সংগৃহীত ছবি
ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়। শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে আকস্মিক এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে গাছচাপায় এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে এবং জেলাজুড়ে ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নিহতের নাম চাকাতি বালা, তিনি পঞ্চগড় পৌরসভার চাঁনপাড়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো রাতের খাবার শেষে নিজ ঘরে ঘুমিয়েছিলেন বৃদ্ধা চাকাতি বালা। মধ্যরাতে ঝড়ের তীব্রতা বাড়লে বসতবাড়ির পাশের একটি বিশাল গাছ উপড়ে সরাসরি তার ঘরের ওপর পড়ে। এতে তিনি ঘরের ভেতরেই চাপা পড়েন। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত গাছ কেটে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঝড়ের তাণ্ডব থেকে রেহাই পায়নি পঞ্চগড় রেল স্টেশন এলাকাও। সেখানে মইনুল ইসলাম ও খুকুমনি দম্পতি তাদের ঘরে থাকা অবস্থায় পাশের ফ্ল্যাটের একটি ইটের দেয়াল ভেঙে তাদের চালার ওপর পড়ে। দেয়াল চাপা পড়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া গড়িনাবাড়ি ইউনিয়নের দরিদ্র ঝালমুড়ি বিক্রেতা আব্দুস সালামের মতো শত শত মানুষের মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও কেড়ে নিয়েছে এই ঝড়।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, পঞ্চগড় সদর, বোদা ও আটোয়ারী উপজেলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। কয়েক শ ঘরবাড়ি ও দোকানপাট ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। ঝোড়ো বাতাসের সঙ্গে প্রবল শিলাবৃষ্টিতে মরিচ, ভুট্টা, গম ও পেঁয়াজ বীজের মতো প্রধান অর্থকরী ফসলের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। অনেক এলাকায় শিলার আঘাতে টিনের চাল ফুটো হয়ে মানবেতর অবস্থায় পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
বিপুল সংখ্যক গাছপালা উপড়ে বিদ্যুতের তারের ওপর পড়ায় জেলাজুড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। শুক্রবার রাত থেকেই ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা সড়ক থেকে গাছ অপসারণ করে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।
পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুমন চন্দ্র দাশ জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু করেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং দ্রুতই সরকারি সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা সংযোগ মেরামতে কাজ করছেন।



























