ছবি : সংগৃহীত
দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়ার আমাজন অরণ্যঘেরা দুর্গম এলাকায় একটি সামরিক পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ৩৪ জন নিহত হয়েছেন। সোমবার (২৩ মার্চ) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার খবর জানানো হয়। বিমানটিতে মোট ১২৫ জন আরোহী ছিলেন, যাদের মধ্যে ১১৪ জন সেনাসদস্য এবং ১১ জন বিমানবাহিনীর ক্রু সদস্য ছিলেন। উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়লে এই বিপুল সংখ্যক প্রাণহানি ঘটে।
কলম্বিয়া কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানটি দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের আমাজন এলাকায় অবস্থিত পুয়ের্তো লেগুইজামো থেকে উড্ডয়ন করেছিল। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই এটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘন জঙ্গলে আছড়ে পড়ে। দুর্ঘটনার পর থেকেই নিখোঁজদের সন্ধানে এবং আহতদের উদ্ধারে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে দেশটির সেনাবাহিনী। কলম্বিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত বহু আহত সেনাসদস্যকে বিধ্বস্ত বিমান থেকে উদ্ধার করে নিকটস্থ সামরিক ও বেসামরিক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে অনেক আরোহীর অবস্থা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি বলে শঙ্কা বাড়ছে।
এই ট্র্যাজেডির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো। তিনি এই ঘটনাকে একটি ‘ভয়াবহ দুর্ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট জানান, আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে আমাজনের দুর্গম এলাকা হওয়ায় এবং বৈরী ভৌগোলিক পরিবেশের কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, আহতদের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় ওই অঞ্চলের চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে পরিস্থিতি সামলাতে দ্রুত জাতীয় সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে কলম্বিয়া বিমানবাহিনী এখনো নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেনি। তবে প্রাথমিকভাবে এটি কোনো হামলা বা শত্রুভাবাপন্ন গোষ্ঠীর কাজ নয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। যান্ত্রিক ত্রুটি নাকি প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এই বিপর্যয়, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যে উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিধ্বস্ত বিমানের ব্ল্যাক বক্স উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। কলম্বিয়ার সামরিক ইতিহাসে এটি অন্যতম বড় বিমান বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক 
























