ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মানসিক ধাক্কা সামলে ওঠার ৫ কৌশল জানালেন মনোবিজ্ঞানী

ব্রেকআপের প্রথম সপ্তাহে কী করবেন? মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শ

ছবি এআই দিয়ে তৈরি।

 

একটি সম্পর্কের ইতি টানা সবসময়ই গভীর আবেগীয় ও কষ্টের বিষয়। কিন্তু সেই বিচ্ছেদের পর তৈরি হওয়া পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে। চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রেকআপের পর প্রথম সপ্তাহটিই একজন ব্যক্তির জীবনের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও কঠিন সময়। এই সময়টাতে অনেকে আবেগের তাড়নায় হুটহাট নানা ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন, যা পরবর্তীতে বড় ধরনের বিপদ বা মানসিক ট্রমার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই সংকটময় মুহূর্তগুলো সামলে নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন প্রখ্যাত মনোবিজ্ঞানী শিরিন দারগান।

 

 

মনোবিদদের মতে, একটি সম্পর্কের সমাপ্তি মানে কেবল একজন মানুষকে জীবন থেকে হারিয়ে ফেলা নয়; বরং এর সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রতিদিনের অভ্যাস, ভবিষ্যতের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং নিজের প্রতি অর্জিত বিশ্বাসেও বড় ধাক্কা লাগে। ফলে বিচ্ছেদের প্রাথমিক দিনগুলোতে মানুষের মধ্যে তীব্র মানসিক অস্থিরতা কাজ করে। কখনো অঝোরে কান্না, কখনো তীব্র ক্ষোভ বা রাগ, আবার কখনো অতীত সম্পর্কের কাছে ফিরে যাওয়ার ব্যাকুলতা একসাথে কাজ করতে থাকে। এই অবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে ভুলে যাওয়া বা দ্রুত ‘মুভ অন’ করার জন্য নিজেকে চাপ দেওয়া উচিত নয়। বরং এই সময়টির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নিজেকে ধীরে ধীরে স্থির করা এবং মানসিক চাপ সামলানোর জন্য নিজের ভেতরে সুস্থ পরিবেশ তৈরি করা।

 

 

প্রথম সপ্তাহের এই সংকট কাটাতে মনোবিজ্ঞানী শিরিন দারগান ৫টি বিশেষ কৌশলের কথা উল্লেখ করেছেন। প্রথমত, নিজের শারীরিক ও মানসিক যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। মানসিক চাপের সঙ্গে শারীরিক ক্লান্তি যুক্ত হলে উদ্বেগ বহু গুণে বেড়ে যায়, তাই কষ্ট হলেও নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং হালকা হাঁটার অভ্যাস রাখা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, অনুভূতিগুলোকে জোর করে দমন না করে তা প্রকাশ করতে হবে। প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট একটি নির্দিষ্ট সময় নিয়ে মনের জমে থাকা কষ্টের কথা ডায়েরিতে লেখা কিংবা কাঁদার মাধ্যমে আবেগ পরিষ্কার করা যেতে পারে। তৃতীয়ত, প্রাক্তনের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল দেখা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে। পুরোনো মেসেজ, ছবি বা অনলাইন উপস্থিতি বারবার দেখলে মনের ক্ষত নতুন করে জেগে ওঠে, তাই সাময়িকভাবে তাঁকে মিউট বা আনফলো করে রাখা বুদ্ধিমত্তার কাজ।

 

 

এ ছাড়া এই কঠিন সময়ে নিজেকে সম্পূর্ণ একাকী না রেখে পরিবার বা বিশ্বস্ত বন্ধুদের সঙ্গ বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে নেতিবাচক চিন্তার চক্র তৈরি হতে না পারে। পাশাপাশি আবেগের বশে হুট করে চাকরি ছেড়ে দেওয়া, নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া কিংবা প্রাক্তনকে বারবার কল-মেসেজ দেওয়ার মতো কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে বিচ্ছেদজনিত বিষন্নতা, ঘুম বা খাওয়ার অনিয়ম যদি দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেয় কিংবা মনে কোনো আত্মঘাতী চিন্তা আসে, তবে কোনো রকম সংকোচ না করে দ্রুত পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। বিচ্ছেদের প্রথম সপ্তাহটা কাউকে ভুলে যাওয়ার কোনো প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি নিজের যত্ন নেওয়া ও নিজেকে পুনরায় শক্ত করার প্রথম পদক্ষেপ।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মানসিক ধাক্কা সামলে ওঠার ৫ কৌশল জানালেন মনোবিজ্ঞানী

