সংগৃহীত ছবি
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের রেমিট্যান্স বা প্রবাস আয়ে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। চলতি মার্চ মাসের প্রথম ৯ দিনেই দেশে এসেছে ১৫২ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় এক বিশাল অংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে প্রায় ১৬ কোটি ৯৬ লাখ ডলার।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রেমিট্যান্সের এই আশাপ্রদ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার প্রবাস আয়ের গতি অনেক বেশি। ২০২৫ সালের মার্চের প্রথম ৯ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১০১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় এ বছর একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে ব্যাপক প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট ২ হাজার ৩৯৮ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবৃদ্ধি ২২ দশমিক ৯০ শতাংশ। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে ৩০২ কোটি ডলার এবং জানুয়ারি মাসে ৩১৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ প্রবাস আয়।
ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সামনে ঈদ থাকায় প্রবাসীরা তাদের পরিবার ও স্বজনদের কেনাকাটা ও উৎসবের খরচ মেটাতে বেশি পরিমাণে টাকা পাঠাচ্ছেন। এছাড়া ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকা এবং বৈধ পথে টাকা পাঠানোর সুবিধা বাড়ায় হুন্ডির পরিবর্তে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা বেড়েছে। তবে আর্থিক খাতের বিশ্লেষকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে ভবিষ্যতে রেমিট্যান্স প্রবাহে কিছুটা নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর যখন চাপ তৈরি হচ্ছিল, তখন রেমিট্যান্সের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেশের অর্থনীতির জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আশা করছে, মার্চের বাকি দিনগুলোতে রেমিট্যান্স আসার এই গতি বজায় থাকলে মাস শেষে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হতে পারে।






















