শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে উত্তাল রাজধানীর শাহবাগ মোড় এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর চড়াও হয়েছে পুলিশ। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে দফায় দফায় সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় পুলিশের বেধড়ক লাঠিচার্জে গুরুতর আহত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও ঢাকা-১৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী মহিউদ্দিন রনি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সরেজমিন সূত্রে জানা যায়, আজ বিকেল থেকেই হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে যমুনা অভিমুখে যাত্রা করার চেষ্টা করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা। প্রথম দফায় পুলিশ তাঁদের বাধা দিলে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশি হামলার প্রতিবাদে সন্ধ্যায় শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেয় ছাত্র-জনতা। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ব্যাপকভাবে লাঠিচার্জ শুরু করলে শাহবাগ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। শাহবাগের আজিজ মার্কেটের সামনে আন্দোলনকারীদের রক্ষা করতে ঢাল হয়ে দাঁড়ান মহিউদ্দিন রনি।
ভাইরাল হওয়া ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি অনুযায়ী, মহিউদ্দিন রনি পুলিশকে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা না করার অনুরোধ জানালে ৮ থেকে ১০ জন পুলিশ সদস্য তাঁকে ঘিরে ধরে বেধড়ক লাঠিপেটা করেন। একপর্যায়ে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়লেও হামলা থামেনি। এমনকি অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকার পরও একজন পুলিশ সদস্য ফিরে এসে তাঁকে লাঠি দিয়ে খোঁচা মারেন। পুলিশের এমন হিংস্র আচরণে উপস্থিত ছাত্র-জনতার মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে এক পুলিশ সদস্যের বাধায় রনিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানের বীর শহীদ হাদির বিচার চাওয়ায় তাঁদের ওপর এই বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, পুলিশের দাবি—আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতেই তাঁরা বলপ্রয়োগ করতে বাধ্য হয়েছেন। রাত পর্যন্ত শাহবাগ ও এর আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 














