ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৭-২ গোলে জিতে কোয়ার্টারে কাতালানরা; দাপুটে বার্সা

নিউক্যাসলকে ৭ গোলে উড়িয়ে কোয়ার্টারে বার্সেলোনা

ছবি : ইএসপিএন

 

প্রথম লেগে নিউক্যাসলের মাঠে ঘাম ঝরানো ড্রয়ের পর ফিরতি লেগে ঘরের মাঠে রুদ্রমূর্তি ধারণ করল বার্সেলোনা। হ্যান্সি ফ্লিকেরভয়ংকরফুটবল কৌশলের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল ইংলিশ ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেডের রক্ষণভাগ। বুধবার রাতে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর ফিরতি লেগে নিউক্যাসলকে ৭২ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে ব্লুগ্রানারা। দুই লেগ মিলিয়ে ৮৩ অগ্রগামিতায় দাপটের সাথে টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করল কাতালান জায়ান্টরা।

 

ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণের তীব্র উত্তেজনা। প্রথমার্ধের লড়াইয়ে দুই দলই ছিল সমানে সমান। মাত্র ৬ মিনিটের মাথায় লামিনে ইয়ামাল ও ফারমিন লোপেজের দুর্দান্ত সমন্বয়ে বল পেয়ে রাফিনিয়া বাঁপায়ের নিখুঁত শটে বার্সাকে লিড এনে দেন। তবে রক্ষণভাগের ভুলে ১৫ মিনিটের মাথায় সেই লিড হারায় স্বাগতিকরা; অ্যান্থনি এলাঙ্গা গোল করে নিউক্যাসলকে সমতায় ফেরান। এর দুই মিনিট পরই জেরার্ড মার্টিনের পাস থেকে মার্ক বার্নালের ভলিতে আবারও এগিয়ে যায় বার্সা। কিন্তু ২৮ মিনিটে ইয়ামালের এক ভুলে বল পেয়ে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করে ম্যাচকে আবারও ২২ সমতায় ফেরান সেই এলাঙ্গা।

 

ম্যাচের মোড় ঘোরে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে। রাফিনিয়াকে ডিবক্সের ভেতর ফাউল করায় পেনাল্টি পায় বার্সা। তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল স্পট কিক থেকে গোল করে দলকে ৩২ ব্যবধানে এগিয়ে নিয়ে বিরতিতে যান। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি বার্সেলোনাকে। ৬৩ শতাংশ বল পজিশন ধরে রেখে পুরো ম্যাচে ১৯টি শট নেয় তারা, যার ১৩টিই ছিল লক্ষ্যে। ৫১ মিনিটে রাফিনিয়ার থ্রু পাস থেকে ফারমিন লোপেজ গোল করে ব্যবধান ৪২ করেন।

 

এরপর শুরু হয়গোলমেশিনরবার্ট লেভান্ডফস্কির তান্ডব। ৫৬ মিনিটে রাফিনিয়ার কর্নার থেকে হেডে গোল করার পর ৬০ মিনিটে ইয়ামালের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি পূর্ণ করেন এই পোলিশ স্ট্রাইকার। এই গোলের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়ালো ১০৯এ। গোলবন্যা এখানেই থামেনি। ৭২ মিনিটে নিউক্যাসলের রক্ষণের ভুল পাসে বল পেয়ে ডান পায়ের জোরালো শটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের সপ্তম গোলটি পূর্ণ করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা রাফিনিয়া। এই মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি ছিল রাফিনিয়ার ১৯তম গোল।

 

নিউক্যাসল ইউনাইটেড লড়াই করার চেষ্টা করলেও বার্সার গতির কাছে তারা পুরোপুরি আত্মসমর্পণ করে। শেষ বাঁশি বাজার পর স্কোরবোর্ড বলছিল ৭, যা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বের ইতিহাসে অন্যতম বড় জয়। গত সপ্তাহে সেভিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করা রাফিনিয়া আজও ছিলেন অনন্য। বার্সেলোনার এই বিধ্বংসী পারফরম্যান্স প্রতিপক্ষ দলগুলোর জন্য এক বড় সতর্কবার্তা। কোয়ার্টার ফাইনালে হ্যান্সি ফ্লিকের এই অপ্রতিরোধ্য বার্সেলোনা কার মুখোমুখি হবে, তা এখন ফুটবল বিশ্বের বড় আলোচনার বিষয়।

 

