নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, বিএনপির ভেতরে বিদ্রোহী প্রার্থীদের নিয়ে চাপ ততই প্রকট হচ্ছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে সারা দেশের ৭৯টি সংসদীয় আসনে ৯২ জন নেতা স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী লড়াইয়ে টিকে আছেন। এদের মধ্যে অন্তত ৩০ জন প্রার্থী স্থানীয়ভাবে অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং সাবেক সংসদ সদস্য হওয়ার কারণে তাঁরা বিএনপির মূল ভোটব্যাংকে ভাগ বসানোর শক্তিশালী ক্ষমতা রাখেন। কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে বহিষ্কার এবং কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া সত্ত্বেও এই বিদ্রোহী বলয়কে দমাতে না পারা দলটির তৃণমূল সংগঠনে অস্থিরতা তৈরি করছে।
বিএনপির নীতিনির্ধারক মহলে এই বিদ্রোহ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিষয়টিকে ‘ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব’ হিসেবে দেখছেন। তিনি দাবি করেন, দলের শীর্ষ পর্যায় থেকে বিদ্রোহীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং অনেকেই সরে দাঁড়াচ্ছেন, ফলে মূল ফলাফলে এর কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন ভিন্ন কথা। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বারবার যোগাযোগের পরও যারা কথা শোনেননি, তাঁদের ইতোমধ্যেই বহিষ্কার করা হয়েছে। তাঁর বিশ্বাস, ভোটাররা ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার চেয়ে ‘ধানের শীষ’ প্রতীককেই প্রাধান্য দেবেন এবং বিদ্রোহীরা শেষ পর্যন্ত জনসমর্থন হারাবেন।
বাস্তবতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে স্থানীয় অনেক নেতাকর্মী প্রকাশ্যে বা গোপনে কাজ করছেন। ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও থানা কমিটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ বছর মাঠ পর্যায়ে কাজ করা এবং ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত এই বিদ্রোহীদের অস্তিত্ব নির্বাচনি লড়াইয়ে ধানের শীষের প্রার্থীদের বড় ধরণের ঝুঁকির মুখে ফেলছে। বিশেষ করে জোটের শরিকদের ছেড়ে দেওয়া আসনগুলোতে এই বিদ্রোহীরা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করতে পারে।
বিদ্রোহ দমনে গত ২১ জানুয়ারি একযোগে ৫৯ জন নেতাকে বহিষ্কারসহ কয়েক দফায় অসংখ্য নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিএনপি। এমনকি শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বিলুপ্ত করা হয়েছে বেশ কিছু স্থানীয় কমিটি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটারদের মাঝে ‘ধানের শীষের’ যে জোয়ার দেখা যাচ্ছে, তা বিদ্রোহী কাঁটায় কতটা বাধাগ্রস্ত হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়। বিদ্রোহীরা শেষ পর্যন্ত ভোটের লড়াইয়ে অনড় থাকলে অনেক আসনেই ভোটের সমীকরণ পাল্টে যেতে পারে।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 














