সংগৃহীত ছবি
ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা মেজর জেনারেল জামশিদ এশাগি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক শোকবার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জেনারেল এশাগি ইরানের চিফ অব জেনারেল স্টাফের উপদেষ্টা হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছিলেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা এই চাঞ্চল্যকর খবরটি প্রচার করেছে।
আইআরজিসি-র বিবৃতির বরাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, ইসরায়েলের ওই ভয়াবহ হামলায় জেনারেল এশাগির সঙ্গে তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারিয়েছেন। তবে নিরাপত্তার খাতিরে হামলার নির্দিষ্ট স্থান, সময় কিংবা ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ এখনো প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে, প্রথা অনুযায়ী এই হামলার বিষয়ে এখন পর্যন্ত ইসরায়েল সরাসরি কোনো দায় স্বীকার করেনি। তবে ইরানের সামরিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে যে, এটি একটি পরিকল্পিত ইসরায়েলি আক্রমণ ছিল।
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিন ধরে ইরানের বিভিন্ন প্রদেশে ইসরায়েলি বিমান ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। এর আগে ইসফাহান প্রদেশের সংবেদনশীল সামরিক স্থাপনায় হামলার খবর পাওয়া গিয়েছিল। জেনারেল এশাগি নিহতের আগে আইআরজিসি-র নৌবাহিনীর কমান্ডার আলিরেজা তাংসিরিও ইসরায়েলি হামলায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। একের পর এক শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তাদের টার্গেট কিলিংয়ের শিকার হওয়া ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জেনারেল এশাগির মতো উচ্চপদস্থ উপদেষ্টাকে সপরিবারে হত্যা করার ঘটনা ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধকে এক ভয়াবহ চূড়ান্ত পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারে। তেহরান ইতিমধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের কঠিন প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। বর্তমানে ইরানের আকাশসীমায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের পাল্টাহামলার আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক মহল।


























