ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
যৌথ হামলায় নিহত খামেনি ও পরিবারের সদস্যরা

অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন মোজতবা খামেনি

সংগৃহীত ছবি

 

ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক ভয়াবহ যৌথ হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন। ব্রিটিশ দৈনিক টেলিগ্রাফের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে খামেনির বাসভবন কম্পাউন্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো এক সমন্বিত অভিযানে এই ঘটনা ঘটে।

 

হামলায় মোজতবা বেঁচে গেলেও প্রাণ হারিয়েছেন তার বাবা ও ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং পরিবারের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

 

প্রতিবেদনে ফাঁস হওয়া একটি অডিও রেকর্ডিংয়ের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩২ মিনিটে তেহরানে খামেনির বাসভবন লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি হামলার মাত্র কয়েক মিনিট আগে ব্যক্তিগত কাজের প্রয়োজনে কম্পাউন্ডের বাইরে যাওয়ায় বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পান। তবে কাজ সেরে ভেতরে ফেরার সময় বিস্ফোরণের প্রচণ্ডতায় তার পায়ে সামান্য আঘাত লাগে।

 

এই ভয়াবহ হামলায় মোজতবা খামেনির স্ত্রী জাহরা হাদ্দাদ-আদেল এবং তাদের পুত্র ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। অডিও বার্তায় হামলার যে নৃশংস বর্ণনা পাওয়া গেছে তা গা শিউরে ওঠার মতো। দাবি করা হয়েছে, হামলার তীব্রতায় ইরানের সামরিক প্রধান মোহাম্মদ শিরাজির দেহ এতটাই ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে যে, তাকে শনাক্ত করার জন্য মাত্র ‘কয়েক কেজি মাংস’ অবশিষ্ট ছিল। এছাড়া খামেনির জামাতা মিসবাহ আল-হুদা বাঘেরি কানিকে দ্বিখণ্ডিত মস্তকসহ উদ্ধার করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

অন্যদিকে, খামেনির আরেক ছেলে মোস্তফা খামেনি হামলার সময় ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকলেও তার স্ত্রীসহ অলৌকিকভাবে অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। এই হামলার মধ্য দিয়ে ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালের এই রক্তাক্ত অধ্যায় মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে চরম অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। তেহরান এই হামলার প্রতিশোধ নিতে কেমন পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

যৌথ হামলায় নিহত খামেনি ও পরিবারের সদস্যরা

অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেন মোজতবা খামেনি

Update Time : ০৭:১৩:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি এক ভয়াবহ যৌথ হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন। ব্রিটিশ দৈনিক টেলিগ্রাফের এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে খামেনির বাসভবন কম্পাউন্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চালানো এক সমন্বিত অভিযানে এই ঘটনা ঘটে।

 

হামলায় মোজতবা বেঁচে গেলেও প্রাণ হারিয়েছেন তার বাবা ও ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং পরিবারের বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

 

প্রতিবেদনে ফাঁস হওয়া একটি অডিও রেকর্ডিংয়ের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৩২ মিনিটে তেহরানে খামেনির বাসভবন লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি হামলার মাত্র কয়েক মিনিট আগে ব্যক্তিগত কাজের প্রয়োজনে কম্পাউন্ডের বাইরে যাওয়ায় বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা পান। তবে কাজ সেরে ভেতরে ফেরার সময় বিস্ফোরণের প্রচণ্ডতায় তার পায়ে সামান্য আঘাত লাগে।

 

এই ভয়াবহ হামলায় মোজতবা খামেনির স্ত্রী জাহরা হাদ্দাদ-আদেল এবং তাদের পুত্র ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। অডিও বার্তায় হামলার যে নৃশংস বর্ণনা পাওয়া গেছে তা গা শিউরে ওঠার মতো। দাবি করা হয়েছে, হামলার তীব্রতায় ইরানের সামরিক প্রধান মোহাম্মদ শিরাজির দেহ এতটাই ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে যে, তাকে শনাক্ত করার জন্য মাত্র ‘কয়েক কেজি মাংস’ অবশিষ্ট ছিল। এছাড়া খামেনির জামাতা মিসবাহ আল-হুদা বাঘেরি কানিকে দ্বিখণ্ডিত মস্তকসহ উদ্ধার করা হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

অন্যদিকে, খামেনির আরেক ছেলে মোস্তফা খামেনি হামলার সময় ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকলেও তার স্ত্রীসহ অলৌকিকভাবে অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। এই হামলার মধ্য দিয়ে ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হয়েছে। ২০২৬ সালের এই রক্তাক্ত অধ্যায় মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে চরম অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিয়েছে। তেহরান এই হামলার প্রতিশোধ নিতে কেমন পদক্ষেপ নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।