সংগৃহীত ছবি
শীতাতপনিয়ন্ত্রিত সুসজ্জিত ঘরে চেয়ার-টেবিলে বসে একটানা কাজ করাকে আপাতদৃষ্টিতে আরামদায়ক মনে হলেও এর নেপথ্যে গড়ে উঠছে মারাত্মক এক স্বাস্থ্যঝুঁকি। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, দীর্ঘক্ষণ একই স্থানে বসে কাজ করার এই প্রবণতা মানবদেহে নিঃশব্দ ঘাতক হিসেবে কাজ করছে।
ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ডেস্কে বসে দীর্ঘ সময় স্থবির হয়ে কাজ করার ফলে হৃদরোগ, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, লিভারের নানা জটিলতা এবং অকালমৃত্যুর ঝুঁকি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিশেষ করে ৩০ থেকে ৪০ বছর বয়সী কর্মজীবী পেশাজীবীদের মধ্যে এই স্বাস্থ্যগত জটিলতা সবচেয়ে বেশি প্রকট হয়ে উঠছে।
চিকিৎসকদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দৈনিক টানা ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা এক জায়গায় বসে থাকলে শারীরিক কসরত এক প্রকার বন্ধ হয়ে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে মানবদেহের রক্ত সঞ্চালন প্রক্রিয়ায়। রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিকের চেয়ে কমে যাওয়ায় পেশি দুর্বল হতে শুরু করে এবং শরীরের স্বাভাবিক বিপাকক্রিয়া (Metabolism) মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। এর পাশাপাশি দীর্ঘসময় ল্যাপটপ বা কম্পিউটারের পর্দার দিকে একটানা তাকিয়ে কাজ করার ফলে যে মানসিক চাপের সৃষ্টি হয়, তা দেহে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয়। ফলশ্রুতিতে রক্তে ইনসুলিনের মাত্রা অস্বাভাবিক হারে ওঠানামা করে, যা স্থূলতা বা স্থূল কায়তা, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসের পথ সুগম করে। এসব শারীরিক উপাদানই পরবর্তীতে আকস্মিক হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখা দেয়।
তবে দৈনন্দিন কাজের ধরণ পরিবর্তন না করেও সামান্য সচেতনতার মাধ্যমে এই বড় ধরনের ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। দিনে ৭ থেকে ১০ হাজার পা হাঁটার অভ্যাস অত্যন্ত উপকারী হলেও, সকালে বা বিকেলে মাত্র ৪০ মিনিট হেঁটে সারাদিন টানা বসে থাকলে স্বাস্থ্যঝুঁকি পুরোপুরি দূর হয় না। তাই কাজের ফাঁকেই শরীরকে সচল রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
ঝুঁকি এড়াতে প্রতি ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা পরপর চেয়ার ছেড়ে উঠে অন্তত ২ থেকে ৩ মিনিট একটু পায়চারি করা উচিত। এ ছাড়া ডেস্কে বসেই মাঝেমধ্যে হাত-পা কিছুটা প্রসারিত বা স্ট্রেচিং করে নিলে রক্তের প্রবাহ স্বাভাবিক থাকে। একই সঙ্গে অফিস শেষে অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। কর্মঘণ্টার পুরো সময় স্থবির না থেকে কাজের মাঝেই শরীরকে সামান্য গতিশীল রাখাই পারে জীবনঘাতী এসব রোগ থেকে মুক্তি দিতে।
সূত্র : আনন্দবাজার

