সূত্র: আল জাজিরা

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

৭-২ গোলে জিতে কোয়ার্টারে কাতালানরা; দাপুটে বার্সা

নিউক্যাসলকে ৭ গোলে উড়িয়ে কোয়ার্টারে বার্সেলোনা

Update Time : ১১:২৯:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

ছবি : ইএসপিএন

 

প্রথম লেগে নিউক্যাসলের মাঠে ঘাম ঝরানো ড্রয়ের পর ফিরতি লেগে ঘরের মাঠে রুদ্রমূর্তি ধারণ করল বার্সেলোনা। হ্যান্সি ফ্লিকেরভয়ংকরফুটবল কৌশলের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল ইংলিশ ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেডের রক্ষণভাগ। বুধবার রাতে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোর ফিরতি লেগে নিউক্যাসলকে ৭২ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত করেছে ব্লুগ্রানারা। দুই লেগ মিলিয়ে ৮৩ অগ্রগামিতায় দাপটের সাথে টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করল কাতালান জায়ান্টরা।

 

ম্যাচের শুরু থেকেই ছিল আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণের তীব্র উত্তেজনা। প্রথমার্ধের লড়াইয়ে দুই দলই ছিল সমানে সমান। মাত্র ৬ মিনিটের মাথায় লামিনে ইয়ামাল ও ফারমিন লোপেজের দুর্দান্ত সমন্বয়ে বল পেয়ে রাফিনিয়া বাঁপায়ের নিখুঁত শটে বার্সাকে লিড এনে দেন। তবে রক্ষণভাগের ভুলে ১৫ মিনিটের মাথায় সেই লিড হারায় স্বাগতিকরা; অ্যান্থনি এলাঙ্গা গোল করে নিউক্যাসলকে সমতায় ফেরান। এর দুই মিনিট পরই জেরার্ড মার্টিনের পাস থেকে মার্ক বার্নালের ভলিতে আবারও এগিয়ে যায় বার্সা। কিন্তু ২৮ মিনিটে ইয়ামালের এক ভুলে বল পেয়ে নিজের ও দলের দ্বিতীয় গোলটি করে ম্যাচকে আবারও ২২ সমতায় ফেরান সেই এলাঙ্গা।

 

ম্যাচের মোড় ঘোরে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে। রাফিনিয়াকে ডিবক্সের ভেতর ফাউল করায় পেনাল্টি পায় বার্সা। তরুণ সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল স্পট কিক থেকে গোল করে দলকে ৩২ ব্যবধানে এগিয়ে নিয়ে বিরতিতে যান। দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি বার্সেলোনাকে। ৬৩ শতাংশ বল পজিশন ধরে রেখে পুরো ম্যাচে ১৯টি শট নেয় তারা, যার ১৩টিই ছিল লক্ষ্যে। ৫১ মিনিটে রাফিনিয়ার থ্রু পাস থেকে ফারমিন লোপেজ গোল করে ব্যবধান ৪২ করেন।

 

এরপর শুরু হয়গোলমেশিনরবার্ট লেভান্ডফস্কির তান্ডব। ৫৬ মিনিটে রাফিনিয়ার কর্নার থেকে হেডে গোল করার পর ৬০ মিনিটে ইয়ামালের পাস থেকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি পূর্ণ করেন এই পোলিশ স্ট্রাইকার। এই গোলের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়ালো ১০৯এ। গোলবন্যা এখানেই থামেনি। ৭২ মিনিটে নিউক্যাসলের রক্ষণের ভুল পাসে বল পেয়ে ডান পায়ের জোরালো শটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের সপ্তম গোলটি পূর্ণ করেন ব্রাজিলিয়ান তারকা রাফিনিয়া। এই মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে এটি ছিল রাফিনিয়ার ১৯তম গোল।

 

নিউক্যাসল ইউনাইটেড লড়াই করার চেষ্টা করলেও বার্সার গতির কাছে তারা পুরোপুরি আত্মসমর্পণ করে। শেষ বাঁশি বাজার পর স্কোরবোর্ড বলছিল ৭, যা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্বের ইতিহাসে অন্যতম বড় জয়। গত সপ্তাহে সেভিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করা রাফিনিয়া আজও ছিলেন অনন্য। বার্সেলোনার এই বিধ্বংসী পারফরম্যান্স প্রতিপক্ষ দলগুলোর জন্য এক বড় সতর্কবার্তা। কোয়ার্টার ফাইনালে হ্যান্সি ফ্লিকের এই অপ্রতিরোধ্য বার্সেলোনা কার মুখোমুখি হবে, তা এখন ফুটবল বিশ্বের বড় আলোচনার বিষয়।

 

সূত্র: আল জাজিরা