কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা করায় ইমরান মিয়া (২০) নামে এক যুবককে দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার সিদলি ইউনিয়নের পিপলাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।
দণ্ডপ্রাপ্ত ইমরান মিয়া হোসেনপুর উপজেলার পিপলাকান্দি গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে। আদালত সূত্র ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ইমরান মিয়া নিজের পরিবর্তে অন্য এক ভোটারের পরিচয় দিয়ে ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে বুথে প্রবেশ করেন। তাঁর গতিবিধি ও পরিচয় নিয়ে দায়িত্বরত পোলিং কর্মকর্তাদের সন্দেহ হলে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে আটক করা হয়। খবর পেয়ে কেন্দ্রে দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট স্বাগত সৌম্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘটনার সত্যতা যাচাই করেন। অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ইমরানকে দুই বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন।
সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও হোসেনপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী নাহিদ ইভা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের দায়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টা বা নির্বাচনী কোনো অনিয়ম প্রতিরোধে প্রশাসন অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত যুবককে সাজা ভোগের জন্য কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী দাবি করেন, বর্তমানে নির্বাচনী মাঠে ‘লাঙ্গল’ (জাতীয় পার্টি) ও ‘ধানের শীষ’ (বিএনপি) এক হয়ে কাজ করছে এবং তাদের নেপথ্যে আওয়ামী লীগ ও ভারতের সমর্থন রয়েছে। একে তিনি জনগণের সাথে একটি সাজানো ‘খেলা’ হিসেবে অভিহিত করেন। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, জেনারেশন জেড (জেন–জি) ও নারী ভোটারদের মধ্যে তাঁর ‘শাপলাকলি’ প্রতীকের পক্ষে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। তাঁর ভাষ্যমতে, অনেক ভোটার প্রাণের ভয়ে অন্য প্রতীকের স্লিপ নিয়ে কেন্দ্রে এলেও গোপনে শাপলাকলিতেই ভোট দিচ্ছেন।
নির্বাচনী সহিংসতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নাসীরুদ্দীন জানান, গতকাল তাঁদের ১৩ জন কর্মী আহত হয়েছেন। তিনি প্রশাসন ও সেনাবাহিনীকে সতর্ক করে বলেন, তাঁদের উপস্থিতিতে কাউকে আঘাত করা হলে পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে। জয়ী হলে এলাকা থেকে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দখলদার নির্মূল করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, “সম্ভাব্য এই বিজয় আমার নয়, বরং শহীদ উসমান হাদি ভাইয়ের বিজয়। ভোটাররা উসমান হাদি হত্যার বিচারের আশায় আমাকে সমর্থন দিচ্ছেন।” কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির ভয়ে তিনি ভীত নন উল্লেখ করে সমর্থকদের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত মাঠে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

নিজস্ব প্রতিবেদক 














