সংগৃহীত ছবি
বিয়ের আগে বর-কনের সাজগোজ, পোশাকআশাক ও নানাবিধ আনুষ্ঠানিকতার আয়োজনে হাজার হাজার টাকা খরচ করা অত্যন্ত স্বাভাবিক ঘটনা। তবে বিয়ের মূল প্রস্তুতির সময় অনেকেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়ে চরম উদাসীনতা দেখান—আর তা হলো বর-কনের শারীরিক ও বংশগত স্বাস্থ্য পরীক্ষা।
সুখী দাম্পত্য জীবন গড়ে তোলা এবং সুস্থ-সবল পরবর্তী প্রজন্ম নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিয়ের আগের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এক অপরিহার্য ধাপ হলেও আমাদের সমাজে একটি বড় অংশের মানুষের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র অনীহা লক্ষ্য করা যায়।
চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, থ্যালাসেমিয়া, সিকল সেল অ্যানিমিয়া, বর্ণান্ধতা এবং এরিথ্রোব্লাস্টোসিস ফেটালিসের মতো জটিল শারীরিক ব্যাধি মূলত এক প্রজন্ম থেকে অন্য প্রজন্মে বংশানুক্রমিকভাবে সঞ্চারিত হয়। বিয়ের আগে বর ও কনে উভয়ের রক্তের এইচবি ইলেকট্রোফোরেসিস (Hb Electrophoresis) পরীক্ষা করিয়ে নিলে এ ধরনের জিনগত রোগের উপস্থিতি আগেভাগেই নির্ণয় করা সম্ভব হয়। এছাড়া থাইরয়েড, ডায়াবেটিস এবং কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (CBC) পরীক্ষার মাধ্যমে শরীরে থাকা যেকোনো বড় ধরণের লুকায়িত রোগের পূর্বসংকেত পাওয়া যায়, যা সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণে সহায়তা করে।
চিকিৎসকরা আরও জানান, যৌনবাহিত সংক্রামক ব্যাধি যেমন—এইচআইভি, হেপাটাইটিস বি ও সি, গনোরিয়া ও সিফিলিসের মতো রোগের উপস্থিতি বিবাহিত জীবনে গুরুতর মানসিক ও শারীরিক সংকট তৈরি করতে পারে। বিয়ের আগে স্ক্রিনিং করা থাকলে দ্রুত প্রতিষেধক ব্যবস্থা গ্রহণ করা সহজ হয়। অন্যদিকে, আধুনিক মানসিক চাপ ও অনিয়মিত জীবনযাত্রার কারণে পুরুষ ও নারী উভয়ের মাঝেই বাড়ছে ইনফার্টিলিটি বা বন্ধ্যাত্বের সমস্যা।
তাই আগে থেকেই প্রজনন ক্ষমতা সংক্রান্ত পরীক্ষা বা ফার্টিলিটি টেস্ট করিয়ে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। পাশাপাশি রক্তে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা ও হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষা করে নিলে অস্টিওপোরোসিসের মতো শারীরিক সমস্যাগুলোও আগেভাগেই সমাধান করা সম্ভব হয়। সামান্য কিছু সতর্কতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ভবিষ্যতের জটিল সামাজিক ও মানসিক শূন্যতা থেকে একটি নতুন পরিবারকে রক্ষা করতে পারে।

















