ঢাকা , রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ট্রাম্পের নির্দেশে বিশেষ অভিযান; গুরুতর অভিযোগে বিতাড়নের মুখে প্রবাসীরা

যুক্তরাষ্ট্রে ‘সবচেয়ে খারাপ’ অপরাধীদের তালিকায় ১০ বাংলাদেশি

ছবি : সংগৃহীত

 

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সাঁড়াশি অভিযানে বড় ধরণের ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশি কমিউনিটি। মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়াওর্স্ট অব দ্য ওর্স্টবাসবচেয়ে খারাপবিদেশি অপরাধীদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) পক্ষ থেকে প্রকাশিত এই তালিকায় বিভিন্ন দেশের দাগি অপরাধীদের পাশাপাশি অন্তত ১০ জন বাংলাদেশির নাম ও তাদের অপরাধের ভয়াবহ বিবরণ উঠে এসেছে।

 

হোমল্যান্ড সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ী, এই ১০ জন বাংলাদেশিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তালিকায় থাকা কাজী আবু সাঈদকে ক্যানসাস অঙ্গরাজ্য থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন হেনস্তা ও অবৈধ জুয়া পরিচালনার মতো জঘন্য অভিযোগ রয়েছে। নিউ ইয়র্ক থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মোহাম্মদ আহমেদ ও মো. হোসেনকে; তাঁদের বিরুদ্ধেও যৌন নির্যাতন ও যৌন অপরাধের অকাট্য প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে আইসিই।

 

তালিকায় মাদক ও অস্ত্র সংক্রান্ত অপরাধের আধিক্য দেখা গেছে। ভার্জিনিয়ার চ্যান্টিলি থেকে মাহতাবউদ্দিন আহমেদ এবং টেক্সাসের মার্লিন থেকে নেওয়াজ খানকে মাদক বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ইশতিয়াক রাফি নামে এক বাংলাদেশিকে ভার্জিনিয়ার মানাসাস থেকে এবং শাহেদ হাসানকে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে অস্ত্র ও চুরির অভিযোগে আটক করা হয়েছে। আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন আলমগীর চৌধুরী ও কণক পারভেজ। অন্যদিকে, ফ্লোরিডা থেকে চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন শাহরিয়া আবির।

 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশনায় স্বরাষ্ট্র দপ্তর জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিহ্নিত করছে। ডিএইচএস এক বার্তায় জানিয়েছে, আইসিই সদস্যরা প্রেসিডেন্টের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। মূলত যারা গুরুতর অপরাধে জড়িত, তাদের মাধ্যমেই বিতাড়ন (Deportation) প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রশাসন। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত সাধারণ ও শান্তিপ্রিয় বাংলাদেশিদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অস্বস্তির সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, গুটিকয়েক অপরাধীর কারণে পুরো কমিউনিটির ভাবমূর্তি সংকটে পড়তে পারে। বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃতরা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিতাড়নের অপেক্ষায় রয়েছেন।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জন্মদিনে শাকিবের ‘রকস্টার’ লুকে নেটদুনিয়ায় তোলপাড়

ট্রাম্পের নির্দেশে বিশেষ অভিযান; গুরুতর অভিযোগে বিতাড়নের মুখে প্রবাসীরা

যুক্তরাষ্ট্রে ‘সবচেয়ে খারাপ’ অপরাধীদের তালিকায় ১০ বাংলাদেশি

Update Time : ১০:৪৭:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মার্চ ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

 

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সাঁড়াশি অভিযানে বড় ধরণের ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশি কমিউনিটি। মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়াওর্স্ট অব দ্য ওর্স্টবাসবচেয়ে খারাপবিদেশি অপরাধীদের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটির (ডিএইচএস) পক্ষ থেকে প্রকাশিত এই তালিকায় বিভিন্ন দেশের দাগি অপরাধীদের পাশাপাশি অন্তত ১০ জন বাংলাদেশির নাম ও তাদের অপরাধের ভয়াবহ বিবরণ উঠে এসেছে।

 

হোমল্যান্ড সিকিউরিটির তথ্য অনুযায়ী, এই ১০ জন বাংলাদেশিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তালিকায় থাকা কাজী আবু সাঈদকে ক্যানসাস অঙ্গরাজ্য থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন হেনস্তা ও অবৈধ জুয়া পরিচালনার মতো জঘন্য অভিযোগ রয়েছে। নিউ ইয়র্ক থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মোহাম্মদ আহমেদ ও মো. হোসেনকে; তাঁদের বিরুদ্ধেও যৌন নির্যাতন ও যৌন অপরাধের অকাট্য প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে আইসিই।

 

তালিকায় মাদক ও অস্ত্র সংক্রান্ত অপরাধের আধিক্য দেখা গেছে। ভার্জিনিয়ার চ্যান্টিলি থেকে মাহতাবউদ্দিন আহমেদ এবং টেক্সাসের মার্লিন থেকে নেওয়াজ খানকে মাদক বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া ইশতিয়াক রাফি নামে এক বাংলাদেশিকে ভার্জিনিয়ার মানাসাস থেকে এবং শাহেদ হাসানকে নর্থ ক্যারোলিনা থেকে অস্ত্র ও চুরির অভিযোগে আটক করা হয়েছে। আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন আলমগীর চৌধুরী ও কণক পারভেজ। অন্যদিকে, ফ্লোরিডা থেকে চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন শাহরিয়া আবির।

 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশনায় স্বরাষ্ট্র দপ্তর জননিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ ব্যক্তিদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চিহ্নিত করছে। ডিএইচএস এক বার্তায় জানিয়েছে, আইসিই সদস্যরা প্রেসিডেন্টের প্রতিশ্রুতি রক্ষায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। মূলত যারা গুরুতর অপরাধে জড়িত, তাদের মাধ্যমেই বিতাড়ন (Deportation) প্রক্রিয়া শুরু করেছে প্রশাসন। এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত সাধারণ ও শান্তিপ্রিয় বাংলাদেশিদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অস্বস্তির সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, গুটিকয়েক অপরাধীর কারণে পুরো কমিউনিটির ভাবমূর্তি সংকটে পড়তে পারে। বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃতরা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিতাড়নের অপেক্ষায় রয়েছেন।