জাতিসংঘের স্থলাভিষিক্ত হতে পারে নবগঠিত ‘বোর্ড অব পিস’— মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে যোগ দেওয়ার প্রাক্কালে তিনি এই ইঙ্গিত দেন। মূলত গাজা পুনর্গঠন তদারকির লক্ষ্যে এই বোর্ড গঠনের কথা বলা হলেও সমালোচকরা মনে করছেন, এটি ৮০ বছরের পুরোনো জাতিসংঘকে পাশ কাটিয়ে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার একটি সুদূরপ্রসারী চেষ্টা।
বোর্ড অব পিসের খসড়া চার্টার অনুযায়ী, ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বোর্ডের ‘অনির্দিষ্টকালীন চেয়ারম্যান’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। অর্থাৎ হোয়াইট হাউসের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তিনি এই প্রভাবশালী পদে বহাল থাকতে পারবেন। কেবলমাত্র স্বেচ্ছায় পদত্যাগ বা বোর্ডের সকল সদস্যের সর্বসম্মত ভোটে ‘অক্ষম’ প্রমাণিত হলেই তাঁর পদ শূন্য হবে। তবে মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতের মার্কিন প্রেসিডেন্টরা এই বোর্ডে নিজেদের একজন প্রতিনিধি নিয়োগের সুযোগ পাবেন।
এই বোর্ডের সদস্যপদ লাভ নিয়েও শুরু হয়েছে নজিরবিহীন বিতর্ক। জানা গেছে, স্থায়ী সদস্যপদ পেতে আগ্রহী প্রতিটি দেশকে গুনতে হবে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার। ইতোমধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন প্রায় ৫০টি দেশকে এই বোর্ডে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে, যার মধ্যে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। তবে ফ্রান্সসহ বেশ কিছু ইউরোপীয় দেশ এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। আগামী বৃহস্পতিবার দাভোসে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
ইতোমধ্যে ঘোষিত প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের তালিকায় রয়েছেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। একদিকে গ্রিনল্যান্ড কেনার জেদ এবং অন্যদিকে জাতিসংঘের বিকল্প সংস্থা গড়ার এই পরিকল্পনা নিয়ে ইউরোপীয় মিত্র ও ন্যাটো সদস্যদের ব্যাপক চাপের মুখে রয়েছেন ট্রাম্প। গাজা পুনর্গঠনের আড়ালে এই ‘বোর্ড অব পিস’ বিশ্ব রাজনীতিতে জাতিসংঘের গুরুত্ব কতটা কমিয়ে দেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।


























