ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬, ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
মিষ্টি স্বাদে উৎসবের আনন্দ বাড়াতে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই শীতল ডেজার্ট

ঈদে অতিথি আপ্যায়নে বিশেষ চমক: ঘরেই তৈরি করুন স্বাস্থ্যকর ফালুদা

ছবি : এলিসা’স কুকিং রেসিপিস

 

পবিত্র ঈদুল ফিতর দরজায় কড়া নাড়ছে। নতুন জামাকাপড় কেনা আর ঘরদোর সাজানোর ব্যস্ততার পাশাপাশি এখন প্রতিটি অন্দরেই চলছে মুখরোচক খাবারের পরিকল্পনা। ঈদের দিন সকালের সেমাই বা বিকেলের পোলাও-মাংসের ভিড়ে এবার অতিথি আপ্যায়নে ভিন্নতা আনতে ঘরে তৈরি ‘ফালুদা’ হয়ে উঠেছে অনেকের প্রথম পছন্দ।

 

বিশেষ করে ২০২৬ সালের এই ঈদটি যেহেতু উষ্ণ আবহাওয়ার মধ্যে পড়েছে, তাই প্রশান্তিদায়ক ঠান্ডা এই মিষ্টান্নটি উৎসবের আমেজকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

 

ফালুদা মূলত দুধ, সাবুদানা বা সেমাই, তোকমা দানা (বেসিল সিড), জেলি ও আইসক্রিমের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। এটি কেবল রসনাতৃপ্তিই দেয় না, বরং গরমের দিনে শরীরে শীতল অনুভূতি এনে দেয়। বাজারে রেডিমিক্স ফালুদা পাওয়া গেলেও প্রিয়জনদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে বর্তমানে অনেকেই ঘরে বানানো ফালুদাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন।

 

সহজ পদ্ধতিতে ঘরেই তৈরি করুন ফালুদা
ঘরে ফালুদা তৈরি করা যেমন আনন্দদায়ক, তেমনি এটি বেশ সাশ্রয়ী। নিচে এর একটি সহজ প্রস্তুত প্রণালি তুলে ধরা হলো:

 

উপকরণ প্রস্তুত:

 

প্রথমে দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন করে নিন। এরপর আলাদাভাবে সেমাই বা সাবুদানা সেদ্ধ করে রাখতে হবে। তোকমা দানা ১০-১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখলে তা ফুলে উঠবে। রঙিন জেলি তৈরি করে ফ্রিজে রেখে শক্ত করে নিন।

সাজানোর কৌশল:

 

একটি স্বচ্ছ লম্বা গ্লাসে প্রথমে সামান্য রুহ আফজা বা গোলাপ সিরাপ দিন। এরপর ধাপে ধাপে সেদ্ধ সেমাই, তোকমা দানা এবং কাটা ফলের টুকরো যোগ করুন। সবশেষে ঘন করা দুধ ঢেলে উপরে এক স্কুপ ভ্যানিলা বা কুলফি আইসক্রিম দিয়ে পরিবেশন করুন।

বাড়তি স্বাদ: স্বাদ আরও বাড়াতে উপরে বাদাম কুচি ও চেরি ফল ব্যবহার করতে পারেন।

স্বাস্থ্যকর ও আনন্দময় উদযাপন

 

পুষ্টিবিদদের মতে, ঘরে তৈরি ফালুদা বাজারের কেনা ডেজার্টের চেয়ে অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। কারণ এতে অতিরিক্ত চিনি বা নিম্নমানের কৃত্রিম রঙের পরিবর্তে ভালো মানের দুধ ও তাজা ফল ব্যবহারের সুযোগ থাকে। এছাড়া পরিবারের সবাই মিলে একসাথে বসে এই মিষ্টান্ন তৈরির প্রক্রিয়ার মধ্যে এক ধরনের সামাজিক ও আত্মিক আনন্দ থাকে, যা উৎসবের প্রকৃত শিক্ষা।

 

তাই এবারের ঈদে কৃত্রিম পানীয় বা সাধারণ মিষ্টির পরিবর্তে টেবিলে রাখতে পারেন নিজের হাতে বানানো এই রাজকীয় ডেজার্ট। মিষ্টির স্বাদে আর ফালুদার শীতল স্পর্শে প্রতিটি মুহূর্ত হয়ে উঠুক রঙিন ও আনন্দময়।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মিষ্টি স্বাদে উৎসবের আনন্দ বাড়াতে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই শীতল ডেজার্ট

