ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
অভিযুক্ত সিফাত পলাতক; বিচার দাবিতে উত্তাল বাবুগঞ্জ

কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় কিশোরীকে পুড়িয়ে হত্যা

সংগৃহীত ছবি

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় বখাটের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাইসা আক্তার (১৪) নামে এক কিশোরীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের দক্ষিণ রাকুদিয়া এলাকায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত কিশোর সিফাত শিকদার একই এলাকার জালাল শিকদারের ছেলে।

 

নিহত রাইসা স্থানীয় দিনমজুর নজরুল হাওলাদারের মেয়ে। এই ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সিফাত ও তার পরিবারের প্রতি স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 

ঘটনার বিবরণ:
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনরা জানান, সিফাত দীর্ঘদিন ধরে রাইসাকে রাস্তাঘাটে উত্ত্যক্ত করাসহ কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। রবিবার দুপুর ১২টার দিকে রাইসা রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় সিফাত তার পথরোধ করে পুনরায় আপত্তিকর প্রস্তাব দেয়। এতে রাইসা কঠোরভাবে প্রতিবাদ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে সিফাত তার শরীরে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। রাইসার চিৎকার শুনে প্রতিবেশী তসলিমসহ অন্যন্যরা এগিয়ে এলে সিফাত পালিয়ে যায়।

 

মৃত্যু ও জবানবন্দি:
গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় রাইসাকে উদ্ধার করে প্রথমে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা দ্রুত ঢাকা নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলাকালীনই রবিবার রাতে হাসপাতালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে রাইসা। এদিকে মৃত্যুর আগে রাইসার দেওয়া একটি ভিডিও জবানবন্দি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে সে স্পষ্ট ভাষায় সিফাতকে তার শরীরে আগুন দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করেছে।

 

অভিযুক্তের পরিবারের দাবি ও পুলিশের বক্তব্য:
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সিফাত পলাতক রয়েছে। তবে তার বাবা জালাল শিকদার দাবি করেছেন, তার ছেলে এই ঘটনার সাথে জড়িত নয় এবং সে সময় সে নদীর পাড়ে গোসল করতে গিয়েছিল। অন্যদিকে, শোকে মুহ্যমান রাইসার বাবা নজরুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে পড়ায় কোনো কথা বলতে পারেননি।

 

বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ এহতেশামুল ইসলাম জানিয়েছেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি, তবে অভিযোগ পেলে এবং প্রাথমিক তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

অভিযুক্ত সিফাত পলাতক; বিচার দাবিতে উত্তাল বাবুগঞ্জ

কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় কিশোরীকে পুড়িয়ে হত্যা

Update Time : ০১:৫৭:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় বখাটের কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাইসা আক্তার (১৪) নামে এক কিশোরীকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (১৫ মার্চ) দুপুরে উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের দক্ষিণ রাকুদিয়া এলাকায় এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত কিশোর সিফাত শিকদার একই এলাকার জালাল শিকদারের ছেলে।

 

নিহত রাইসা স্থানীয় দিনমজুর নজরুল হাওলাদারের মেয়ে। এই ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সিফাত ও তার পরিবারের প্রতি স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা দ্রুত অপরাধীকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 

ঘটনার বিবরণ:
স্থানীয় বাসিন্দা ও নিহতের স্বজনরা জানান, সিফাত দীর্ঘদিন ধরে রাইসাকে রাস্তাঘাটে উত্ত্যক্ত করাসহ কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল। রবিবার দুপুর ১২টার দিকে রাইসা রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় সিফাত তার পথরোধ করে পুনরায় আপত্তিকর প্রস্তাব দেয়। এতে রাইসা কঠোরভাবে প্রতিবাদ করলে ক্ষিপ্ত হয়ে সিফাত তার শরীরে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। রাইসার চিৎকার শুনে প্রতিবেশী তসলিমসহ অন্যন্যরা এগিয়ে এলে সিফাত পালিয়ে যায়।

 

মৃত্যু ও জবানবন্দি:
গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় রাইসাকে উদ্ধার করে প্রথমে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা দ্রুত ঢাকা নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু স্থানান্তরের প্রক্রিয়া চলাকালীনই রবিবার রাতে হাসপাতালে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে রাইসা। এদিকে মৃত্যুর আগে রাইসার দেওয়া একটি ভিডিও জবানবন্দি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে সে স্পষ্ট ভাষায় সিফাতকে তার শরীরে আগুন দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করেছে।

 

অভিযুক্তের পরিবারের দাবি ও পুলিশের বক্তব্য:
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত সিফাত পলাতক রয়েছে। তবে তার বাবা জালাল শিকদার দাবি করেছেন, তার ছেলে এই ঘটনার সাথে জড়িত নয় এবং সে সময় সে নদীর পাড়ে গোসল করতে গিয়েছিল। অন্যদিকে, শোকে মুহ্যমান রাইসার বাবা নজরুল ইসলাম অসুস্থ হয়ে পড়ায় কোনো কথা বলতে পারেননি।

 

বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ এহতেশামুল ইসলাম জানিয়েছেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি, তবে অভিযোগ পেলে এবং প্রাথমিক তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”