বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানকে লক্ষ্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া একটি ‘অবমাননাকর’ ভিডিও নিয়ে দেশজুড়ে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
সমাজ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জাইমার ক্রমবর্ধমান সামাজিক উপস্থিতি কিংবা গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানকে সহ্য করতে না পেরে একটি বিশেষ মহল অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও চরিত্রকে আক্রমণ করছে। এটি কেবল জাইমা রহমানের ওপর আক্রমণ নয়, বরং বাংলাদেশের জনপরিসরে সফল ও শক্তিশালী হয়ে ওঠা যেকোনো নারীর বিরুদ্ধেই এই পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থার এক ধরনের চিরচেনা বিদ্বেষের প্রতিফলন।
অধিকারকর্মীদের মতে, যখন কোনো নারীকে রাজনৈতিক বা আদর্শিকভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হয় না, তখন তাঁর পোশাক বা ব্যক্তিগত আচরণকে ‘টুল’ বা হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে তাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করা হয়। জাইমা রহমানের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম ঘটেনি। এর আগেও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কন্যা কিংবা ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাতনিকে নিয়ে একই ধরনের কুরুচিপূর্ণ সাইবার প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ক্ষমতায় থাকা বা না থাকা নির্বিশেষে, নারীদের ক্ষেত্রে এ ধরনের আক্রমণের ধরণ সবসময় একই থাকে—যাকে সমাজতাত্ত্বিক ভাষায় ‘ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশন’ বা চরিত্র হনন বলা হয়।
রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ছাত্র সংসদ থেকে শুরু করে জাতীয় নির্বাচন—সবক্ষেত্রেই নারী প্রার্থীদের হেনস্তা করার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে নারীকে টার্গেট করার এই কদর্য সংস্কৃতি সুস্থ গণতন্ত্র ও সভ্য সমাজের পথে বড় বাধা। কেবল সামাজিক সচেতনতা নয়, বরং অপরাধীর রাজনৈতিক বা দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সর্বস্তরে জোরালো প্রতিবাদ জানানোর মাধ্যমেই এই সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিজস্ব প্রতিবেদক 