ঈদে অতিথি আপ্যায়নে বিশেষ চমক: ঘরেই তৈরি করুন স্বাস্থ্যকর ফালুদা

Update Time : ০৫:০৪:১১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

ছবি : এলিসা’স কুকিং রেসিপিস

 

পবিত্র ঈদুল ফিতর দরজায় কড়া নাড়ছে। নতুন জামাকাপড় কেনা আর ঘরদোর সাজানোর ব্যস্ততার পাশাপাশি এখন প্রতিটি অন্দরেই চলছে মুখরোচক খাবারের পরিকল্পনা। ঈদের দিন সকালের সেমাই বা বিকেলের পোলাও-মাংসের ভিড়ে এবার অতিথি আপ্যায়নে ভিন্নতা আনতে ঘরে তৈরি ‘ফালুদা’ হয়ে উঠেছে অনেকের প্রথম পছন্দ।

 

বিশেষ করে ২০২৬ সালের এই ঈদটি যেহেতু উষ্ণ আবহাওয়ার মধ্যে পড়েছে, তাই প্রশান্তিদায়ক ঠান্ডা এই মিষ্টান্নটি উৎসবের আমেজকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

 

ফালুদা মূলত দুধ, সাবুদানা বা সেমাই, তোকমা দানা (বেসিল সিড), জেলি ও আইসক্রিমের এক অপূর্ব সংমিশ্রণ। এটি কেবল রসনাতৃপ্তিই দেয় না, বরং গরমের দিনে শরীরে শীতল অনুভূতি এনে দেয়। বাজারে রেডিমিক্স ফালুদা পাওয়া গেলেও প্রিয়জনদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে বর্তমানে অনেকেই ঘরে বানানো ফালুদাকেই প্রাধান্য দিচ্ছেন।

 

সহজ পদ্ধতিতে ঘরেই তৈরি করুন ফালুদা
ঘরে ফালুদা তৈরি করা যেমন আনন্দদায়ক, তেমনি এটি বেশ সাশ্রয়ী। নিচে এর একটি সহজ প্রস্তুত প্রণালি তুলে ধরা হলো:

 

উপকরণ প্রস্তুত:

 

প্রথমে দুধ জ্বাল দিয়ে ঘন করে নিন। এরপর আলাদাভাবে সেমাই বা সাবুদানা সেদ্ধ করে রাখতে হবে। তোকমা দানা ১০-১৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখলে তা ফুলে উঠবে। রঙিন জেলি তৈরি করে ফ্রিজে রেখে শক্ত করে নিন।

সাজানোর কৌশল:

 

একটি স্বচ্ছ লম্বা গ্লাসে প্রথমে সামান্য রুহ আফজা বা গোলাপ সিরাপ দিন। এরপর ধাপে ধাপে সেদ্ধ সেমাই, তোকমা দানা এবং কাটা ফলের টুকরো যোগ করুন। সবশেষে ঘন করা দুধ ঢেলে উপরে এক স্কুপ ভ্যানিলা বা কুলফি আইসক্রিম দিয়ে পরিবেশন করুন।

বাড়তি স্বাদ: স্বাদ আরও বাড়াতে উপরে বাদাম কুচি ও চেরি ফল ব্যবহার করতে পারেন।

স্বাস্থ্যকর ও আনন্দময় উদযাপন

 

পুষ্টিবিদদের মতে, ঘরে তৈরি ফালুদা বাজারের কেনা ডেজার্টের চেয়ে অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর। কারণ এতে অতিরিক্ত চিনি বা নিম্নমানের কৃত্রিম রঙের পরিবর্তে ভালো মানের দুধ ও তাজা ফল ব্যবহারের সুযোগ থাকে। এছাড়া পরিবারের সবাই মিলে একসাথে বসে এই মিষ্টান্ন তৈরির প্রক্রিয়ার মধ্যে এক ধরনের সামাজিক ও আত্মিক আনন্দ থাকে, যা উৎসবের প্রকৃত শিক্ষা।

 

তাই এবারের ঈদে কৃত্রিম পানীয় বা সাধারণ মিষ্টির পরিবর্তে টেবিলে রাখতে পারেন নিজের হাতে বানানো এই রাজকীয় ডেজার্ট। মিষ্টির স্বাদে আর ফালুদার শীতল স্পর্শে প্রতিটি মুহূর্ত হয়ে উঠুক রঙিন ও আনন্দময়।