ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আদালতের নির্দেশনা অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে ‘আইনগত ব্যবস্থা’: তথ্য উপদেষ্টা

সংগৃহীত ছবি

 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য কিংবা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের ওপর আদালতের যে কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। আদালতের এ আদেশ অমান্য করে কেউ তার বক্তব্য প্রচার কিংবা আগাম সংবাদ পরিবেশন করলে কঠোর ‘আইনগত ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

 

 

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

 

 

ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রথমবার ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমের বরাতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখতে যাচ্ছেন—এমন খবরের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “এর আগেও গণমাধ্যমগুলোকে আদালতের আদেশের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা ও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার হলে তা সরাসরি আদালতের রায় অমান্য করার শামিল হবে। যারা এ ধরনের রায় অমান্য করবেন, সরকার তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। আদালতের রায় মেনে চলা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব।” তবে কেউ এই রায়ে সংক্ষুব্ধ হলে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে তা চ্যালেঞ্জ করতে পারেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

 

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে ওই বছরের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গণমাধ্যমে তার যেকোনো ধরনের বক্তব্য প্রচারে আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

 

 

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, “পলাতক শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকারের সাথে কূটনৈতিক পর্যায়ে চিঠি চালাচালি ও আলোচনা চলছে। যেহেতু দ্বিপাক্ষিক অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে, তাই তিনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে বাংলাদেশে ফেরামাত্রই গ্রেপ্তার হবেন। দেশে ফিরলে তিনি আইনগত অধিকার অনুযায়ী আইনজীবী নিয়োগ করে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন এবং আদালত যে রায় দেবেন সরকার তা মেনে নিতে প্রস্তুত।”

 

 

এ সময় বিগত ১৫ বছরের প্রশাসনিক জটলা, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের জামিন প্রসঙ্গ, তসলিমা নাসরিন এবং সাম্প্রতিক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে কথা বলেন উপদেষ্টা। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, বিদ্যুতের লোডশেডিং ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং দ্রুতই এর সমাধান মিলবে।

 

 

 

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জে ৫ আগস্ট ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার

আদালতের নির্দেশনা অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার করলে ‘আইনগত ব্যবস্থা’: তথ্য উপদেষ্টা

Update Time : ০৫:২৮:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত এবং ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য কিংবা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে প্রচারের ওপর আদালতের যে কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। আদালতের এ আদেশ অমান্য করে কেউ তার বক্তব্য প্রচার কিংবা আগাম সংবাদ পরিবেশন করলে কঠোর ‘আইনগত ব্যবস্থা’ নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

 

 

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

 

 

ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর প্রথমবার ভারতের একটি সংবাদমাধ্যমের বরাতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখতে যাচ্ছেন—এমন খবরের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, “এর আগেও গণমাধ্যমগুলোকে আদালতের আদেশের বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা ও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল। শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার হলে তা সরাসরি আদালতের রায় অমান্য করার শামিল হবে। যারা এ ধরনের রায় অমান্য করবেন, সরকার তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। আদালতের রায় মেনে চলা প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের সাংবিধানিক ও আইনি দায়িত্ব।” তবে কেউ এই রায়ে সংক্ষুব্ধ হলে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হয়ে তা চ্যালেঞ্জ করতে পারেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

 

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে ওই বছরের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গণমাধ্যমে তার যেকোনো ধরনের বক্তব্য প্রচারে আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

 

 

শেখ হাসিনার দেশে ফেরা সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, “পলাতক শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকারের সাথে কূটনৈতিক পর্যায়ে চিঠি চালাচালি ও আলোচনা চলছে। যেহেতু দ্বিপাক্ষিক অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তি রয়েছে, তাই তিনি মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিসেবে বাংলাদেশে ফেরামাত্রই গ্রেপ্তার হবেন। দেশে ফিরলে তিনি আইনগত অধিকার অনুযায়ী আইনজীবী নিয়োগ করে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাবেন এবং আদালত যে রায় দেবেন সরকার তা মেনে নিতে প্রস্তুত।”

 

 

এ সময় বিগত ১৫ বছরের প্রশাসনিক জটলা, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের জামিন প্রসঙ্গ, তসলিমা নাসরিন এবং সাম্প্রতিক জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে কথা বলেন উপদেষ্টা। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, বিদ্যুতের লোডশেডিং ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং দ্রুতই এর সমাধান মিলবে।