটি। বিশেষ করে ২০২৫ সালের জুন মাসটি ছিল কেন্দ্রের জন্য সবচাইতে বিপর্যয়ের। ওই বছরের ৯ জুন ২১০ মেগাওয়াটের ৫ নম্বর ইউনিট এবং ১৩ জুন ৩৬০ মেগাওয়াটের ৪ নম্বর ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। এর ঠিক একদিন পর অর্থাৎ ১৪ জুন গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ৩৬৫ মেগাওয়াটের ৭ নম্বর ইউনিটটির উৎপাদনও থমকে দাঁড়ায়। মূলত সরকার সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য বরাদ্দকৃত গ্যাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। বিকল্প উপায়ে গ্যাস পাওয়ার জন্য বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বারবার আবেদন করেও তখন সফল হয়নি।

 

 

৯ মাস পর গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কাঙ্ক্ষিত গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়ায় কারিগরি পরীক্ষা শেষে শুক্রবার রাত থেকেই ৭ নম্বর ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়েছে। তবে কেন্দ্রের অন্যান্য ইউনিটের অবস্থা এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক নয়। ২০১০ সালের জুন মাসে অগ্নিকাণ্ডে ৬ নম্বর ইউনিটের টারবাইন পুড়ে যাওয়ায় সেটি দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে অকেজো হয়ে আছে। অন্যদিকে, ১৯৭৪ ও ১৯৭৬ সালে চালু হওয়া পুরনো ১ ও ২ নম্বর ইউনিট দুটি বারবার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত ৯ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। কর্তৃপক্ষ এই পুরনো ইউনিট দুটি ভেঙে নতুন ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা করছে।

 

 

বর্তমানে কেন্দ্রের ৩ নম্বর ইউনিটের টারবাইন রোটারের ব্লেডে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেটির মেরামতের কাজ চলছে। প্রধান প্রকৌশলী মো. এনামুল হক জানান, ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিট দুটি বর্তমানে উৎপাদনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত হলেই এই ইউনিট দুটি থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা হবে, যা জাতীয় গ্রিডে বড় ধরনের জোগান নিশ্চিত করবে।