রমজান শেষ পর্যায়ে, আর কদিন পরেই খুশির ঈদ। নাড়ির টানে নাড়ির টানে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছে মানুষ। তবে তাড়াহুড়ো করে ঘর ছাড়ার আগে ছোটখাটো কিছু ভুল বড় বিপদের কারণ হতে পারে। দীর্ঘ ছুটিতে ঢাকা ছাড়ার আগে আপনার প্রিয় ঘরটি নিরাপদ রাখতে কিছু জরুরি প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। এক নজরে দেখে নিন নিশ্চিন্তে ছুটি কাটাতে যাওয়ার আগে কোন কাজগুলো সেরে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
অগ্নিঝুঁকি এড়াতে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ
বাসা ছাড়ার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো রান্নাঘরের গ্যাসের চুলা ও সিলিন্ডারের রেগুলেটর ভালোভাবে বন্ধ করা। সামান্য অসাবধানতায় বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। এছাড়া অপ্রয়োজনীয় সব লাইট, ফ্যান ও এসি বন্ধ করার পাশাপাশি টিভি, মাইক্রোওয়েভ ও চার্জারের প্লাগ সকেট থেকে খুলে রাখা নিরাপদ। এতে শট-সার্কিট হওয়ার ঝুঁকি থাকে না এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়।
পানির ট্যাপ ও প্লাাম্বিং পরীক্ষা
বাসার প্রতিটি পানির ট্যাপ ভালো করে আটকে দেওয়া হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হোন। সম্ভব হলে পানির মেইন সুইচ বা চাবিটি বন্ধ করে যান। এতে পানির অপচয় রোধ হবে এবং হঠাৎ পাইপ ফেটে ঘর ভিজে যাওয়ার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঝামেলা এড়ানো যাবে।
নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ:
দরজা ও জানালাযাওয়ার আগে শুধু সদর দরজায় তালা দিলেই হবে না, ঘরের প্রতিটি জানালা ও বারান্দার গ্রিল সঠিক উপায়ে লাগানো হয়েছে কি না তা পুনরায় পরীক্ষা করুন। এটি চুরির ভয় যেমন কমাবে, তেমনি কালবৈশাখী ঝড়ে বৃষ্টির পানি ঢুকে আসবাবপত্র নষ্ট হওয়া থেকে রক্ষা করবে। টাকা, গয়না বা দরকারি কাগজপত্র আলমারিতে তালাবদ্ধ রাখুন অথবা নিরাপদ কোনো লকারে সরিয়ে নিন।
ফ্রিজ ও পচনশীল খাবার
বেশিদিন ফ্রিজে থাকলে নষ্ট হতে পারে এমন খাবার আগেভাগেই সরিয়ে ফেলুন। দীর্ঘদিনের ছুটি হলে পচা খাবারের দুর্গন্ধে পুরো ঘর ভরে যেতে পারে। এক্ষেত্রে ফ্রিজ পরিষ্কার করে বন্ধ রাখাই হবে সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত। এছাড়া ইনডোর প্ল্যান্ট বা গাছের গোড়ায় পর্যাপ্ত পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করে যেতে পারেন।
প্রতিবেশী ও নিরাপত্তা রক্ষীকে জানানো
যাওয়ার আগে আপনার বাসার দারোয়ান বা বিশ্বস্ত প্রতিবেশীকে জানিয়ে যান যে আপনি কতদিনের জন্য বাইরে থাকছেন। এতে তারা আপনার বাসার ওপর বিশেষ নজর রাখতে পারবে। এই ছোট ছোট কিছু সচেতনতা আপনার ঈদযাত্রাকে করবে আনন্দময় এবং ঘরে ফেরার পর পাবেন একদম পরিপাটি ও নিরাপদ একটি আবাস।






















