ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রয়টার্সের বিশেষ প্রতিবেদনে ডা. শফিকুর রহমান; ‘দাদু ইজ কামিং’ স্লোগানে মাতোয়ারা তরুণ ভোটাররা

অখ্যাত থেকে প্রধানমন্ত্রীত্বের দৌড়ে: জামায়াত আমির ডা. শফিকুরের উত্থান-বিস্ময়

দীর্ঘদিন রাজনৈতিক আড়ালে থাকা এবং কারাবরণ করা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এখন দেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। এক সময়ের ‘নিষিদ্ধ’ সংগঠনের প্রধান থেকে তিনি এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী পদের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। ঢাকার রাজপথ থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম– সবখানেই এখন সাদা দাড়ি ও সাদা পোশাকের এই চিকিৎসকের ছবিসংবলিত বিলবোর্ড ও পোস্টার শোভা পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের এক বিশেষ বিশ্লেষণে ডা. শফিকুরের এই নাটকীয় উত্থানকে ‘রাজনৈতিক শূন্যতার সফল ব্যবহার’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

 

৬৭ বছর বয়সী ডা. শফিকুর রহমান ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে নিজেকে একজন নম্র, বিনয়ী ও সুশৃঙ্খল নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর যখন তারেক রহমান লন্ডনে এবং অনেক বড় নেতা অন্তরালে ছিলেন, তখন ডা. শফিকুর সারা দেশ চষে বেড়িয়েছেন। বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে জেন–জি (Gen-Z) তরুণদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে তিনি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। বিশেষ করে জনপ্রিয় সিরিজ ‘গেম অব থ্রোনস’-এর আদলে তৈরি তাঁর ‘দাদু ইজ কামিং’ বা ‘উইন্টার ইজ কামিং’ ধাঁচের পোস্টারগুলো তরুণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

 

জামায়াত আমিরের এই উত্থান কেবল আবেগনির্ভর নয়, বরং কৌশলগত। তিনি জামায়াতকে একটি ‘নৈতিক বিকল্প’ এবং ‘দুর্নীতিমুক্ত’ দল হিসেবে উপস্থাপন করছেন। গত ডিসেম্বরে জামায়াত জেন–জি সমর্থিত ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি’ (এনসিপি) এর সাথে নির্বাচনী জোট গড়ে নিজেদের রক্ষণশীল ভাবমূর্তি ভাঙার চেষ্টা করেছে। যদিও দলটির কোনো নারী প্রার্থী না থাকা এবং নারীদের কর্মঘণ্টা নিয়ে ডা. শফিকুরের কিছু মন্তব্য নিয়ে সমালোচনা রয়েছে, তবুও তিনি দাবি করেছেন যে তাঁর দল মধ্যপন্থী এবং কোরআনের মূলনীতি অনুযায়ী সবার জন্য সমান অধিকারে বিশ্বাসী।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শফি মোস্তফার মতে, মাত্র দুই বছরের মধ্যে একজন ‘অখ্যাত’ নেতা থেকে প্রধানমন্ত্রীত্বের দৌড়ে নাম লেখানো এক বিরল ঘটনা। ডা. শফিকুর রহমান নিজে রয়টার্সকে বলেছেন, “অভ্যুত্থানের পর আমরা আবারও সামনে আসার সুযোগ পেয়েছি।” আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াত তাদের ইতিহাসের সেরা ফলাফল করবে বলে জনমত জরিপগুলো আভাস দিচ্ছে। এই চিকিৎসক নেতার ‘দাদু’ ইমেজ শেষ পর্যন্ত ব্যালট বক্সে কতটা প্রতিফলন ঘটায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রয়টার্সের বিশেষ প্রতিবেদনে ডা. শফিকুর রহমান; ‘দাদু ইজ কামিং’ স্লোগানে মাতোয়ারা তরুণ ভোটাররা

অখ্যাত থেকে প্রধানমন্ত্রীত্বের দৌড়ে: জামায়াত আমির ডা. শফিকুরের উত্থান-বিস্ময়

Update Time : ১১:৫৩:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘদিন রাজনৈতিক আড়ালে থাকা এবং কারাবরণ করা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এখন দেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। এক সময়ের ‘নিষিদ্ধ’ সংগঠনের প্রধান থেকে তিনি এখন দেশের প্রধানমন্ত্রী পদের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। ঢাকার রাজপথ থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম– সবখানেই এখন সাদা দাড়ি ও সাদা পোশাকের এই চিকিৎসকের ছবিসংবলিত বিলবোর্ড ও পোস্টার শোভা পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স তাদের এক বিশেষ বিশ্লেষণে ডা. শফিকুরের এই নাটকীয় উত্থানকে ‘রাজনৈতিক শূন্যতার সফল ব্যবহার’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

 

৬৭ বছর বয়সী ডা. শফিকুর রহমান ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে নিজেকে একজন নম্র, বিনয়ী ও সুশৃঙ্খল নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর যখন তারেক রহমান লন্ডনে এবং অনেক বড় নেতা অন্তরালে ছিলেন, তখন ডা. শফিকুর সারা দেশ চষে বেড়িয়েছেন। বন্যা দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে জেন–জি (Gen-Z) তরুণদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে তিনি দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। বিশেষ করে জনপ্রিয় সিরিজ ‘গেম অব থ্রোনস’-এর আদলে তৈরি তাঁর ‘দাদু ইজ কামিং’ বা ‘উইন্টার ইজ কামিং’ ধাঁচের পোস্টারগুলো তরুণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

 

জামায়াত আমিরের এই উত্থান কেবল আবেগনির্ভর নয়, বরং কৌশলগত। তিনি জামায়াতকে একটি ‘নৈতিক বিকল্প’ এবং ‘দুর্নীতিমুক্ত’ দল হিসেবে উপস্থাপন করছেন। গত ডিসেম্বরে জামায়াত জেন–জি সমর্থিত ‘জাতীয় নাগরিক কমিটি’ (এনসিপি) এর সাথে নির্বাচনী জোট গড়ে নিজেদের রক্ষণশীল ভাবমূর্তি ভাঙার চেষ্টা করেছে। যদিও দলটির কোনো নারী প্রার্থী না থাকা এবং নারীদের কর্মঘণ্টা নিয়ে ডা. শফিকুরের কিছু মন্তব্য নিয়ে সমালোচনা রয়েছে, তবুও তিনি দাবি করেছেন যে তাঁর দল মধ্যপন্থী এবং কোরআনের মূলনীতি অনুযায়ী সবার জন্য সমান অধিকারে বিশ্বাসী।

 

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শফি মোস্তফার মতে, মাত্র দুই বছরের মধ্যে একজন ‘অখ্যাত’ নেতা থেকে প্রধানমন্ত্রীত্বের দৌড়ে নাম লেখানো এক বিরল ঘটনা। ডা. শফিকুর রহমান নিজে রয়টার্সকে বলেছেন, “অভ্যুত্থানের পর আমরা আবারও সামনে আসার সুযোগ পেয়েছি।” আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াত তাদের ইতিহাসের সেরা ফলাফল করবে বলে জনমত জরিপগুলো আভাস দিচ্ছে। এই চিকিৎসক নেতার ‘দাদু’ ইমেজ শেষ পর্যন্ত ব্যালট বক্সে কতটা প্রতিফলন ঘটায়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।