ব্রেকআপের প্রথম সপ্তাহে কী করবেন? মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শ

Update Time : ০৯:৩০:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ছবি এআই দিয়ে তৈরি।

 

একটি সম্পর্কের ইতি টানা সবসময়ই গভীর আবেগীয় ও কষ্টের বিষয়। কিন্তু সেই বিচ্ছেদের পর তৈরি হওয়া পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি আরও বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে ওঠে। চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রেকআপের পর প্রথম সপ্তাহটিই একজন ব্যক্তির জীবনের সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও কঠিন সময়। এই সময়টাতে অনেকে আবেগের তাড়নায় হুটহাট নানা ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন, যা পরবর্তীতে বড় ধরনের বিপদ বা মানসিক ট্রমার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই সংকটময় মুহূর্তগুলো সামলে নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন প্রখ্যাত মনোবিজ্ঞানী শিরিন দারগান।

 

 

মনোবিদদের মতে, একটি সম্পর্কের সমাপ্তি মানে কেবল একজন মানুষকে জীবন থেকে হারিয়ে ফেলা নয়; বরং এর সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রতিদিনের অভ্যাস, ভবিষ্যতের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং নিজের প্রতি অর্জিত বিশ্বাসেও বড় ধাক্কা লাগে। ফলে বিচ্ছেদের প্রাথমিক দিনগুলোতে মানুষের মধ্যে তীব্র মানসিক অস্থিরতা কাজ করে। কখনো অঝোরে কান্না, কখনো তীব্র ক্ষোভ বা রাগ, আবার কখনো অতীত সম্পর্কের কাছে ফিরে যাওয়ার ব্যাকুলতা একসাথে কাজ করতে থাকে। এই অবস্থায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে ভুলে যাওয়া বা দ্রুত ‘মুভ অন’ করার জন্য নিজেকে চাপ দেওয়া উচিত নয়। বরং এই সময়টির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নিজেকে ধীরে ধীরে স্থির করা এবং মানসিক চাপ সামলানোর জন্য নিজের ভেতরে সুস্থ পরিবেশ তৈরি করা।

 

 

প্রথম সপ্তাহের এই সংকট কাটাতে মনোবিজ্ঞানী শিরিন দারগান ৫টি বিশেষ কৌশলের কথা উল্লেখ করেছেন। প্রথমত, নিজের শারীরিক ও মানসিক যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। মানসিক চাপের সঙ্গে শারীরিক ক্লান্তি যুক্ত হলে উদ্বেগ বহু গুণে বেড়ে যায়, তাই কষ্ট হলেও নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত ঘুম এবং হালকা হাঁটার অভ্যাস রাখা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, অনুভূতিগুলোকে জোর করে দমন না করে তা প্রকাশ করতে হবে। প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ মিনিট একটি নির্দিষ্ট সময় নিয়ে মনের জমে থাকা কষ্টের কথা ডায়েরিতে লেখা কিংবা কাঁদার মাধ্যমে আবেগ পরিষ্কার করা যেতে পারে। তৃতীয়ত, প্রাক্তনের সোশ্যাল মিডিয়া প্রোফাইল দেখা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে। পুরোনো মেসেজ, ছবি বা অনলাইন উপস্থিতি বারবার দেখলে মনের ক্ষত নতুন করে জেগে ওঠে, তাই সাময়িকভাবে তাঁকে মিউট বা আনফলো করে রাখা বুদ্ধিমত্তার কাজ।

 

 

এ ছাড়া এই কঠিন সময়ে নিজেকে সম্পূর্ণ একাকী না রেখে পরিবার বা বিশ্বস্ত বন্ধুদের সঙ্গ বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাতে নেতিবাচক চিন্তার চক্র তৈরি হতে না পারে। পাশাপাশি আবেগের বশে হুট করে চাকরি ছেড়ে দেওয়া, নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়া কিংবা প্রাক্তনকে বারবার কল-মেসেজ দেওয়ার মতো কোনো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে বিচ্ছেদজনিত বিষন্নতা, ঘুম বা খাওয়ার অনিয়ম যদি দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেয় কিংবা মনে কোনো আত্মঘাতী চিন্তা আসে, তবে কোনো রকম সংকোচ না করে দ্রুত পেশাদার মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। বিচ্ছেদের প্রথম সপ্তাহটা কাউকে ভুলে যাওয়ার কোনো প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি নিজের যত্ন নেওয়া ও নিজেকে পুনরায় শক্ত করার প্রথম পদক্ষেপ।