বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ ও এক নারীকে গর্ভপাতে বাধ্য করার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন হিরো আলম। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে শাজাহানপুর উপজেলার ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে পুলিশি ধাওয়ার মুখে তিনি ধরা পড়েন। বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ ও এক নারীকে গর্ভপাতে বাধ্য করার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন হিরো আলম। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে শাজাহানপুর উপজেলার ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কে পুলিশি ধাওয়ার মুখে তিনি ধরা পড়েন। বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তফা মঞ্জুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
যেভাবে গ্রেপ্তার হলেন হিরো আলম
পুলিশ জানায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি হিরো আলমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন বগুড়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১। পরোয়ানা জারির খবর পেয়ে হিরো আলম আত্মগোপনে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বৃহস্পতিবার তিনি নিজ এলাকা থেকে ঢাকায় পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিলে সদর থানার পুলিশ তাকে ধাওয়া শুরু করে। অবশেষে শাজাহানপুর থানা সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে আটক করে সরাসরি আদালতে পাঠানো হয়।
মামলার প্রেক্ষাপট ও ভয়াবহ অভিযোগ
২০২৪ সালের ৬ মে এক নারী বাদী হয়ে হিরো আলমের বিরুদ্ধে এই মামলা করেন। মামলার চার্জশিট ও বাদীর বর্ণনা অনুযায়ী:
- প্রলোভন: ভুক্তভোগী নারীকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি এবং চলচ্চিত্রে নায়িকা বানানোর কথা বলে হিরো আলম একাধিকবার ধর্ষণ করেন।
- নামমাত্র বিয়ে: এক মৌলভী ডেকে লোক দেখানো ‘কবুল’ পড়িয়ে বিয়ের নাটক সাজিয়ে বিভিন্ন বাসায় স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস শুরু করেন।
- নির্যাতন ও গর্ভপাত: ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে গত ১৮ এপ্রিল তাকে গর্ভপাতের জন্য চাপ দেওয়া হয়। ২১ এপ্রিল রাজি না হওয়ায় হিরো আলম ও তার সহযোগীরা ওই নারীকে শারীরিক নির্যাতন করেন। এতে রক্তক্ষরণ শুরু হলে একটি ক্লিনিকে তার গর্ভপাত ঘটে এবং পরবর্তীতে তিনি শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
- আর্থিক প্রতারণা: সিনেমা বানানোর অজুহাতে ভুক্তভোগী নারীর কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও উল্লেখ করা হয়েছে মামলার প্রতিবেদনে।

জেলা প্রতিনিধি | বগুড়া 














