ছবি : সংগৃহীত
জুলাই বিপ্লবের সময় রাজধানীর ভাটারা থানায় দায়ের করা তিনটি পৃথক হত্যা মামলা থেকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৪৯৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, এই তিনটি হত্যা মামলাতেই ‘তথ্যগত ভুল’ ছিল। তদন্তে দেখা গেছে, নিহত তিন ব্যক্তি– ট্রাক চালক মো. জাহাঙ্গীর, ওয়াসা মিস্ত্রি জাকির হোসেন এবং জুতা কারখানা কর্মী রমজান মিয়া জীবনের মৃত্যুর স্থান ও সময় নিয়ে মামলার বাদীদের দেওয়া তথ্যের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিহতদের পরিবারের সদস্যরা ইতোমধ্যেই অন্য থানায় মামলা দায়ের করেছেন, যেখানে ঘটনার স্থান ও সময় ভাটারা নয় বরং ভিন্ন এলাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন, ট্রাক চালক জাহাঙ্গীরের মৃত্যু হয়েছে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় পাথর নিক্ষেপে আহত হয়ে, যার মামলা সেখানে চলমান। অথচ ভাটারা থানায় করা মামলায় দাবি করা হয়েছিল তাঁকে কুড়িল এলাকায় পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করা হয়েছে। একইভাবে জাকির হোসেনের মৃত্যু শনিরআখড়ায় এবং রমজান মিয়া জীবনের মৃত্যু গুলিস্তানে হওয়ার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে, যার বিপরীতে কদমতলী ও পল্টন থানায় পৃথক মামলা রয়েছে। ভাটারা থানার মামলায় বর্ণিত ঘটনাস্থলের কোনো সত্যতা পাননি তদন্তকারীরা।
পুলিশের এই চূড়ান্ত প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ভাটারা থানায় মামলা করা বাদীরা নিহতদের পরিবারের সদস্য নন এবং তারা তদন্তে কোনো সহযোগিতা করতে পারেননি। এমনকি জাহাঙ্গীরের পরিবার তাঁর লাশ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্ত করতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন কারণ তারা ভাটারা থানার মামলার বিষয়ে অবগত নন। এই প্রেক্ষাপটে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের ছাড়াও আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং সাবেক তিন সিইসি–সহ সব আসামিকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে। আগামী ২ মার্চ এই প্রতিবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য করেছেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত।



























