ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ঋণখেলাপি তথ্যে বিদায়ে বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী; আইনি লড়াই শেষে ‘শাপলা কলি’র সামনে বড় কোনো বাধা নেই

দেবিদ্বারে ফাঁকা মাঠে হাসনাত আব্দুল্লাহ: জয়ের পথে এনসিপি নেতা?

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর লিভ টু আপিল আপিল বিভাগ খারিজ করে দেওয়ায় তাঁর নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ চূড়ান্তভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহর সামনে এখন কোনো ‘হেভিওয়েট’ প্রতিদ্বন্দ্বী নেই বললেই চলে।

 

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) আপিল বিভাগের এই আদেশের পর দেবিদ্বারের নির্বাচনী মাঠে হাসনাত আব্দুল্লাহর জয়ের আগাম আভাস পাচ্ছেন ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য, ঋণখেলাপি সংক্রান্ত তথ্য গোপনের অভিযোগে হাসনাত আব্দুল্লাহর করা আপিলের প্রেক্ষিতেই মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন বাতিল করেছিল নির্বাচন কমিশন। উচ্চ আদালত পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়েও শেষ রক্ষা হলো না বিএনপির এই সাবেক এমপির।

 

বর্তমানে এই আসনে হাসনাতের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আবদুল করিম (হাতপাখা), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের ইরফানুল হক সরকার (আপেল) এবং গণঅধিকার পরিষদের জসিম উদ্দিন (ট্রাক)। এদিকে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ মজিবুর রহমান (দেয়াল ঘড়ি) হাসনাত আব্দুল্লাহকে সমর্থন দিয়ে মাঠ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। মাঠের ভোটারদের মতে, অবশিষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বীদের কারোই হাসনাতের সমান জনভিত্তি বা পরিচিতি নেই। সেলিম আহমেদ নামে এক স্থানীয় ভোটার বলেন, “মুন্সী সাহেব থাকলে লড়াইটা জমত, এখন হাসনাতের পথ পরিষ্কার।”

 

তবে হাল ছাড়তে নারাজ গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. জসীম উদ্দিন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “যেহেতু আমাদের দল জোটগতভাবে নির্বাচন করছে, তাই আশা করি বিএনপির ভোটাররা আমাকেই সমর্থন দেবেন। আমি শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে থাকব।” অন্যদিকে, বিএনপি নেতা মোস্তাক মিয়া জানিয়েছেন, কেন্দ্র থেকে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আসেনি; নির্দেশনা পেলে সে অনুযায়ী নেতাকর্মীরা কাজ করবেন।

 

আইনি প্যাঁচে হেভিওয়েট প্রার্থীর বিদায়ে দেবিদ্বারের নির্বাচনী লড়াই এখন অনেকটাই একপাক্ষিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ এখন বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ের স্বপ্ন দেখছেন।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

মেট্রোরেল স্টেশনে বোমা আতঙ্ক: তল্লাশির পর মিলল পান-জর্দার কৌটা

ঋণখেলাপি তথ্যে বিদায়ে বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী; আইনি লড়াই শেষে ‘শাপলা কলি’র সামনে বড় কোনো বাধা নেই

দেবিদ্বারে ফাঁকা মাঠে হাসনাত আব্দুল্লাহ: জয়ের পথে এনসিপি নেতা?

Update Time : ১১:৫২:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর লিভ টু আপিল আপিল বিভাগ খারিজ করে দেওয়ায় তাঁর নির্বাচনে অংশগ্রহণের পথ চূড়ান্তভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহর সামনে এখন কোনো ‘হেভিওয়েট’ প্রতিদ্বন্দ্বী নেই বললেই চলে।

 

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) আপিল বিভাগের এই আদেশের পর দেবিদ্বারের নির্বাচনী মাঠে হাসনাত আব্দুল্লাহর জয়ের আগাম আভাস পাচ্ছেন ভোটার ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। উল্লেখ্য, ঋণখেলাপি সংক্রান্ত তথ্য গোপনের অভিযোগে হাসনাত আব্দুল্লাহর করা আপিলের প্রেক্ষিতেই মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর মনোনয়ন বাতিল করেছিল নির্বাচন কমিশন। উচ্চ আদালত পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়েও শেষ রক্ষা হলো না বিএনপির এই সাবেক এমপির।

 

বর্তমানে এই আসনে হাসনাতের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আবদুল করিম (হাতপাখা), ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের ইরফানুল হক সরকার (আপেল) এবং গণঅধিকার পরিষদের জসিম উদ্দিন (ট্রাক)। এদিকে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মোহাম্মদ মজিবুর রহমান (দেয়াল ঘড়ি) হাসনাত আব্দুল্লাহকে সমর্থন দিয়ে মাঠ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। মাঠের ভোটারদের মতে, অবশিষ্ট প্রতিদ্বন্দ্বীদের কারোই হাসনাতের সমান জনভিত্তি বা পরিচিতি নেই। সেলিম আহমেদ নামে এক স্থানীয় ভোটার বলেন, “মুন্সী সাহেব থাকলে লড়াইটা জমত, এখন হাসনাতের পথ পরিষ্কার।”

 

তবে হাল ছাড়তে নারাজ গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. জসীম উদ্দিন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “যেহেতু আমাদের দল জোটগতভাবে নির্বাচন করছে, তাই আশা করি বিএনপির ভোটাররা আমাকেই সমর্থন দেবেন। আমি শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে থাকব।” অন্যদিকে, বিএনপি নেতা মোস্তাক মিয়া জানিয়েছেন, কেন্দ্র থেকে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আসেনি; নির্দেশনা পেলে সে অনুযায়ী নেতাকর্মীরা কাজ করবেন।

 

আইনি প্যাঁচে হেভিওয়েট প্রার্থীর বিদায়ে দেবিদ্বারের নির্বাচনী লড়াই এখন অনেকটাই একপাক্ষিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ‘শাপলা কলি’ প্রতীকের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ এখন বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়ের স্বপ্ন দেখছেন।