সংগৃহীত ছবি
ইরানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সম্ভাব্য স্থল অভিযান শুরু হলে দেশটিতে সেনা মোতায়েনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়ার চেচেন প্রজাতন্ত্রের সামরিক বাহিনী।
মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ‘প্রেস টিভি’ এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চেচেন প্রজাতন্ত্রের প্রধান রমজান কাদিরভের অনুগত বিশেষ বাহিনীগুলো ইরানের পাশে দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াই করতে নিজেদের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরানে মার্কিন বিমান হামলা কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ার পর, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে পেন্টাগন এখন সীমিত পরিসরে স্থল অভিযানের পরিকল্পনা করছে। পেন্টাগনের এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় চেচেন বাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে চলমান এই যুদ্ধকে একটি ‘ধর্মীয় যুদ্ধ’ বা ‘জিহাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তারা এই লড়াইকে ‘ভালোর পক্ষে ও মন্দের বিরুদ্ধে’ সংগ্রাম হিসেবে উল্লেখ করে ইরানকে রক্ষার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা চলাকালীন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডার হত্যাকাণ্ডের শিকার হলে এই যুদ্ধের সূত্রপাত হয়। প্রেস টিভির তথ্যমতে, এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এখন পর্যন্ত অন্তত ৮৬ দফা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এসব হামলা মূলত ইসরায়েলের কৌশলগত সামরিক স্থাপনা এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন করা মার্কিন ঘাঁটি ও সম্পদের ওপর পরিচালিত হয়েছে।
ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চেচেন বাহিনীর এই ঘোষণা সংঘাতের মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে ইউক্রেনীয় বাহিনীর সরব উপস্থিতি—যারা প্রকাশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে সমর্থন দিচ্ছে—তা বিষয়টিকে রাশিয়ার জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।
চেচেনদের এই সম্পৃক্ততা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ এখন মস্কো ও কিয়েভের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সঙ্গেও জড়িয়ে যেতে পারে। রাশিয়ার এই শক্তিশালী প্রক্সি ফোর্সের অংশগ্রহণ যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য নতুন এক সমর-চ্যালেঞ্জ তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
























