আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হলে দেবিদ্বার থেকে চিরতরে চাঁদাবাজি ও অপরাধ নির্মূলের ঘোষণা দিয়েছেন কুমিল্লা-৪ আসনের আলোচিত প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দেবিদ্বার উপজেলার জাফরাবাদ গ্রামে আয়োজিত এক উঠান বৈঠকে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “১২ তারিখ সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গেই চাঁদাবাজদের চ্যাপ্টার ক্লোজড হয়ে যাবে। কোনো চাঁদাবাজ হাসনাতের সঙ্গে থাকতে পারবে না। এমনকি অপরাধমূলক কাজ করলে আমি আমার বাপকেও ছাড় দেব না।”
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এই কেন্দ্রীয় নেতা ও ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম এই সেনানী নির্বাচনী মাঠে তাঁর শক্ত অবস্থানের কথা জানান দিয়ে বলেন, “অনেকেই প্রভাবশালী ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায়নি। কিন্তু আমরা পথ দেখিয়ে দিয়েছি যে, আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে এদের রুখে দেওয়া সম্ভব। ফলে এবারের নির্বাচনে দেবিদ্বারের মাটিতে কোনো ঋণখেলাপি অংশ নিতে পারছে না।” উল্লেখ্য, হাসনাত আবদুল্লাহর আইনি চ্যালেঞ্জের কারণেই এই আসনের শক্তিশালী স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক এমপির প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে।
অতীতের নির্বাচনী অনিয়মের দিকে ইঙ্গিত করে হাসনাত বলেন, “বারেবারে ঘুঘু এসে ধান খেয়ে যাবে, সেটা আর হতে দেওয়া হবে না। ২০০৮ সালেও খেয়েছে, ২০১৮ সালেও খেয়েছে। এবারও ভেবেছিল সবাই সব ভুলে গেছে। কিন্তু তারা বোঝেনি যে হাসনাত ‘আন্তা’ (মাছ ধরার ফাঁদ) পেতে বসে আছে। সেই ফাঁদে সবাইকে ধরা পড়তে হয়েছে।” তিনি ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন, আগামী ৫ বছর তিনি দেবিদ্বারের জন্য এমন উন্নয়নমূলক কাজ করবেন যে সাধারণ মানুষ তাঁকে খুঁজে বের করবে।
এদিন সকাল থেকেই হাসনাত আবদুল্লাহ দেবিদ্বারের নবীয়াবাদ, মোহনপুর, জাফরাবাদ ও বাহ্মণখাড়া এলাকায় ব্যাপক জনসংযোগ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষস্থানীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রতিটি সভায় তিনি ‘শাপলা কলি’ প্রতীকে ভোট চেয়ে দেবিদ্বারের মানুষের অধিকার পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। মুন্সীর প্রার্থিতা বাতিলের পর নির্বাচনী মাঠে এখন হাসনাত আবদুল্লাহকেই সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে মনে করছেন স্থানীয়রা।
















