অবশেষে অপেক্ষার প্রহর শেষ হলো। আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে সাতটা থেকে সারা দেশে একযোগে শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। ভোরের আলো ফোটার আগেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ভোটকেন্দ্রগুলোর সামনে সাধারণ মানুষের ভিড় জমতে শুরু করে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেই ভিড় দীর্ঘ সারিতে পরিণত হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি বিভাগীয় ও জেলা শহর থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অত্যন্ত উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বিঘ্নেই চলছে ভোটদান প্রক্রিয়া।
এবারের নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে নজিরবিহীন স্বতঃস্ফূর্ততা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের দীর্ঘ সারি এবং নারী ও প্রবীণদের কেন্দ্রে আসার দৃশ্যটি নতুন বাংলাদেশের এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক ভোটারকেই দেখা গেছে পরিবার ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়ে হাসি–মুখে ভোটকেন্দ্রে আসতে। প্রযুক্তিনির্ভর স্বচ্ছতা ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর ভরসা পেয়ে মানুষ নির্ভয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করছেন। কেন্দ্রগুলোতে পোলিং এজেন্টদের উপস্থিতি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর তৎপরতা ভোটারদের মনে বাড়তি স্বস্তি জুগিয়েছে।
আজকের এই বহুল প্রতীক্ষিত মহাযজ্ঞে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ নিবন্ধিত ৫০টি রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করছে। ২৯৯টি সংসদীয় আসনে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের হয়ে লড়ছেন ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে আছেন ২৭৩ জন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘ সময় পর একটি অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ তাদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পেয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। সারা দেশে ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকায় এখন পর্যন্ত কোথাও কোনো বড় ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। ডিজিটালাইজড নজরদারি এবং ড্রোনের মাধ্যমে স্পর্শকাতর এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে আজকের ভোট উৎসব বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় এক অবিস্মরণীয় মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হতে যাচ্ছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা 
























