ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬, ৫ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২২৩ আসনের প্রাথমিক ফলে বিএনপি জোটের জয়জয়কার; ১৫৬ আসনে বিজয়ী

একক সংখাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পথে বিএনপি

দীর্ঘ দেড় বছর পর অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল আসতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত পর্যন্ত ঘোষিত ২২৩টি আসনের বেসরকারি ফলাফলে বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তাদের জোটের প্রার্থীরা। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, বিএনপি জোট ১৫৬টি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠনের পথে অনেকটা এগিয়ে গেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ৬০টি আসনে জয় পেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বাকি ৭টি আসনে অন্যান্য দলের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।

 

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। দিনের শুরুতে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের তরুণ ভোটাররা অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে ব্যালটের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে অংশ নিয়েছেন। ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রে কেন্দ্রে গণনা শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজধানীসহ জেলা শহরগুলোতে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ফলাফল ঘোষণা করতে থাকেন।

 

এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নানা কারণে বৈচিত্র্যময় ও রেকর্ড সৃষ্টিকারী। ২০০৮ সালে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরুর পর এবারই সর্বোচ্চ ৫০টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। ২ হাজার ২৯ জন প্রার্থীর এই বিশাল প্রতিযোগিতায় ১ হাজার ৭৫৫ জন দলীয় এবং ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে লড়েছেন। এবারের নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮০ জন এবং সব মিলিয়ে ১১৯টি নির্বাচনি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, যা পুরো নির্বাচনী পরিবেশকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও উৎসবমুখর করে তুলেছে।

 

বর্তমানে বাকি ৭৬টি আসনের ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে ফলাফল প্রচার করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের নজর এখন পূর্ণাঙ্গ ফলাফলের দিকেকারা শেষ পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে নতুন সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হওয়া এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে এক নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রার সূচনা হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

২২৩ আসনের প্রাথমিক ফলে বিএনপি জোটের জয়জয়কার; ১৫৬ আসনে বিজয়ী

একক সংখাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পথে বিএনপি

Update Time : ০২:৪৬:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দীর্ঘ দেড় বছর পর অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল আসতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত পর্যন্ত ঘোষিত ২২৩টি আসনের বেসরকারি ফলাফলে বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও তাদের জোটের প্রার্থীরা। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যানুযায়ী, বিএনপি জোট ১৫৬টি আসনে জয়লাভ করে সরকার গঠনের পথে অনেকটা এগিয়ে গেছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট ৬০টি আসনে জয় পেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বাকি ৭টি আসনে অন্যান্য দলের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন।

 

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ৪২ হাজার ৭৭৯টি কেন্দ্রে একযোগে ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা চলে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত। দিনের শুরুতে ভোটার উপস্থিতি কিছুটা কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের তরুণ ভোটাররা অত্যন্ত স্বতঃস্ফূর্তভাবে ব্যালটের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে অংশ নিয়েছেন। ভোটগ্রহণ শেষে কেন্দ্রে কেন্দ্রে গণনা শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজধানীসহ জেলা শহরগুলোতে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ফলাফল ঘোষণা করতে থাকেন।

 

এবারের নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নানা কারণে বৈচিত্র্যময় ও রেকর্ড সৃষ্টিকারী। ২০০৮ সালে নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরুর পর এবারই সর্বোচ্চ ৫০টি রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। ২ হাজার ২৯ জন প্রার্থীর এই বিশাল প্রতিযোগিতায় ১ হাজার ৭৫৫ জন দলীয় এবং ২৭৪ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে লড়েছেন। এবারের নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ৮০ জন এবং সব মিলিয়ে ১১৯টি নির্বাচনি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, যা পুরো নির্বাচনী পরিবেশকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও উৎসবমুখর করে তুলেছে।

 

বর্তমানে বাকি ৭৬টি আসনের ফলাফল ঘোষণার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে ফলাফল প্রচার করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষের নজর এখন পূর্ণাঙ্গ ফলাফলের দিকেকারা শেষ পর্যন্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে নতুন সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হওয়া এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে এক নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রার সূচনা হতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।