ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
পাল্টা আক্রমণে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা; শঙ্কায় বিশ্ববাসী

ইসরায়েলে ইরানের মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: কাঁপছে তেল আবিব

সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও ছায়াযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে এবার সরাসরি ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে ইরান। শনিবার (১৪ মার্চ) রাতে শুরু হওয়া এই নজিরবিহীন হামলায় ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবসহ দেশটির বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এবং ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো এই সংঘাতের ভয়াবহতা নিশ্চিত করেছে।

 

ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের নতুন একটি ‘ওয়েভ’ বা ধাপ তাদের রাডারে শনাক্ত করা হয়েছে। মাত্র আধা ঘণ্টার ব্যবধানে দেওয়া দুটি পৃথক বিবৃতিতে আইডিএফ নিশ্চিত করেছে যে, ইরান থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের দিকে ধেয়ে আসছে। এই হামলার পরপরই ইসরায়েলজুড়ে উচ্চ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইডিএফ-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে, তবে হামলার ব্যাপকতা আকাশসীমার নিরাপত্তাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

 

অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ও তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি ইরানের ‘পাল্টা হামলার’ একটি নতুন ও শক্তিশালী ধাপ। ইরানের দাবি অনুযায়ী, তাদের এই আক্রমণ সুনির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আঘাত হানছে। তেল আবিবে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দে গোটা শহর প্রকম্পিত হচ্ছে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও চিত্রেও দৃশ্যমান হয়েছে। তবে এই হামলায় এখন পর্যন্ত কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

 

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে এই সরাসরি সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান বিভিন্ন কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই এমন পরিস্থিতির আশঙ্কা করা হচ্ছিল। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো এই পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে। এই হামলা যদি আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতি বিশেষ করে তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

পাল্টা আক্রমণে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা; শঙ্কায় বিশ্ববাসী

ইসরায়েলে ইরানের মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: কাঁপছে তেল আবিব

Update Time : ০৮:৪১:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন বারুদের গন্ধে ভারী। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও ছায়াযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে এবার সরাসরি ইসরায়েলি ভূখণ্ড লক্ষ্য করে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে ইরান। শনিবার (১৪ মার্চ) রাতে শুরু হওয়া এই নজিরবিহীন হামলায় ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিবসহ দেশটির বিভিন্ন কৌশলগত স্থানে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এবং ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলো এই সংঘাতের ভয়াবহতা নিশ্চিত করেছে।

 

ইসরায়েল প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের নতুন একটি ‘ওয়েভ’ বা ধাপ তাদের রাডারে শনাক্ত করা হয়েছে। মাত্র আধা ঘণ্টার ব্যবধানে দেওয়া দুটি পৃথক বিবৃতিতে আইডিএফ নিশ্চিত করেছে যে, ইরান থেকে ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের দিকে ধেয়ে আসছে। এই হামলার পরপরই ইসরায়েলজুড়ে উচ্চ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আইডিএফ-এর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে, তবে হামলার ব্যাপকতা আকাশসীমার নিরাপত্তাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

 

অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম ও তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি ইরানের ‘পাল্টা হামলার’ একটি নতুন ও শক্তিশালী ধাপ। ইরানের দাবি অনুযায়ী, তাদের এই আক্রমণ সুনির্দিষ্ট সামরিক লক্ষ্যবস্তুগুলোতে আঘাত হানছে। তেল আবিবে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দে গোটা শহর প্রকম্পিত হচ্ছে, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও চিত্রেও দৃশ্যমান হয়েছে। তবে এই হামলায় এখন পর্যন্ত কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, সে বিষয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

 

আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে এই সরাসরি সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনিয়ন্ত্রিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান বিভিন্ন কূটনৈতিক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর থেকেই এমন পরিস্থিতির আশঙ্কা করা হচ্ছিল। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র দেশগুলো এই পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখছে। এই হামলা যদি আরও দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে বিশ্ব অর্থনীতি বিশেষ করে তেলের বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।