ঢাকা , বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মহাসড়কে ঘরমুখো শ্রমিকের ভিড়, ঈদের মতো বাড়েনি বাস

গাজীপুরে তীব্র গ্যাস-সংকটে কারখানায় টানা তিন দিনের ছুটি

সংগৃহীত ছবি

 

দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পনগরী গাজীপুরে তীব্র গ্যাস-সংকটের কারণে প্রায় ১৭ থেকে ১৮ শতাংশ শিল্পকারখানায় টানা তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। আর এতে বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল থেকেই ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে আচমকা ঘরমুখো শ্রমিকদের উপচে পড়া ভিড় তৈরি হয়েছে। বাড়তি যাত্রীর তীব্র চাপে মহাসড়কে বাস সংকট, থামাকুড়ি যানজট ও দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠে এসেছে।

 

 

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ও শুক্রবার সরকারি ছুটি থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় মাঝখানের বৃহস্পতিবার ১৭ থেকে ১৮ শতাংশ কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে টানা তিন দিনের ছুটি পেয়ে লাখ লাখ পোশাক ও টেক্সটাইল শ্রমিক গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন।

 

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা, চন্দ্রা ত্রিমোড়, সফিপুর, কোনাবাড়ী ও শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ঈদের মতো ঘরমুখো মানুষের তিল ধারণের ঠাঁই নেই। যাত্রীর চাপ বাসে জায়গা না পেয়ে অনেকেই সিএনজিচালিত ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে চড়া ভাড়ায় গন্তব্যে রওনা হন। গাজীপুর মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ জানায়, মঙ্গলবার বিকেল থেকেই মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয় এবং বুধবার সকাল পর্যন্ত থেমে থেমে যান চলাচল করে।

 

 

পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ভোগড়া চৌরাস্তার ‘স্টাইলিশ গার্মেন্টস লিমিটেড’-এর চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন চৌধুরী জানান, গ্যাস-সংকটের কারণে দিন দিন রপ্তানি আদেশ হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতেই এই তিন দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছে।

 

 

এদিকে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় সাড়ে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো। ফলে জেলাজুড়ে প্রায় ৪৫ শতাংশ গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। তিতাসের সিস্টেম অপারেশন শাখার কর্মকর্তা মো. সাইফুজ্জামান জানান, প্রয়োজনীয় চাপ বজায় রাখা সম্ভব না হওয়ায় বিশেষ করে কালিয়াকৈর, শ্রীপুর ও টঙ্গী বিসিক শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোর উৎপাদন মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। সংকট নিরসনে দ্রুত কাজ চলছে বলে জানিয়েছে তিতাস।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজীপুরে তীব্র গ্যাস-সংকটে কারখানায় টানা তিন দিনের ছুটি

মহাসড়কে ঘরমুখো শ্রমিকের ভিড়, ঈদের মতো বাড়েনি বাস

গাজীপুরে তীব্র গ্যাস-সংকটে কারখানায় টানা তিন দিনের ছুটি

Update Time : ০৯:০১:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পনগরী গাজীপুরে তীব্র গ্যাস-সংকটের কারণে প্রায় ১৭ থেকে ১৮ শতাংশ শিল্পকারখানায় টানা তিন দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। আর এতে বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল থেকেই ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে আচমকা ঘরমুখো শ্রমিকদের উপচে পড়া ভিড় তৈরি হয়েছে। বাড়তি যাত্রীর তীব্র চাপে মহাসড়কে বাস সংকট, থামাকুড়ি যানজট ও দ্বিগুণ ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠে এসেছে।

 

 

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ও শুক্রবার সরকারি ছুটি থাকায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় মাঝখানের বৃহস্পতিবার ১৭ থেকে ১৮ শতাংশ কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফলে টানা তিন দিনের ছুটি পেয়ে লাখ লাখ পোশাক ও টেক্সটাইল শ্রমিক গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন।

 

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা, চন্দ্রা ত্রিমোড়, সফিপুর, কোনাবাড়ী ও শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ঈদের মতো ঘরমুখো মানুষের তিল ধারণের ঠাঁই নেই। যাত্রীর চাপ বাসে জায়গা না পেয়ে অনেকেই সিএনজিচালিত ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে চড়া ভাড়ায় গন্তব্যে রওনা হন। গাজীপুর মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ জানায়, মঙ্গলবার বিকেল থেকেই মহাসড়কগুলোতে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয় এবং বুধবার সকাল পর্যন্ত থেমে থেমে যান চলাচল করে।

 

 

পোশাক খাতের প্রবৃদ্ধির বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ভোগড়া চৌরাস্তার ‘স্টাইলিশ গার্মেন্টস লিমিটেড’-এর চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন চৌধুরী জানান, গ্যাস-সংকটের কারণে দিন দিন রপ্তানি আদেশ হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতেই এই তিন দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছে।

 

 

এদিকে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় সাড়ে ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট হলেও বর্তমানে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো। ফলে জেলাজুড়ে প্রায় ৪৫ শতাংশ গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। তিতাসের সিস্টেম অপারেশন শাখার কর্মকর্তা মো. সাইফুজ্জামান জানান, প্রয়োজনীয় চাপ বজায় রাখা সম্ভব না হওয়ায় বিশেষ করে কালিয়াকৈর, শ্রীপুর ও টঙ্গী বিসিক শিল্পাঞ্চলের কারখানাগুলোর উৎপাদন মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। সংকট নিরসনে দ্রুত কাজ চলছে বলে জানিয়েছে তিতাস।