বাংলাদেশের রাজনীতির এক অবিস্মরণীয় দিন দেখল গোপালগঞ্জবাসী। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত এই জেলায় এবারই প্রথম তিনটি সংসদীয় আসনেই একযোগে জয় পেয়েছে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মো. আরিফ–উজ–জামান আনুষ্ঠানিকভাবে এই বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন। এর আগে ১৯৯৬ সালের বিতর্কিত ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মাত্র একবার এই জেলা থেকে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হয়েছিলেন; তবে এবারের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে এই ফলাফলকে ঐতিহাসিক মেরুকরণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
গোপালগঞ্জ–১: সেলিমুজ্জামান মোল্যার বড় জয় গোপালগঞ্জ–১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সেলিমুজ্জামান মোল্যা ৬৮ হাজার ৮৬৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. কাবির মিয়া পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৯৬১ ভোট। এই আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। প্রায় ৪ লাখ ভোটারের এই আসনে ১৩৮টি কেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।
গোপালগঞ্জ–২: হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে কে এম বাবর জেলার সদর আসন গোপালগঞ্জ–২–এ দেখা গেছে এক ভিন্ন চিত্র। এখানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী কে এম বাবর ৪০ হাজার ৪৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তবে তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন দলেরই বিদ্রোহী প্রার্থী এম এইচ খান মঞ্জু, যিনি ৩৩ হাজার ৩৯ ভোট পেয়ে লড়াইকে জমজমাট করে তুলেছিলেন। ১৫১টি কেন্দ্রে ১৩ জন প্রার্থীর এই বিশাল প্রতিযোগিতায় শেষ পর্যন্ত বাবরকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।
গোপালগঞ্জ–৩: শেখ হাসিনার আসনে জিলানীর রাজকীয় জয় সবচেয়ে বেশি আলোচনা ছিল গোপালগঞ্জ–৩ (টুঙ্গিপাড়া–কোটালীপাড়া) আসন নিয়ে, যা ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্থায়ী আসন। এই আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানী ৬০ হাজার ১৬৬ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৮৬৭ ভোট। ৩ লাখ ৮ হাজার ভোটারের এই আসনে ১০৮টি কেন্দ্রের ফলাফল অনুযায়ী জিলানীর এই বিজয় গোপালগঞ্জের রাজনীতিতে এক নতুন যুগের সূচনা করেছে।
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ থাকা এবং তাদের ভোট বর্জনের ডাকের মধ্যে গোপালগঞ্জের ভোটাররা এই পরিবর্তনের রায় দিয়েছেন। জেলার তিনটি আসনেই ধানের শীষের এই জয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং উত্তেজনার মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া এই ভোটগ্রহণ শেষে বিজয় মিছিলে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো জেলা।

নিজস্ব প্রতিবেদক | গোপালগঞ্জ 














