ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মধ্যরাতের নৃশংসতায় স্তব্ধ ঈশ্বরদী; সরিষা ক্ষেতে মিলল নাতনির মরদেহ।

ঈশ্বরদীতে দাদিকে হত্যা করে নাতনিকে গণধর্ষণ ও খুন

 

সংগৃহীত ছবি

 

পাবনার ঈশ্বরদীতে এক পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর উত্তরপাড়া গ্রামে শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে সুফিয়া খাতুন (৬৫) নামে এক বৃদ্ধাকে হত্যা করে তাঁর নাতনি জামিলা আক্তারকে (১৫) তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

 

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে পৃথক দুটি স্থান থেকে দাদি ও নাতনির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে হঠাৎ কান্নাকাটির শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা ঘর থেকে বের হলেও কিছুক্ষণ পর শব্দ থেমে গেলে তারা পুনরায় ফিরে যান। সকালে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ তাঁরই বাড়ির উঠানে পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনরা।

 

এসময় নাতনি জামিলাকে বাড়িতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি সরিষা ক্ষেতে বিবস্ত্র ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় জামিলার মরদেহ পাওয়া যায়। ঘটনার সময় জামিলার বাবা ঢাকায় তাঁর অপর এক মেয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

 

নিহতদের নিকটাত্মীয় সোহেল রানা জানান, দুষ্কৃতকারীরা রাতে জামিলাকে অপহরণ ও ধর্ষণ করতে আসে। বিষয়টি দাদি সুফিয়া খাতুন টের পেয়ে বাধা দিতে গেলে তাঁকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

 

এরপর কিশোরী নাতনিকে অপহরণ করে পাশের সরিষা ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এলাকাবাসী এই নজিরবিহীন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার ও ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ জানায়, মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

 

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

মধ্যরাতের নৃশংসতায় স্তব্ধ ঈশ্বরদী; সরিষা ক্ষেতে মিলল নাতনির মরদেহ।

ঈশ্বরদীতে দাদিকে হত্যা করে নাতনিকে গণধর্ষণ ও খুন

Update Time : ১২:২৪:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

সংগৃহীত ছবি

 

পাবনার ঈশ্বরদীতে এক পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর উত্তরপাড়া গ্রামে শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে সুফিয়া খাতুন (৬৫) নামে এক বৃদ্ধাকে হত্যা করে তাঁর নাতনি জামিলা আক্তারকে (১৫) তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

 

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে পৃথক দুটি স্থান থেকে দাদি ও নাতনির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গভীর রাতে হঠাৎ কান্নাকাটির শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা ঘর থেকে বের হলেও কিছুক্ষণ পর শব্দ থেমে গেলে তারা পুনরায় ফিরে যান। সকালে সুফিয়া খাতুনের রক্তাক্ত মরদেহ তাঁরই বাড়ির উঠানে পড়ে থাকতে দেখেন স্বজনরা।

 

এসময় নাতনি জামিলাকে বাড়িতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। একপর্যায়ে বাড়ির পাশের একটি সরিষা ক্ষেতে বিবস্ত্র ও ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় জামিলার মরদেহ পাওয়া যায়। ঘটনার সময় জামিলার বাবা ঢাকায় তাঁর অপর এক মেয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।

 

নিহতদের নিকটাত্মীয় সোহেল রানা জানান, দুষ্কৃতকারীরা রাতে জামিলাকে অপহরণ ও ধর্ষণ করতে আসে। বিষয়টি দাদি সুফিয়া খাতুন টের পেয়ে বাধা দিতে গেলে তাঁকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

 

এরপর কিশোরী নাতনিকে অপহরণ করে পাশের সরিষা ক্ষেতে নিয়ে গিয়ে পাশবিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এলাকাবাসী এই নজিরবিহীন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 

ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার ও ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিনুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পুলিশ জানায়, মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।