ঢাকা , রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬, ১৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
ইতিহাসের অবমূল্যায়ন রোধে প্রধানমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি

গবেষণার নামে স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতি চলবে না: প্রধানমন্ত্রী

ছবি : সংগৃহীত

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা নিয়ে গভীর আলোচনা ও গবেষণা অব্যাহত থাকবে। তবে এই গবেষণা বা কোনো মন্তব্য যেন এমন না হয়, যা দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মহান ইতিহাসের অবমূল্যায়ন ঘটায়। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

ইতিহাস ও বর্তমানের সেতুবন্ধন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী একটি তাৎপর্যপূর্ণ রূপক ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, “অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, আর অতীত ভুলে গেলে দুই চোখই অন্ধ। আমাদের অতীতকে ভুলে থাকা চলবে না, আবার অতীত নিয়ে পড়ে থাকাও যেন ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি না করে।তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সকল জাতীয় নেতার অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সকল শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সাহস জোগানো সাধারণ জনগণের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।

 

প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে শহীদ জিয়ার ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একজন সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে অনেক আগে থেকেই স্বাধীনতার স্বপ্ন লালন করতেন। তাঁর দীর্ঘ মানসিক প্রস্তুতি এবংএকটি জাতির জন্মশীর্ষক নিবন্ধটি এর বলিষ্ঠ প্রমাণ। ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চদৈনিক বাংলাপত্রিকায় প্রকাশিত ওই নিবন্ধে তিনি ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে স্বাধীনতার ঘোষণার ঘটনা নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বর্ণনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, এই নিবন্ধটি মুক্তিযুদ্ধ গবেষকদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অকাট্য দলিল হতে পারে।

 

তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধ কোনো নির্দিষ্ট একটি দলের নয়, বরং এটি ছিল একটি প্রকৃতজনযুদ্ধ লাখো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা রক্ষা করা দেশের প্রতিটি নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব। তিনি বলেন, “আমাদের আকাঙ্ক্ষা সীমাহীন হলেও সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কিন্তু আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করি, তবে স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা মোটেও অসম্ভব নয়।

 

বর্তমান সরকারের জনকল্যাণমূলক কাজের ফিরিস্তি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খাল খননসহ বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এবারের স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার হওয়া উচিত-  ‘সমাজের একটি অংশ নয়, আমরা সবাই মিলে ভালো থাকবো তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, সবাই মিলে চেষ্টা করলে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ ভালো থাকবে।

 

বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, . আব্দুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামসহ বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মন্ত্রীগণ।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

জন্মদিনে শাকিবের ‘রকস্টার’ লুকে নেটদুনিয়ায় তোলপাড়

ইতিহাসের অবমূল্যায়ন রোধে প্রধানমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি

গবেষণার নামে স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতি চলবে না: প্রধানমন্ত্রী

Update Time : ১০:১৭:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের গৌরবগাথা নিয়ে গভীর আলোচনা ও গবেষণা অব্যাহত থাকবে। তবে এই গবেষণা বা কোনো মন্তব্য যেন এমন না হয়, যা দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মহান ইতিহাসের অবমূল্যায়ন ঘটায়। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

ইতিহাস ও বর্তমানের সেতুবন্ধন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী একটি তাৎপর্যপূর্ণ রূপক ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, “অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, আর অতীত ভুলে গেলে দুই চোখই অন্ধ। আমাদের অতীতকে ভুলে থাকা চলবে না, আবার অতীত নিয়ে পড়ে থাকাও যেন ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি না করে।তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সকল জাতীয় নেতার অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী সকল শহীদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং সাহস জোগানো সাধারণ জনগণের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।

 

প্রধানমন্ত্রী বিশেষভাবে শহীদ জিয়ার ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান একজন সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে অনেক আগে থেকেই স্বাধীনতার স্বপ্ন লালন করতেন। তাঁর দীর্ঘ মানসিক প্রস্তুতি এবংএকটি জাতির জন্মশীর্ষক নিবন্ধটি এর বলিষ্ঠ প্রমাণ। ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চদৈনিক বাংলাপত্রিকায় প্রকাশিত ওই নিবন্ধে তিনি ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটে স্বাধীনতার ঘোষণার ঘটনা নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বর্ণনা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, এই নিবন্ধটি মুক্তিযুদ্ধ গবেষকদের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অকাট্য দলিল হতে পারে।

 

তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন যে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধ কোনো নির্দিষ্ট একটি দলের নয়, বরং এটি ছিল একটি প্রকৃতজনযুদ্ধ লাখো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা রক্ষা করা দেশের প্রতিটি নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব। তিনি বলেন, “আমাদের আকাঙ্ক্ষা সীমাহীন হলেও সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কিন্তু আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করি, তবে স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা মোটেও অসম্ভব নয়।

 

বর্তমান সরকারের জনকল্যাণমূলক কাজের ফিরিস্তি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খাল খননসহ বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এবারের স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার হওয়া উচিত-  ‘সমাজের একটি অংশ নয়, আমরা সবাই মিলে ভালো থাকবো তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, সবাই মিলে চেষ্টা করলে ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ ভালো থাকবে।

 

বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, . আব্দুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আজম খান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামসহ বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও মন্ত্রীগণ।