চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিন কিশোরের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টার দিকে চট্টগ্রাম–খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের পেলাগাজি দিঘী মোড় এলাকায় এই রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা সবাই স্কুল–কলেজ বন্ধ থাকায় জীবিকার তাগিদে রাজমিস্ত্রির কাজ করত। এ ঘটনায় শিশুসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
নিহতরা হলো উপজেলার হারুয়ালছড়ি ইউনিয়নের হাজারীখিল গ্রামের উত্তম উড়াং (১৭), নয়ন উড়াং (১৭) এবং তপু উড়াং (১৭)। তারা তিন বন্ধু মিলে কাজ শেষে একই মোটরসাইকেলে করে বাড়ি ফিরছিল। নিহত উত্তমের বাবা যোগেজ উড়াং কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, লেখাপড়ার পাশাপাশি বাড়তি আয়ের জন্য তারা রাজমিস্ত্রির জোগালি হিসেবে কাজ করত। দিনের কাজ শেষে ঘরে ফেরার কথা থাকলেও তাদের ফিরতে হলো নিথর দেহ হয়ে। এক গ্রামের তিন তরুণের এমন মৃত্যুতে হাজারীখিল এলাকায় এখন শোকের মাতম চলছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মানিকছড়িতে একটি সামাজিক অনুষ্ঠান শেষে ‘বোয়ালখালী–১’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর উদ্দেশে যাচ্ছিল। পথে পেলাগাজি দিঘী মোড় এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলটির সাথে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের মাত্রা এতটাই তীব্র ছিল যে, বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পশ্চিম পাশের খাদে ছিটকে পড়ে। এতে মোটরসাইকেল আরোহী তিন কিশোর ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত হন এবং বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীরাও মারাত্মকভাবে জখম হন।
নাজিরহাট হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মো. শাহাবুদ্দিন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করেন। আহতদের উদ্ধার করে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসক মেহেদী তিন কিশোরকে মৃত ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, গুরুতর আহত ১৭ জনের মধ্যে ৯ জনের অবস্থার অবনতি হলে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশ ঘাতক বাস ও ক্ষতিগ্রস্ত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক | চট্টগ্রাম 














