দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা অবৈধ ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর দৌরাত্ম্য কমাতে এবং বকেয়া রাজস্ব আদায়ে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে সরকার।
নিবন্ধন সনদ ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ সনদ নবায়ন না করায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়েছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়। আজ মঙ্গলবার এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা জারি করা হয়।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বর্তমানে অসংখ্য ট্রাভেল এজেন্সি কোনো প্রকার বৈধ সনদ ছাড়াই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া অনেক পুরনো এজেন্সির নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও তারা তা নবায়ন করছে না। এর ফলে সরকার প্রতি বছর বিশাল অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৩, সংশোধিত আইন ২০২১ এবং ২০২২ সালের বিধিমালা অনুযায়ী—বৈধ নিবন্ধন বা নবায়নকৃত সনদ ব্যতীত কোনো ধরনের ট্রাভেল ব্যবসা পরিচালনা করা সম্পূর্ণ আইনবিരുദ്ധ ও দণ্ডনীয় অপরাধ।
মন্ত্রণালয় আরও উল্লেখ করেছে যে, রাজস্ব ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবং এই খাতকে একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমের (OTAMS) মাধ্যমে দ্রুত নিবন্ধনের আবেদন করতে হবে। যেসব ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মেয়াদোত্তীর্ণ সনদ নিয়ে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন, তাদের অনতিবিলম্বে বকেয়া ফিসহ নবায়নের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে এই নির্দেশ পালন না করলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে অবৈধ এজেন্সি সিলগালা করা, লাইসেন্স বাতিল এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অর্থদণ্ডসহ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে। মূলত পর্যটন খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং সাধারণ যাত্রীদের প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা করতেই এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।


























