আসন্ন নির্বাচনকে কেবল ক্ষমতা বদল নয়, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভাগ্য নির্ধারণের লড়াই হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বেতারে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক নির্বাচনী ভাষণে তিনি দেশবাসীকে ভয়মুক্ত হয়ে ‘ইনসাফ’ বা ন্যায়ের পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। ভাষণের শুরুতে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ, শাপলা চত্বর এবং ২০২৪-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
মাওলানা মামুনুল হক তাঁর ভাষণে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কারের প্রস্তাবনাসমূহ বা ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন। তিনি আসন্ন গণভোটে দেশবাসীকে দ্ব্যর্থহীনভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সনদের কিছু পয়েন্টে দ্বিমত থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে এর চেয়ে সুন্দর বিকল্প নেই। তিনি স্পষ্ট করেন যে, খেলাফত মজলিস কেবল ক্ষমতার জন্য নয়, বরং রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ও ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য রাজনীতি করে।
তরুণ প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার অঙ্গীকার করেন মামুনুল হক। তিনি বলেন, প্রতিটি পরিবারের অন্তত একজনের উপার্জনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে এবং মুষ্টিমেয় গোষ্ঠীর বদলে কোটি তরুণের ভবিষ্যৎকে কেন্দ্র করে অর্থনৈতিক পরিকল্পনা সাজানো হবে। উদ্যোক্তা তৈরি ও বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে টেকসই কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার খোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
নারীদের অধিকার ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইসলামি মূল্যবোধের আলোকে নারীকে রাষ্ট্র গঠনের অংশীদার করা হবে। কর্মক্ষেত্রে হয়রানির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি, যৌতুক ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে কঠোর আইন এবং উত্তরাধিকার সম্পদে নারীর প্রাপ্তি শতভাগ নিশ্চিত করার ঘোষণা দেন তিনি। এছাড়া কৃষক ও শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং প্রবাসীদের জন্য বিশেষ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির কথাও উল্লেখ করেন।
ধর্মীয় ও শিক্ষানীতি প্রসঙ্গে মামুনুল হক ঘোষণা করেন, পবিত্র কোরআন ও সুন্নাহ হবে রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ নির্দেশনা। তবে রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা সংবিধান দ্বারা সুরক্ষিত থাকবে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, খতমে নবুওয়াত অস্বীকারকারী কাদিয়ানি বা আহমদিয়া সম্প্রদায়কে সরকারিভাবে ‘অমুসলিম’ ঘোষণা করা হবে, যদিও নাগরিক হিসেবে তাদের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে রাষ্ট্র। কওমি শিক্ষার মানোন্নয়নে একটি স্বাধীন ও স্বায়ত্তশাসিত ‘কওমি শিক্ষা মঞ্জুরি কমিশন’ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
সবশেষে তিনি জানান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ইশতেহারে ৫টি অধ্যায়ে ২২ দফা অঙ্গীকার করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬টি বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এই ইশতেহার বাস্তবায়নকে তিনি নিজের ‘ইমানি দায়িত্ব’ হিসেবে অভিহিত করেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 














