ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বিএনপি কার্যালয়ে ৫ লাখ জরিমানা, ওসি বললেন বেআইনি

কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, সালিশে গ্রামছাড়ার নির্দেশ

কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া

 

নেত্রকোনা সদর উপজেলায় ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমের পরিচিত মুখ ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার (রিপন ভিডিও) বিরুদ্ধে। তবে এই জঘন্য ফৌজদারি অপরাধের ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ধামাচাপা দিতে বিএনপি কার্যালয়ে গ্রাম্য সালিশ বসানোর চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সেখানে রিপন মিয়াকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং এলাকাছাড়া করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে এই বিচার নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও সুশীল সমাজে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পেশায় কাঠমিস্ত্রি হলেও বেশ কয়েক বছর ধরে ফেসবুক ও ইউটিউবে কমেডি কনটেন্ট বানিয়ে জনপ্রিয়তা পান দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামের রিপন মিয়া। অভিযোগ উঠে, গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রতিবেশী দিনমজুর দম্পতির কিশোরী মেয়েটিকে একা পেয়ে বাড়ির পেছনে নিয়ে ধর্ষণ করেন তিনি। বিষয়টি স্থানীয় দু’জন দেখে ফেললে তাদের ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টাও চালানো হয়।

 

 

পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে রোববার রাতে নন্দুরা বাজারের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান ও স্থানীয় জামায়াত নেতাসহ মাতব্বররা সালিশে বসেন। ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, রিপন মিয়া প্রকাশ্যে নিজের অপরাধ স্বীকার করে সবার কাছে মাফ চাচ্ছেন এবং ফজলুর রহমানের পায়ে ধরে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। সেখানে মাতব্বররা তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা পরিশোধের জন্য ৫ দিনের সময় বেঁধে দেন।

 

 

ধর্ষণের মতো সংবেদনশীল ও গুরুতর অপরাধ গ্রাম্য সালিশে আপস-মীমাংসার চেষ্টা নিয়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক মো. সোহাগ মিয়া প্রীতমসহ সামাজিক অ্যাক্টিভিস্টরা রাজনৈতিক কার্যালয়ে বসে আইনি বিচার প্রক্রিয়া ভণ্ডুল করার এ অপচেষ্টাকে ‘আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চরম বাজে নজির’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

 

 

এদিকে ভুক্তভোগীর দরিদ্র দিনমজুর বাবা জানান, তারা গরীব মানুষ হওয়ায় এলাকার গণ্যমান্যরা বিচারে বসেছিলেন। তবে তিনি এই জঘন্য অপরাধের সঠিক বিচার ও প্রশাসনের আইনি সহায়তা চান।

 

 

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “ধর্ষণ বা নারী নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধ সালিশে মীমাংসা করার আইনত কোনো সুযোগ নেই। যারা সালিশ ডেকে বিচার করার দুঃসাহস দেখিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে, সালিশে থাকা দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং অভিযুক্ত রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জে ৫ আগস্ট ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার

বিএনপি কার্যালয়ে ৫ লাখ জরিমানা, ওসি বললেন বেআইনি

কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, সালিশে গ্রামছাড়ার নির্দেশ

Update Time : ০৬:১৮:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়া

 

নেত্রকোনা সদর উপজেলায় ১৪ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সামাজিকযোগাযোগ মাধ্যমের পরিচিত মুখ ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর রিপন মিয়ার (রিপন ভিডিও) বিরুদ্ধে। তবে এই জঘন্য ফৌজদারি অপরাধের ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ধামাচাপা দিতে বিএনপি কার্যালয়ে গ্রাম্য সালিশ বসানোর চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। সেখানে রিপন মিয়াকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা এবং এলাকাছাড়া করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, আইনি প্রক্রিয়া এড়িয়ে এই বিচার নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও সুশীল সমাজে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পেশায় কাঠমিস্ত্রি হলেও বেশ কয়েক বছর ধরে ফেসবুক ও ইউটিউবে কমেডি কনটেন্ট বানিয়ে জনপ্রিয়তা পান দক্ষিণ বিশিউড়া গ্রামের রিপন মিয়া। অভিযোগ উঠে, গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রতিবেশী দিনমজুর দম্পতির কিশোরী মেয়েটিকে একা পেয়ে বাড়ির পেছনে নিয়ে ধর্ষণ করেন তিনি। বিষয়টি স্থানীয় দু’জন দেখে ফেললে তাদের ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ‘ম্যানেজ’ করার চেষ্টাও চালানো হয়।

 

 

পরবর্তীতে বিষয়টি জানাজানি হলে রোববার রাতে নন্দুরা বাজারের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি কার্যালয়ে দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ফজলুর রহমান ও স্থানীয় জামায়াত নেতাসহ মাতব্বররা সালিশে বসেন। ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, রিপন মিয়া প্রকাশ্যে নিজের অপরাধ স্বীকার করে সবার কাছে মাফ চাচ্ছেন এবং ফজলুর রহমানের পায়ে ধরে ক্ষমা প্রার্থনা করছেন। সেখানে মাতব্বররা তাকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা পরিশোধের জন্য ৫ দিনের সময় বেঁধে দেন।

 

 

ধর্ষণের মতো সংবেদনশীল ও গুরুতর অপরাধ গ্রাম্য সালিশে আপস-মীমাংসার চেষ্টা নিয়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক মো. সোহাগ মিয়া প্রীতমসহ সামাজিক অ্যাক্টিভিস্টরা রাজনৈতিক কার্যালয়ে বসে আইনি বিচার প্রক্রিয়া ভণ্ডুল করার এ অপচেষ্টাকে ‘আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার চরম বাজে নজির’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।

 

 

এদিকে ভুক্তভোগীর দরিদ্র দিনমজুর বাবা জানান, তারা গরীব মানুষ হওয়ায় এলাকার গণ্যমান্যরা বিচারে বসেছিলেন। তবে তিনি এই জঘন্য অপরাধের সঠিক বিচার ও প্রশাসনের আইনি সহায়তা চান।

 

 

নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের স্পষ্ট জানিয়ে দেন, “ধর্ষণ বা নারী নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধ সালিশে মীমাংসা করার আইনত কোনো সুযোগ নেই। যারা সালিশ ডেকে বিচার করার দুঃসাহস দেখিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধেও কড়া আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে, সালিশে থাকা দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং অভিযুক্ত রিপন মিয়াকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।