ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রথম ১ হাজার দিনে কম চিনিতে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি হ্রাস

গর্ভাবস্থায় চিনি বাদ দিলে শিশুর স্বাস্থ্যে কী প্রভাব পড়ে?

ছবি এআই দিয়ে তৈরি।

 

বর্তমান সময়ে ফিটনেস ও দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার কথা ভেবে অনেকেই দৈনিক খাদ্যতালিকা থেকে অতিরিক্ত চিনি বাদ দিচ্ছেন। বিশেষ করে সন্তানধারণের পর অনেক মা-ই গর্ভাবস্থায় চিনি খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দেন বা পুরোপুরি এড়িয়ে চলেন। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে পরিচালিত এক যুগান্তকারী গবেষণায় উঠে এসেছে অত্যন্ত চমকপ্রদ তথ্য—গর্ভাবস্থা থেকে শুরু করে শিশুর জীবনের প্রথম দুই বছর (১,০০০ দিন) খাবারে অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চললে পরবর্তীতে ওই শিশুর মস্তিষ্কের গঠন ও স্বাস্থ্য বহুগুণ ভালো থাকে।

 

 

ভারতের বিখ্যাত নিউরোলজিস্ট ডা. সুধীর কুমার গবেষণাটির ফলাফল বিশ্লেষণ করে জানান, জীবনের প্রথম ১,০০০ দিনে কম চিনি গ্রহণ করা শিশুদের ক্ষেত্রে বয়সের সাথে সাথে অ্যালঝেইমার রোগের ঝুঁকি সর্বোচ্চ ৪৬ শতাংশ এবং যেকোনো ধরনের ডিমেনশিয়ার (স্মৃতিভ্রংশ) ঝুঁকি প্রায় ২৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। শুধু তাই নয়, এসব ব্যক্তির ক্ষেত্রে পরবর্তী জীবনে বিষণ্নতার ঝুঁকি ১১ শতাংশ এবং উদ্বেগের (Anxiety) ঝুঁকি ২০ শতাংশ কম দেখা গেছে।

 

 

গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের এমআরআই (MRI) স্ক্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জীবনের শুরুতে চিনি গ্রহণ সীমিত ছিল যাদের, তাদের মস্তিষ্কের বয়স বাড়ার প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতির। এছাড়া তাদের মস্তিষ্কে মোট ‘গ্রে ম্যাটার’-এর পরিমাণ বেশি, স্মৃতির জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ ‘হিপোক্যাম্পাস’ এবং ‘থ্যালামাস’-এর আয়তনও স্বাভাবিকের চেয়ে বড় ও উন্নত পাওয়া গেছে।

 

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত চিনি খেলে মায়ের দেহে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ ও প্রদাহ তৈরি হয়; যা গর্ভের শিশু ও নবজাতকের স্নায়বিক সংযোগ বিকাশে বাধার সৃষ্টি করে। অন্যদিকে শৈশবে কম মিষ্টি খাবারে অভ্যস্ত শিশু বড় হয়েও প্রক্রিয়াজাত বা অতিরিক্ত মিষ্টি খাবারের প্রতি কম আকর্ষণ অনুভব করে। যা তাকে ভবিষ্যতে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো দূরারোগ্য রোগ থেকেও মুক্ত রাখতে সাহায্য করে।

 

 

বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট বার্তা, জীবনের প্রথম এই ১,০০০ দিন শিশুর সুস্থ মস্তিষ্কের ভিত গড়ে তোলার সেরা সময়। তাই এই সময়ে শিশুদের ও গর্ভবতী মায়েদের খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত চিনির ব্যবহার কমানো ভবিষ্যতের এক নিরোগ জীবনের জন্য অত্যন্ত কার্যকারী পদক্ষেপ।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রথম ১ হাজার দিনে কম চিনিতে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি হ্রাস

গর্ভাবস্থায় চিনি বাদ দিলে শিশুর স্বাস্থ্যে কী প্রভাব পড়ে?

Update Time : ০৬:২৩:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

ছবি এআই দিয়ে তৈরি।

 

বর্তমান সময়ে ফিটনেস ও দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার কথা ভেবে অনেকেই দৈনিক খাদ্যতালিকা থেকে অতিরিক্ত চিনি বাদ দিচ্ছেন। বিশেষ করে সন্তানধারণের পর অনেক মা-ই গর্ভাবস্থায় চিনি খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দেন বা পুরোপুরি এড়িয়ে চলেন। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে পরিচালিত এক যুগান্তকারী গবেষণায় উঠে এসেছে অত্যন্ত চমকপ্রদ তথ্য—গর্ভাবস্থা থেকে শুরু করে শিশুর জীবনের প্রথম দুই বছর (১,০০০ দিন) খাবারে অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চললে পরবর্তীতে ওই শিশুর মস্তিষ্কের গঠন ও স্বাস্থ্য বহুগুণ ভালো থাকে।

 

 

ভারতের বিখ্যাত নিউরোলজিস্ট ডা. সুধীর কুমার গবেষণাটির ফলাফল বিশ্লেষণ করে জানান, জীবনের প্রথম ১,০০০ দিনে কম চিনি গ্রহণ করা শিশুদের ক্ষেত্রে বয়সের সাথে সাথে অ্যালঝেইমার রোগের ঝুঁকি সর্বোচ্চ ৪৬ শতাংশ এবং যেকোনো ধরনের ডিমেনশিয়ার (স্মৃতিভ্রংশ) ঝুঁকি প্রায় ২৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। শুধু তাই নয়, এসব ব্যক্তির ক্ষেত্রে পরবর্তী জীবনে বিষণ্নতার ঝুঁকি ১১ শতাংশ এবং উদ্বেগের (Anxiety) ঝুঁকি ২০ শতাংশ কম দেখা গেছে।

 

 

গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের মস্তিষ্কের এমআরআই (MRI) স্ক্যান বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জীবনের শুরুতে চিনি গ্রহণ সীমিত ছিল যাদের, তাদের মস্তিষ্কের বয়স বাড়ার প্রক্রিয়া অত্যন্ত ধীরগতির। এছাড়া তাদের মস্তিষ্কে মোট ‘গ্রে ম্যাটার’-এর পরিমাণ বেশি, স্মৃতির জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ ‘হিপোক্যাম্পাস’ এবং ‘থ্যালামাস’-এর আয়তনও স্বাভাবিকের চেয়ে বড় ও উন্নত পাওয়া গেছে।

 

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত চিনি খেলে মায়ের দেহে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, রক্তে অতিরিক্ত গ্লুকোজ ও প্রদাহ তৈরি হয়; যা গর্ভের শিশু ও নবজাতকের স্নায়বিক সংযোগ বিকাশে বাধার সৃষ্টি করে। অন্যদিকে শৈশবে কম মিষ্টি খাবারে অভ্যস্ত শিশু বড় হয়েও প্রক্রিয়াজাত বা অতিরিক্ত মিষ্টি খাবারের প্রতি কম আকর্ষণ অনুভব করে। যা তাকে ভবিষ্যতে টাইপ-২ ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো দূরারোগ্য রোগ থেকেও মুক্ত রাখতে সাহায্য করে।

 

 

বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট বার্তা, জীবনের প্রথম এই ১,০০০ দিন শিশুর সুস্থ মস্তিষ্কের ভিত গড়ে তোলার সেরা সময়। তাই এই সময়ে শিশুদের ও গর্ভবতী মায়েদের খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত চিনির ব্যবহার কমানো ভবিষ্যতের এক নিরোগ জীবনের জন্য অত্যন্ত কার্যকারী পদক্ষেপ।