ঢাকা , মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬, ১৭ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের শর্তে যুদ্ধের অবসান; মধ্যপ্রাচ্যে সেনা মোতায়েন

ইরানি ইউরেনিয়াম দখলে নিতে ট্রাম্পের স্থল অভিযানের পরিকল্পনা

ছবি : সংগৃহীত

 

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির লাগাম টেনে ধরতে এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মোড় ঘুরিয়ে দিতে এক দুর্ধর্ষ সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যমদ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল‘-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের দখলে থাকা প্রায় ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরাসরি মার্কিন নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনে সেখানে স্থল অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প তাঁর শীর্ষ উপদেষ্টাদের নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তেহরানের ওপর এমন চাপ তৈরি করা হয়, যাতে তারা যুদ্ধ বন্ধের অন্যতম শর্ত হিসেবে এই ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হয়।

 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরান কোনোভাবেই এই পারমাণবিক উপাদান বা ইউরেনিয়াম নিজেদের কাছে রাখতে পারবে না। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হোয়াইট হাউস এখন কেবল আকাশপথের হামলা নয়, বরং সরাসরি বিশেষায়িত স্থল সেনা পাঠিয়ে ইরানের গোপন ও সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে অভিযান চালানোর কৌশলগত দিকগুলো পর্যালোচনা করছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে অতিরিক্ত সেনা ও অত্যাধুনিক সমর সরঞ্জাম মোতায়েন শুরু হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ইঙ্গিত অনুযায়ী, যদি কূটনৈতিক পথে ইরান এই উপাদান হস্তান্তর না করে, তবে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তা ছিনিয়ে নেওয়া হতে পারে।

 

তবে পেন্টাগনের এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়ে খোদ মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেই তীব্র মতভেদ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মনে করছেন, ইরানের মাটির ভেতরে অবস্থিত এবং অত্যন্ত সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে স্থল অভিযান চালানো হবে চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এতে করে আমেরিকান সেনাদের বড় ধরণের প্রাণহানি ঘটার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এক নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের ভূখণ্ডে এ ধরনের পদক্ষেপের অর্থ হবে সরাসরি মহাযুদ্ধের আমন্ত্রণ জানানো, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে।

 

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যদি যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অগ্রসর হয়, তবে হিজবুল্লাহ, হুথি এবং অন্যান্য ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলোও একযোগে বড় ধরণের পাল্টা আক্রমণ শুরু করবে। এতে কেবল ইরান নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক দীর্ঘস্থায়ী ও বিধ্বংসী সংঘাতের কবলে পড়বে। এখন দেখার বিষয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁরম্যাক্সিমাম প্রেশারবা সর্বোচ্চ চাপের নীতিকে কতদূর নিয়ে যান এবং তেহরান এই অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে কী ধরণের কৌশল অবলম্বন করে। বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলো এবং জাতিসংঘ এই পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে, কারণ সামান্য একটি ভুল পদক্ষেপ ডেকে আনতে পারে বৈশ্বিক বিপর্যয়।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

দুপুরের মধ্যে ঢাকায় বজ্রবৃষ্টির আভাস

৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম হস্তান্তরের শর্তে যুদ্ধের অবসান; মধ্যপ্রাচ্যে সেনা মোতায়েন

ইরানি ইউরেনিয়াম দখলে নিতে ট্রাম্পের স্থল অভিযানের পরিকল্পনা

Update Time : ১০:৪৯:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

ছবি : সংগৃহীত

 

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির লাগাম টেনে ধরতে এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের মোড় ঘুরিয়ে দিতে এক দুর্ধর্ষ সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যমদ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল‘-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানের দখলে থাকা প্রায় ৪০০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরাসরি মার্কিন নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার জন্য প্রয়োজনে সেখানে স্থল অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। ট্রাম্প তাঁর শীর্ষ উপদেষ্টাদের নির্দেশ দিয়েছেন যাতে তেহরানের ওপর এমন চাপ তৈরি করা হয়, যাতে তারা যুদ্ধ বন্ধের অন্যতম শর্ত হিসেবে এই ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হয়।

 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরান কোনোভাবেই এই পারমাণবিক উপাদান বা ইউরেনিয়াম নিজেদের কাছে রাখতে পারবে না। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হোয়াইট হাউস এখন কেবল আকাশপথের হামলা নয়, বরং সরাসরি বিশেষায়িত স্থল সেনা পাঠিয়ে ইরানের গোপন ও সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে অভিযান চালানোর কৌশলগত দিকগুলো পর্যালোচনা করছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে অতিরিক্ত সেনা ও অত্যাধুনিক সমর সরঞ্জাম মোতায়েন শুরু হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ইঙ্গিত অনুযায়ী, যদি কূটনৈতিক পথে ইরান এই উপাদান হস্তান্তর না করে, তবে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তা ছিনিয়ে নেওয়া হতে পারে।

 

তবে পেন্টাগনের এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা নিয়ে খোদ মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেই তীব্র মতভেদ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মনে করছেন, ইরানের মাটির ভেতরে অবস্থিত এবং অত্যন্ত সুরক্ষিত পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে স্থল অভিযান চালানো হবে চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এতে করে আমেরিকান সেনাদের বড় ধরণের প্রাণহানি ঘটার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এক নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের ভূখণ্ডে এ ধরনের পদক্ষেপের অর্থ হবে সরাসরি মহাযুদ্ধের আমন্ত্রণ জানানো, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বিশ্ব অর্থনীতি ও তেলের বাজারে।

 

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যদি যুক্তরাষ্ট্র সত্যিই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অগ্রসর হয়, তবে হিজবুল্লাহ, হুথি এবং অন্যান্য ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলোও একযোগে বড় ধরণের পাল্টা আক্রমণ শুরু করবে। এতে কেবল ইরান নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক দীর্ঘস্থায়ী ও বিধ্বংসী সংঘাতের কবলে পড়বে। এখন দেখার বিষয়, ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁরম্যাক্সিমাম প্রেশারবা সর্বোচ্চ চাপের নীতিকে কতদূর নিয়ে যান এবং তেহরান এই অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে কী ধরণের কৌশল অবলম্বন করে। বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলো এবং জাতিসংঘ এই পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখছে, কারণ সামান্য একটি ভুল পদক্ষেপ ডেকে আনতে পারে বৈশ্বিক বিপর্যয়।